‘প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে গুজব রোধে সামাজিক মাধ্যম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৩৬আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৩৬

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বলেছেন, সরকার প্রশ্নপত্র বিতরণে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। যেকোনও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। গুজব রোধে সার্বক্ষণিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে ভুয়া প্রশ্ন সাজিয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কারণে প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গত কয়েকদিনে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। গত শনিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা অবৈধভাবে অর্থনৈতিক লেনদেনের উদ্দেশ্যে একটি স্বচ্ছ, সুন্দর ও সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নৈরাজ্য, হতাশা, উদ্বেগ ও নৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালায়। অপপ্রচার রোধে সাইবার নজরদারি ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কোনও চক্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

তিনি লেখেন, শিক্ষার্থীদেরও উচিত ভালো ফলাফলের আশায় এসব অসৎ কৌশলে জড়িয়ে না পড়া। কারণ গণমানুষের সরকার আনন্দময় শিক্ষার যে সংস্কৃতি গড়ে তুলছে, তা এই ধরনের প্রতারণামূলক মানসিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, একটি চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক ও নৈতিক অবক্ষয় সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। চক্রটি অবৈধ অর্থ এবং সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে চলমান পরীক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

তিনি জানান, একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনে প্রশ্নফাঁস নিয়ে যে বিষয়টি সামনে এসেছে, এটি প্রকৃত কোনও প্রশ্নফাঁস নয় বরং একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণা চক্রের কাজ। চলমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে নানান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকারের মাত্র দুই মাসেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি ও ইতিবাচক উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে একটি গোষ্ঠী মিসইনফরমেশন ও অপতথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।

মাহদী আমিন লেখেন, প্রতিবেদনে এক পরীক্ষার্থীর বর্ণনায় দেখা যায়, প্রতারকরা রাতে প্রশ্ন দেওয়ার কথা বলে নানা অজুহাত দেয় এবং বলে ‘টেকনিক্যাল সমস্যা’, ‘কিছুক্ষণ পর দেওয়া হবে’ ইত্যাদি। অথচ পরদিন দাবি করা হয় আগেই প্রশ্ন দেওয়া হয়েছিল। এতে পরিষ্কার বোঝা যায়, তাদের আসলে প্রশ্ন দেওয়ার কোনও সক্ষমতাই ছিল না। চক্রটি প্রথমে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে টাকা নেয়, এরপর সময়ক্ষেপণ করে এবং শেষ পর্যন্ত গ্রুপ বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়। তাদের আরেকটি কৌশল হলো, পরীক্ষা শুরুর পর প্রশ্ন সংগ্রহ করে সেটিকে আগে আপলোড করা এবং এমনভাবে উপস্থাপন করা, যাতে শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হয়ে তাদের ফাঁদে পা দেয়।

ঘটনার মূল উদ্দেশ্য তুলে ধরে তিনি লেখেন, মূলত তারা পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর আগের রাতের আপলোড করা ভুয়া প্রশ্নের ছবি সরিয়ে মূল প্রশ্ন রিপ্লেস করে, যাতে পরবর্তী সময়ে যারা প্রশ্ন কিনতে চাইবে, তাদের দেখানো যায় যে তাদের ফাঁস করা প্রশ্ন সঠিক ছিল। ফ্যাসিবাদের সময় থেকেই ঘৃণ্য অপকৌশল গ্রহণ করে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল এই অপচক্র। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই বিষয়ে সজাগ রয়েছে।

ড. মাহদী আমিন জানান, সত্যিকার প্রমাণ না থাকায় সেই বেসরকারি টেলিভিশন নিজ দায়িত্বে প্রতিবেদন সরিয়ে নেয়। তারা বক্তব্য দেয়, ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারিত এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস সম্পর্কিত প্রতিবেদনটিতে কিছু ত্রুটি ও ঘাটতি থাকায় বোর্ডের প্রতিবাদলিপির পূর্বেই তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আমরা দর্শক ও পাঠকদের কাছে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পৌঁছে দিতে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয়েছে। বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্মও নিশ্চিত করেছে, এটি প্রশ্নফাঁস নয়, বরং পরিকল্পিত প্রতারণা। প্রযুক্তিগত নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও, প্রশ্নপত্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে কোনোভাবেই প্রশ্নফাঁস না ঘটে। এই প্রচেষ্টা সফল করতে সব অংশীজনের সম্মিলিত সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য।

তিনি আরও লেখেন, অপপ্রচারে কান না দিয়ে সচেতন থাকা জরুরি। তথ্য যাচাই ছাড়া কিছু বিশ্বাস না করা উচিত। সমালোচনাও হওয়া উচিত তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল। সরকার শিক্ষা খাতকে ঢেলে সাজাতে সর্বদা সচেষ্ট, আমরা চাই রাষ্ট্র গঠনের সঙ্গে প্রত্যেকে যে যার জায়গা থেকে অংশগ্রহণ করুক।

/এমকে/আরকে/
সম্পর্কিত
গুজবে তেলের পাম্পে হঠাৎ উপচে পড়া ভিড়, রাত পর্যন্ত দীর্ঘ লাইন
ফেসবুকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী নিহতের গুজব
সাইবার সুরক্ষা আইন: গুজব ঠেকানো নাকি কণ্ঠরোধ
সর্বশেষ খবর
খিলগাঁওয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু
খিলগাঁওয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু
একজনের পাসপোর্টে আরেক নারীকে ইতালিতে প্রেরণ, গ্রেফতার ৭
একজনের পাসপোর্টে আরেক নারীকে ইতালিতে প্রেরণ, গ্রেফতার ৭
শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধের মুখে টিটিই বরখাস্ত, ৮ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু
শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধের মুখে টিটিই বরখাস্ত, ৮ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু
ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের নিন্দা, দ্রুত পুনঃস্থাপনের আহ্বান উদীচীর
ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের নিন্দা, দ্রুত পুনঃস্থাপনের আহ্বান উদীচীর
সর্বাধিক পঠিত
সাবান-আইসক্রিমসহ চার প্রতিষ্ঠানের ৮ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ 
সাবান-আইসক্রিমসহ চার প্রতিষ্ঠানের ৮ পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ 
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, জানা গেলো আসল ঘটনা 
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, জানা গেলো আসল ঘটনা 
এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নানান প্রশ্ন, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুরের বক্তব্যে অমিল
এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নানান প্রশ্ন, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুরের বক্তব্যে অমিল
এবার কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেল সুপার বদলি, জেলার বরখাস্ত
এবার কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেল সুপার বদলি, জেলার বরখাস্ত
সচিবালয়ে চাকরিতে যোগ দিতে এসে ৪ জন কারাগারে, কারণ কী   
সচিবালয়ে চাকরিতে যোগ দিতে এসে ৪ জন কারাগারে, কারণ কী