‘এত বজ্রপাত সুনামগঞ্জে জানলে তো বিয়েই করতাম না’
সুনামগঞ্জের বজ্রপাতের অবস্থা ও ভয়াবহতার কথা শুনে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘এত বজ্রপাত সুনামগঞ্জে হয়, জানলে তো বিয়েই করতাম না ওখানে।’ তার এমন কথায় সংসদে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।
এর আগে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২২তম দিন সোমবার (২৭ এপ্রিল) বজ্রপাত নিয়ে সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল তার বক্তব্যে বলেন, “মাননীয় স্পিকার, আমার নির্বাচনি আসনে চারটি উপজেলা হাওড় বেষ্টিত। কৃষি ও মৎস্য আহরণের নিমিত্তে সারা বছর এই এলাকার কৃষক ও মৎস্যজীবীদের হাওড়ে কাজ করতে হয়। কিন্তু, গ্রীষ্ম ও বর্ষায় হাওড়ে কাজ করতে গিয়ে আকস্মিক বজ্রাঘাতে অনেকেরই প্রাণহানি ঘটে। অতি সম্প্রতি দেশে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, তার মধ্যে আমার আসনেই চারজন। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা নাসার মতে, সুনামগঞ্জ হাওড় অঞ্চলে বজ্রপাতের ঘনত্ব অনেক বেশি। এখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ২৫টির বেশি বজ্রপাত সংঘটিত হয়।”
তার বক্তব্যের জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “বাংলাদেশ পৃথিবীর ৯টি দুর্যোগপ্রবণ দেশের একটি। সাম্প্রতিক কয়েক বছর যাবৎ সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বজ্রপাত। বিশেষ করে হাওর ও উত্তরাঞ্চলে এর তীব্রতা বেশি। আমরা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ওই অঞ্চলে সাইরেন বসানোর পরিকল্পনা করছি, যাতে মেঘ জমলে কৃষকরা নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারে। এছাড়া তালগাছ রোপণ এবং বজ্রনিরোধক টাওয়ার বসানোর গবেষণাও চলছে। আমরা বিধিমালা সংশোধন করেছি যাতে বজ্রাঘাতে গবাদি পশু মারা গেলেও কৃষকরা আর্থিক সহায়তা পায়।”
মন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “এত বজ্রপাত সুনামগঞ্জে হয়, জানলে তো বিয়েই করতাম না ওখানে।”
‘ঘুণে ধরা রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে সংস্কার করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে’
রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, “মাননীয় স্পিকার, সেই সংস্কারের প্রস্তাবনাগুলো এখন কতটা আড়ালে পড়ে গেছে। সংস্কারের প্রস্তাবনাগুলো নিয়ে এই সংসদের মধ্যে এমনও কথা বলা হয়েছে যে জুলাই সনদ নাকি আননেসেসারি (অপ্রয়োজনীয়)। এমন ধরনের কথাও তারা বলেছেন।”
তিনি বলেন, “আমরা বলতে চাই, মাননীয় স্পিকার, আমরা যারা এখানে আছি, আমরাই যে সবসময় দেশের ক্ষমতায় থাকবো, আমরাই যে সবসময় সংসদে থাকবো—এর তো কোনও বাধ্যবাধকতা নেই, এমন কোনও বাস্তবতাও নেই। সবার উপরে যেটা সত্য, এতগুলো মানুষ আমাদেরকে ভোট দিয়ে এখানে পাঠিয়েছে, এত শহীদের রক্ত আমাদের এই সংসদে আসার পেছনে বয়ে গেছে। আমরা সকল মানুষদের প্রতি আমাদের কমিটমেন্টের জায়গা এটাই যে, এই বাংলাদেশ রাষ্ট্রটাকে আমরা যদি সুন্দর করে সামনের দিকে পরিচালিত করতে চাই, অবশ্যই রাষ্ট্রকাঠামোর যে ঘুণে ধরা ব্যবস্থা, সেটিকে সংস্কার করে গণভোটের যে রায়, সেটিকে বাস্তবায়ন করতে হবে।”
সাংবাদিকদের নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না মালিক পক্ষের কারণে
সাংবাদিকদের জীবনদান উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, “সাংবাদিকদের কল্যাণে এবং জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিতে দ্রুত দশম ওয়েজ বোর্ড গঠন করা প্রয়োজন। বর্তমানে নবম ওয়েজ বোর্ড চলমান থাকলেও মালিক পক্ষের মামলার কারণে এটি এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হতে পারছে না। সাংবাদিকরা ভালো থাকলে দেশ ও গণতন্ত্র ভালো থাকবে।”
তিনি বলেন, “গণমাধ্যমকে ইতোপূর্বেই শিল্প হিসেবে ঘোষণা করে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু, বাস্তবে এটি এখনও পূর্ণাঙ্গ শিল্পের মর্যাদা পায়নি। শিল্পের যথাযথ মর্যাদা না পাওয়ার কারণে অনেক গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা নিয়মিত বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
হুইপ বলেন, “সরকারি কর্মকর্তারা যেভাবে নিয়মিত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা পান, সাংবাদিকদের জন্যও সেই মানের বেতন কাঠামো এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা উচিত। আমি সবসময় সাংবাদিকদের আপন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। কোনও সাংবাদিক শেষ জীবনে অর্থকষ্টে বা বিনা চিকিৎসায় মানবেতর জীবন যাপন করে মৃত্যুবরণ করুক এটা আমরা চাই না।”
ক্যাম্পাসগুলোতে আশনি সংকেত, গুপ্ত রাজনীতি দেখতে চায় না শিক্ষার্থীরা
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, “ক্যাম্পাসগুলোতে আবারও আশনি সংকেত। এভাবে যদি গুপ্তভাবে মব ক্রিয়েট করে ক্যাম্পাসে অশান্তি সৃষ্টি করার পাঁয়তারা শুরু হয় সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এইটা কখনোই সুখকর হবে না। ভালো কিছু বয়ে আনবে না। আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক সময় নষ্ট করে ফেলেছেন। তারা আর চায় না ক্যাম্পাস অশান্ত হোক। তারা চায়, ক্যাম্পাস শান্ত থাকুক। আর কোনও গুপ্ত রাজনীতি তারা দেখতে চায় না। তারা চায়, প্রকাশ্যে সব কিছুই হোক, উন্মুক্তভাবে রাজনীতির চর্চা হবে।”
