বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারবিষয়ক কয়েকটি সংগঠন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, নতুন সরকারের সামনে দেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় রচনার সুযোগ রয়েছে এবং এখন নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো আগামী বছরগুলোতে মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মানবাধিকার সুরক্ষায় কিছু প্রতিশ্রুতি ও উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হলেও সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে গুমের ঘটনাগুলোর তদন্ত, বিচার এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সরকারের অঙ্গীকারকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংগঠনগুলোর দাবি, এখনও অন্তত ২৮৭ জন নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবার তাদের স্বজনদের ভাগ্য সম্পর্কে জানতে অপেক্ষা করছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়, সাবেক হাসিনা সরকারের সময়ের অনেক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা কমলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও ইচ্ছামতো গ্রেপ্তারের মতো কিছু সমস্যা এখনো রয়ে গেছে।
সংগঠনগুলো জানায়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় কিছুটা অগ্রগতি দেখা গেলেও সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের গ্রেপ্তার এবং হামলার ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি। পাশাপাশি গণপিটুনি বা জনতার সহিংসতার ঘটনাও আইনের শাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
চিঠিতে নারী ও মেয়েদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর চাপের মধ্যেও নারীদের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। পাশাপাশি চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতন ও সহিংসতার অভিযোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এছাড়া কক্সবাজার ও ভাসানচরে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানানো হয়। সংগঠনগুলোর মতে, এসব শরণার্থী এখনও পর্যাপ্ত জীবিকা, শিক্ষা ও মানবিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহায়তাও ধীরে ধীরে কমে আসছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, নতুন সরকার দায়িত্ব নিচ্ছে এমন এক সময়ে যখন বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক চাপ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানবাধিকার সংকট ক্রমেই বাড়ছে। তাই দেশের ভেতরে মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
চিঠির শেষে বলা হয়, মানবাধিকার রক্ষা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে তা দেশের সব মানুষের অধিকার সুরক্ষায় সহায়ক হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছে সংগঠনগুলো।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, আর্টিকেল ১৯, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, সিভিকাস, এফআইডিএইচ, ফোর্টিফাই রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, রবার্ট এন্ড ইথেল কেনেডি হিউম্যান রাইটস সেন্টার এবং টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটসহ মোট ৯টি আন্তর্জাতিক সংগঠন।









