রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উদযাপনে ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিস্তৃত আয়োজনের মাধ্যমে পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা এবং মাঠ প্রশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-২ শাখা থেকে উপ-সচিব শবনম মুস্তারী রিক্তা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, দিবসটি পালন উপলক্ষ্যে গত ৩ মে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার কার্যবিবরণী সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মাঠ প্রশাসনের সব স্তরকে এ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।
কার্যবিবরণী বাস্তবায়নের নির্দেশনা মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, তিন বাহিনীর প্রধান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্ট গার্ড, এনএসআই, ডিজিএফআই এবং ডিএমপিসহ সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, তথ্য অধিদপ্তর ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তরকে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও বিশেষ প্রকাশনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও কার্যবিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে।
মাঠ প্রশাসন পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছেও নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
এতে শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবহন, ধর্ম, সমাজকল্যাণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, প্রবাসী কল্যাণ, পরিবেশ, বাণিজ্য ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতভিত্তিক মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ স্কাউটস, বিএনসিসি ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদকেও কর্মসূচিতে অংশ নিতে বলা হয়েছে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, দিবসটি উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে সমন্বিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আলোচনা সভা, আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক আয়োজন, দোয়া ও প্রার্থনা এবং গণসচেতনতামূলক কার্যক্রম নেওয়া হবে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।









