‘আজ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে খুব মনে পড়ছে। তিনি বন্যা ও অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলার অনুপ্রেরণা ছিলেন। সবাইকে নিয়ে কাজ করা তার কাছ থেকে আমরা শিখেছি। জাফর ভাই থাকলে খুব ভালো হতো।’ লিখেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। দেশের এই গবেষক, আন্দোলনকর্মী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে এভাবে প্রয়াত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে স্মরণ করেন।
ফরিদা আখতার শনিবার (২৪ আগস্ট) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় বন্যা আক্রান্তদের সরেজমিনে দেখে এসে রবিবার (২৫ আগস্ট) রাত ১২টার দিকে নিজের ফেসবুক ওয়ালে লিখেন, ‘আজ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় গিয়েছিলাম বন্যায় আক্রান্ত মানুষদের দেখতে এবং তাদের অবস্থা বুঝতে। একটি আশ্রয় কেন্দ্রে বেশ কিছু গরিব পরিবার এসে আশ্রয় নিয়েছে দুই-তিনদিন আগে। কিন্তু দেখলাম তারা নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে পেরেও চোখ অশ্রুসজল।’
তিনি লিখেন, ‘একটু কথা বলেই বুঝলাম ঘর ছেড়ে আসার সময় গরু-ছাগল হাঁস-মুরগি সঙ্গে আনতে পারেননি। তাদের ধারণা, এবং সেটাই সঠিক, এই গরু ছাগল আর বেঁচে নেই, কিংবা ভেসে কোথাও চলে গেছে। মহিলারা এক কাপড়ে চলে আসছেন, ভেজা কাপড়েই আছেন দুইদিন ধরে। যারা ত্রাণ দিচ্ছেন কাপড় দেওয়ার ব্যবস্থাও দ্রুত করতে হবে।’
‘কষ্ট আর কষ্ট। আর ক্ষোভ। কেন হঠাৎ এই পানি তুমুল গতিতে এসে সব ভাসিয়ে নিলো। তাও আবার শেষ রাতে। কোনও কিছু সরাবার সময় তারা পায়নি। কেন তাদের আগে জানায়নি ভারত। এই ক্ষোভ দেখেছি গ্রামের মানুষের মধ্যে।’
ফরিদা আখতার উল্লেখ করেন, ‘কিন্তু তার মধ্যেও আশার আলো দেখেছি। তরুণরা ঝাঁপিয়ে পড়েছেন ত্রাণ দেওয়ার জন্য। তারা ঢাকা থেকে গেছেন, স্থানীয় তরুণরা একসঙ্গে কাজ করছেন। তাদের ঘুম নেই, খাওয়ার ঠিক নেই।’
‘ত্রাণসামগ্রী যথেষ্ট আছে কিন্তু নৌকা নেই যে দূরের গ্রামে গিয়ে দিয়ে আসবেন। তারা নৌকা বা বোট চায়। নিজেরা লাইফ জ্যাকেট কিনে নিয়ে গেছেন। সাঁতার কেটেও অনেকে খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। এসব দেখে অনেক শান্তি পেলাম।’
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার তার লেখার শেষ দিকে উল্লেখ করেন, ‘নতুন বাংলাদেশে নতুনভাবে দুর্যোগ মোকাবিলা। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছে। খুব ভালো লেগেছে তাদের দেখে, কথা বলে।’









