কে এই মীর কাসেম

উদিসা ইসলাম
০৮ মার্চ ২০১৬, ০৯:৫৬আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৬, ১০:০০

মীর কাসেম

একাত্তরে মীর কাসেম আলী পরিচিত  ছিলেন ‘বাঙালি খান,’ বদর বাহিনীর অন্যতম অধিনায়ক,চট্টগ্রাম গণহত্যার নায়ক হিসেবে। পরবর্তীতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মীর কাসেম পরিচিতি পান মূলত জামায়াতে ইসলামীর অর্থের যোগানদাতা হিসেবে। জামায়াতে ইসলামীকে শক্তিশালী আর্থিকভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে তিনি ১৯৭৭ সাল থেকে কাজ করে আসছেন। এমনকি ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন হওয়ার পর সবচে’ বেশি টাকা লগ্নি করে লবিস্ট নিয়োগও দিয়েছেন এই অপরাধীই।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর জিয়াউর রহমানের আমলে জামায়াতের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর তিনি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাও পেয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন চট্টগ্রামের ত্রাস কাসেম আলী রাজনৈতিক ও আর্থিক ক্ষেত্রে অসাধারণ ধূর্ততার স্বাক্ষর রেখে দ্রুত নিজের উন্নতি ঘটিয়েছেন।

মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর উপজেলার চালা গ্রামের তৈয়ব আলীর দ্বিতীয় ছেলে মীর কাসেম আলীর জন্ম ১৯৫২ সালে। বাবা তৈয়ব আলী ছিলেন চট্টগ্রাম টেলিগ্রাফ অফিসের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী,নগরীর রহমতগঞ্জ এলাকার সিঅ্যান্ডবি কলোনিতে ছিল বাসা। চট্টগ্রামের মানুষ তাকে চিনতো মিন্টু নামে।

একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী সারাদেশে বাঙালি নিধন শুরু করলে স্বাধীনতার লড়াইয়ে অস্ত্র হাতে নেয় এ দেশের মানুষ। ওই বছর ৬ নভেম্বর পর্যন্ত কাসেম চট্টগ্রাম শহর শাখা ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন এবং সেই সূত্রে ছিলেন চট্টগ্রামে আল-বদর বাহিনীর নেতা।

৭ নভেম্বর দলে পদোন্নতি পেয়ে তিনি পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের প্রাদেশিক কার্যকরী পরিষদের সদস্য এবং পূর্ব পাকিস্তান ইসলামী ছাত্রসংঘের সাধারণ সম্পাদক হন। সে সময় সংগঠনের সভাপতি ছিলেন যুদ্ধাপরাধী আরেক জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ।

মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে রাজাকার আল-বদর ও আল-শামস বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডার হিসেবে মীর কাসেম চট্টগ্রাম অঞ্চলে সরাসরি মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত হন। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পর তিনি আত্মগোপনে যান। স্বাধীন বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হয় ছাত্রসংঘ ও জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি।

নির্যাতনকেন্দ্র ডালিম হোটেল

১৯৮৩ সালে এরশাদ সরকারের আমলে মীর কাসেমের প্রাতিষ্ঠানিক উত্থান হয় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড (আইবিবিএল) গঠনের মাধ্যমে। ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান তিনি। ব্যাংক গঠনের পর চিকিৎসাসেবা,পরিবহন,টেলিযোগাযোগ,গণমাধ্যম ও শিক্ষা সব খাতেই বিচরণ ঘটে তার এবং এসব কাজে সব সরকার থেকেই পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছেন তিনি।’

দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনেরও প্রধান স্বপ্নদ্রষ্টা মীর কাসেম। দৈনিক নয়া দিগন্ত এই করপোরেশনের পত্রিকা। এছাড়া ছিল দিগন্ত টিভি চ্যানেল। ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে হেফাজতে ইসলামের নাশকতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে চ্যানেলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। মীর কাসেম দিগন্ত রেডিও এবং ইংরেজি দৈনিক এশিয়া পোস্ট নামে বের করার জন্য নিবন্ধন নিলেও শেষ পর্যন্ত এগুলো চালু হয়নি। দিগন্ত পেপার মিলের পরিচালক তিনি। নামের আগে ‘কেয়ারী’ রয়েছে-এ রকম ১০টি কোম্পানির পরিচালক মীর কাসেম আলী। কেয়ারীর প্রধান কার্যালয় রাজধানীর ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডে কেয়ারী প্লাজায়।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী,মীর কাসেমের নির্দেশে চট্টগ্রামের টেলিগ্রাফ অফিসের লাগোয়া ডালিম হোটেলে রাজাকার বাহিনীর বন্দিশিবির খোলা হয়েছিল। বিজয়ের একদিন পর ১৭ ডিসেম্বর ডালিম হোটেল থেকে ৩৫০ জন বন্দীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বুদ্ধিজীবী হত্যার তালিকা প্রণয়নকারীদের অন্যতম নায়ক ছিলেন মীর কাসেম।
২০১৩ সালের ২৮ এপ্রিল জাতীয় সংসদে তৎকালীন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন,মীর কাসেম আলী মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজ প্রশ্নবিদ্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি লবিস্ট প্রতিষ্ঠানকে দুই কোটি ৫০ লাখ ডলার দিয়েছেন। লবিস্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জামায়াতের চুক্তির কপি এবং টাকা  দেওয়ার রসিদ রয়েছে সরকারের কাছে।

মীর কাসেম উচ্চমূল্যে টবি ক্যাডম্যানের সঙ্গে চুক্তি করে দেশি-বিদেশি মহলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

/এমএসএম/

আপ-এসটি

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম