ভোটে নিজেদের কর্তৃত্ব বাড়ানোসহ একগুচ্ছ সংশোধনী এনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ এর খসড়া চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পাশাপাশি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন থেকে প্রাপ্ত এ সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো পাওয়ার পর তা আরপিওতে যুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
সোমবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশন সভা শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, আজকের নবম কমিশন সভা কনটিনিউ হয়েছে। প্রথমে বিভিন্ন আরপিও সংশোধনী আলোচনা করা হয়েছে— যা কমিশন আজকে অনুমোদন করেছে। যেমন- আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ডেফিনেশনে সেনা, নৌ এবং বিমান বাহিনীসহ বাংলাদেশ কোস্টগার্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ইভিএম এর ব্যবহার হবে না বলে এর সব প্রভিশন বিলুপ্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহেলা সংক্রান্ত শাস্তি স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ফলাফল কমিশনকে জানাতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পার্সোনাল ডোশিয়ারে (ব্যক্তিগত দলিলপত্র) রাখা হবে।
আরপিও সংশোধনী ড্রাফট আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ে প্রেরণের বিষয়ে তিনি বলেন, শিগগিরই ফাইনাল করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংশোধনী পরবর্তী সময়ে উপস্থাপন করা হবে। ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংশোধনী পরবর্তী সময়ে উপস্থাপন করা হবে।
নির্বাচনি প্রচারণা নিয়ন্ত্রণ ও এআই ব্যবহার নিয়ে ইসি কমিশিনার বলেন, শুধুমাত্র যেগুলো ডিজিটাল বিলবোর্ড সেগুলোতে আলোর ব্যবহার করা যাবে, বিদ্যুতের ব্যবহার করা যাবে। তাছাড়া আলোকসজ্জার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দেখা ছিল, সেটা বলবৎ থাকবে।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইত্যাদি ব্যবহার করে যেকোনও ধরনের মিথ্যাচার বা অপবাদ ছড়ানো ইত্যাদি ব্যাপারে প্রার্থী, দল, সংস্থা, মিডিয়া সংস্থা সবার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রভিশন করা হয়েছে।
জোটবদ্ধ দল ও প্রতীক বিষয়ক সংশোধনী নিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আরপিওতে দুইটি বিষয় আছে। প্রথম, জোটবদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলো বড় দলের সঙ্গে ছোট দলগুলো জোট করে, সেই ছোট দল বড় দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, তাদের নিজস্ব প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে। এটি আরপিওতে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, জোটগত নির্বাচন থেকে কাউকে নিরুৎসাহিত করা হয় না। এটা রাজনৈতিক স্বাধীনতা। যারা এককভাবে দলীয়ভাবে নির্বাচন করবে, কিংবা জোটবদ্ধভাবে করবে, সেই স্বাধীনতা রক্ষা পাবে। সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব অনুসারে জোটবদ্ধ হলেও দলগুলো তাদের নিজস্ব রিজার্ভ প্রতীক ব্যবহার করবে, কোনও একটি প্রতীকের ব্যবহার বাধ্যতামূলক নয়।
নির্বাচনি ব্যয় ও অনুদানের নিয়মাবলি নিয়ে তিনি বলেন, প্রার্থীদের যে ব্যয়, এই ব্যয়ের অডিটের ব্যাপারটাকে আরও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং আরেকটু একনিষ্ঠভাবে দেখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যেগুলো মনে করে যে— এগুলোতে ব্যয় হয়ে থাকতে পারে, সেগুলোকেই অডিট করবে।
তিনি আরও বলেন, ইতোপূর্বে রাজনৈতিক দলগুলো ব্যক্তি পর্যায় থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান বা ডোনেশন নিতে পারতো। এটাকে ৫০ লাখ করা হয়েছে উভয় ক্ষেত্রেই। তবে শর্ত দেওয়া হয়েছে, যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এই ট্রানজেকশনটা হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যাক্স রিটার্নে এটা দেখাতে হবে।
আরপিওতে দলের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়টি থাকলেও ছিল না স্থগিয়ের বিধান। সংশোধিত আরপিওতে নিবন্ধিত দলের কার্যক্রম স্থগিত এবং বাতিলের বিষয়টি স্পস্ট করা হয়েছে জানিয়ে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম স্থগিত হলে বা নিষিদ্ধ হলে নিবন্ধন স্থগিত করার ব্যাপারটি স্পষ্ট করে আরপিওতে যুক্ত করা হয়েছে।









