ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিন ছিল বুধবার (১৫ এপ্রিল)। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
এদিন সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন ও জাতীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনা হলেও মাঝেমধ্যে উঠে আসে নানা ছোট ঘটনা, মন্তব্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত—যেগুলো আলাদাভাবে নজর কাড়ে। কখনও তা তৈরি করে বিতর্ক, কখনও বা হাস্যরস। থাকছে এমনই কিছু টুকিটাকি ঘটনা—
বিরোধী দল ‘কানকথা’ নির্ভর
নিজের বক্তব্যে জুলাই সনদ প্রসঙ্গে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন বলেন, পাশ্চাত্য শাসনব্যবস্থা পদ্ধতিনির্ভর, আর আমাদের শাসনব্যবস্থা অনেকটাই ‘কানকথা’ নির্ভর। তার অভিযোগ, বিরোধী দলের সদস্যরা বিভিন্ন সময় কানকথার ভিত্তিতে কথা বলেন, ফিসফিস করেন, কখনও ওয়াকআউট করেন, কখনও তর্কে জড়ান।
তিনি সবাইকে বাস্তবতায় ফিরে এসে মানুষের সমস্যার সমাধানে কাজ করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে অতীতের আন্দোলন-সংগ্রাম প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে এসে কেউ কেউ যুক্ত হয়েছেন, যা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
‘মন্ত্রী-টন্ত্রী’ বলায় শব্দ এক্সপাঞ্জ
নিজ এলাকার সমস্যা তুলে ধরতে গিয়ে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন বলেন, তার এলাকা থেকে অতীতে কোনও দলেরই ‘মন্ত্রী-টন্ত্রী’ হয়নি।
এ নিয়ে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ‘টন্ত্রী’ শব্দটি কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানান। পরে স্পিকার শব্দটি এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশ দেন।
রাস্তা ‘ভিক্ষা’ চাইলেন এমপি
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ তার এলাকার সড়ক সমস্যার কথা তুলে ধরে বলেন, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের একটি অংশ মাত্র ১৮ ফুট প্রশস্ত, যা প্রতিদিন দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে।
তিনি জানান, এ সড়কে চলাচলকারী প্রায় ১০ লাখ মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং চলতি মাসেই প্রাণ গেছে ২৩ জনের। দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি এই সংসদের কাছে ভিক্ষা চাই—এই রাস্তা প্রশস্ত করার জন্য ব্যবস্থা নিন।”
মোবাইলে কথা, মাঝপথে চলাচল—সতর্কতা
অধিবেশন চলাকালে সংসদ সদস্যদের মোবাইল ফোনে কথা বলা এবং স্পিকারের সঙ্গে কথোপকথনের সময় মাঝখান দিয়ে চলাচলের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
তিনি বলেন, অনেক সদস্য মোবাইলে কথা বলছেন, যার শব্দ সভাকক্ষে শোনা যাচ্ছে এবং এতে বক্তব্যে বিঘ্ন ঘটছে।
পরে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম সদস্যদের সতর্ক করে বলেন, সংসদের ভেতরে মোবাইলে কথা না বলতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। স্পিকারের সঙ্গে কেউ কথা বলার সময় মাঝখান দিয়ে চলাচল না করারও নির্দেশনা দেন তিনি।
এর আগে গত ১০ এপ্রিল একই ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহকে সতর্ক করেছিলেন স্পিকার।









