দেশের গণমাধ্যম খাত এখনও পুরোনো অ্যানালগ কাঠামোর মধ্যে আটকে আছে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তিত ডিজিটাল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি ‘রূপান্তরিত গণমাধ্যম ইকো-সিস্টেম’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ভুল তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলা, আধুনিক তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের শেষ দিন বুধবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
বৈঠকের শুরুতে ডিসি সম্মেলনকে সরকারের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন এবং পরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নিজেদের দায়িত্ব-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে আলোচনা করে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে।
গণমাধ্যম খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা সমস্যা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত না করায় গৎবাঁধা চিন্তা ও কাজের মধ্যেই খাতটি পরিচালিত হয়েছে। এখন সেই অবস্থান থেকে বেরিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কাজ করতে চায় সরকার।
মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের সমস্যা ব্যাপক। এটি একটি পুরোনো অ্যানালগ জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, যাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকদেরও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষ্য, তথ্য মন্ত্রণালয় যখন প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও নীতিগত কাঠামো নিয়ে কাজ শুরু করবে, তখন মাঠ প্রশাসনকে তা বাস্তবায়নে সক্রিয় সহযোগিতা করতে হবে।
সভায় ভুল তথ্য (মিস-ইনফরমেশন) ও অপতথ্য (ডিস-ইনফরমেশন) মোকাবিলার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তথ্যপ্রবাহকে আরও দায়িত্বশীল ও শৃঙ্খলাপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সরকারের তথ্য ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেন জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকারের প্রস্তুতি এবং গণমাধ্যমের চাহিদার মধ্যে বর্তমানে একটি স্পষ্ট ব্যবধান রয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় দুর্বলতারই প্রতিফলন। তবে এই সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। শিগগিরই আধুনিক তথ্য ব্যবস্থাপনায় প্রবেশ করা সম্ভব হবে।
সাংবাদিকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা
সাংবাদিকদের বেতন কাঠামো, চাকরির নিরাপত্তা ও পেশাগত সুরক্ষার বিষয়েও সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে নোয়াবের সঙ্গে মালিকপক্ষের নীতিগত পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই টেলিভিশন মালিকদের সংগঠনের সঙ্গেও বৈঠক হবে। সাংবাদিকরা সম্মানিত পেশার মানুষ। তাই নিয়োগকর্তারা যেন আইন অনুযায়ী মর্যাদাসম্পন্ন বেতন কাঠামো, চাকরির নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করেন, সে বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নেবে।
গণমাধ্যম খাতে পেশাদারিত্বের সংকটের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম মালিক পরিচয়ে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এ অবস্থায় পেশাদার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ‘ভাসমান প্রতিষ্ঠানগুলোর’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছে। তবে বিষয়টি সংবেদনশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব পক্ষের মতামত বিবেচনায় নিয়েই সরকার অগ্রসর হতে চায়। অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অচিরেই গণমাধ্যম খাতের সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান সম্ভব হবে।









