বাজেটে গুরুত্ব পাচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তা খাত 

গোলাম মওলা
১০ জুন ২০২৬, ২০:০০আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ২০:৩৭

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আয় বৈষম্য, কর্মসংস্থানের সংকট এবং সামাজিক সুরক্ষার বাড়তি চাহিদার বাস্তবতায় আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে অভূতপূর্ব গুরুত্ব দিতে যাচ্ছে সরকার। শুধু প্রচলিত ভাতা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোই নয়, বরং পরিবারভিত্তিক সহায়তা, কৃষকদের জন্য নগদ প্রণোদনা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সম্মানী, কর্মহীন শ্রমিকদের সহায়তা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ ভাতাসহ একাধিক নতুন কর্মসূচি যুক্ত করা হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে কেন্দ্র করেই একটি নতুন কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা তুলে ধরা হবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করবেন। এর মধ্যে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা করার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীনতার পর সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ইতিহাসে এটি হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণগুলোর একটি।

কল্যাণ রাষ্ট্রের নতুন দর্শন

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এবারের বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে জীবনচক্রভিত্তিক (লাইফ সাইকেল বেসড) সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। অর্থাৎ একজন নাগরিকের জন্ম থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সহায়তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সরকারের ধারণা, নগদ সহায়তা, খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক কর্মসূচিকে সমন্বিত করতে পারলে দারিদ্র্য ও বৈষম্য কমানোর পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ চাহিদাভিত্তিক অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে।

ফ্যামিলি কার্ড: সামাজিক নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দু

আগামী বাজেটের সবচেয়ে বড় ও আলোচিত কর্মসূচি হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’। এই কর্মসূচির আওতায় আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীপ্রধান পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১২ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এজন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা।

তবে এই কর্মসূচির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে— ফ্যামিলি কার্ডধারীরা সাধারণত অন্য কোনো সামাজিক ভাতা একসঙ্গে পাবেন না। সরকারের যুক্তি, এতে একই ব্যক্তি একাধিক কর্মসূচির সুবিধা নেওয়ার সুযোগ কমবে এবং প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কর্মসূচি সফল হলে বাংলাদেশে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটতে পারে। তবে উপকারভোগী নির্বাচন এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

কৃষক কার্ডে ৪২ লাখ কৃষক

কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে প্রথমবারের মতো কৃষক কার্ড কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রত্যেক কৃষক বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা পাবেন। এ খাতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। নীতিনির্ধারকদের মতে, কৃষকদের একটি নির্ভুল ডিজিটাল ডাটাবেইস তৈরি হলে ভবিষ্যতে সার, বীজ, কৃষিঋণ, ভর্তুকি ও প্রণোদনা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে।

বাড়ছে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা

দেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর মধ্যে অন্যতম বয়স্ক ভাতা কার্যক্রম। বর্তমানে ৬১ লাখ ব্যক্তি মাসে ৬৫০ টাকা করে ভাতা পান। আগামী অর্থবছরে এই সংখ্যা বেড়ে ৬২ লাখে উন্নীত হবে এবং ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হবে।

একইভাবে বিধবা ও স্বামী পরিত্যক্ত নারীদের ভাতার হার ৬৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকায় উন্নীত করা হচ্ছে। উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০ লাখ করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবন্ধী ভাতা কর্মসূচিতেও বড় পরিবর্তন আসছে। উপকারভোগীর সংখ্যা ৩৪ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩৮ লাখ করা হবে। মাসিক ভাতা ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তিপ্রাপ্তির সংখ্যা ৮১ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্তরে শিক্ষাবৃত্তির পরিমাণও ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হবে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য নজিরবিহীন বরাদ্দ

প্রথমবারের মতো মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধবিহারের কর্মীদের জন্য বড় পরিসরে সম্মানী কর্মসূচি চালু হচ্ছে। মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৬৬ জনকে এর আওতায় আনা হবে। ইমাম, পুরোহিত ও বিহার অধ্যক্ষরা মাসে ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন, সেবাইত ও বিহার উপাধ্যক্ষরা ৩ হাজার টাকা এবং খাদেমরা ২ হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে বিশেষ ভাতার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।

সরকারের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নিম্ন আয়ের কর্মীদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের জন্য বিশেষ ভাতা

নতুন কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা। মোট ১৬ হাজার ৫১৩ জনকে চারটি শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শহীদ পরিবার এবং ‘এ’ শ্রেণির আহতরা মাসে ২০ হাজার টাকা, ‘বি’ শ্রেণির আহতরা ১৫ হাজার টাকা এবং ‘সি’ শ্রেণির আহতরা ১০ হাজার টাকা করে পাবেন। এ কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ২৩৭ কোটি টাকা।

খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানেও জোর

খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতাও বাড়ানো হচ্ছে। ভিজিএফ কর্মসূচিতে ১৫ লাখ উপকারভোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একইসঙ্গে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে কর্মহীন শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। ১৫ হাজার শ্রমিককে মাসে ৫ হাজার টাকা করে সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে।

এছাড়া খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকার মনে করছে, এতে একদিকে পরিবেশ সংরক্ষণ হবে, অন্যদিকে আয়বর্ধক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

জটিল রোগের চিকিৎসা সহায়তা দ্বিগুণ

ক্যানসার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, থ্যালাসেমিয়া, জন্মগত হৃদরোগ এবং স্ট্রোকে প্যারালাইজড রোগীদের জন্য এককালীন আর্থিক সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হচ্ছে। উপকারভোগীর সংখ্যাও ৬০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৬৫ হাজার করা হবে। স্বাস্থ্য খাতে এ ধরনের সহায়তা বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদরা।

ডিজিটাল তথ্যভান্ডার ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির দীর্ঘদিনের অন্যতম সমস্যা হলো ভুল উপকারভোগী নির্বাচন, রাজনৈতিক প্রভাব, দ্বৈত সুবিধাভোগী এবং তথ্যের অসামঞ্জস্যতা।

এসব সমস্যা সমাধানে এবার বাধ্যতামূলকভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধনের ভিত্তিতে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে। পাশাপাশি চালু করা হবে ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি (ডিএসআর)’। এই ডিজিটাল তথ্যভান্ডারের মাধ্যমে অনলাইনে সুবিধাভোগীদের তথ্য সংরক্ষণ, যাচাই এবং বিশ্লেষণ করা হবে। সরকারের আশা, এর মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্রদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং অপচয় কমবে।

বড় প্রশ্ন রাজস্ব কোথা থেকে আসবে?

অর্থনীতিবিদদের মতে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির এই বিস্তার নিঃসন্দেহে জনকল্যাণমূলক। তবে এর অর্থনৈতিক টেকসইতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান মনে করেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাত সম্প্রসারণ প্রয়োজনীয় হলেও অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্রে উপকারভোগী নির্বাচন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হ্রাস এবং দ্বৈততা দূর করার যে সুপারিশ করা হয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন জরুরি।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী বাজেট একদিকে যেমন কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন, অন্যদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও আয় বৈষম্যের চাপ সামাল দেওয়ার একটি অর্থনৈতিক কৌশলও বটে। তবে রাজস্ব আহরণ প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়লে এত বড় সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো দীর্ঘমেয়াদে টেকসই রাখা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সামাজিক নিরাপত্তা খাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত কর্মসূচিগুলো কতটা দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা যায় এবং প্রকৃত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়।

/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
ঋণের শর্তে বরবাদ হতে চলেছে শিল্পে প্রণোদনা
বাজেটের ব্রিফকেস: দুই শতকের ঐতিহ্যের পেছনের গল্প
বাজেট ২০২৬-২৭ ঘোষণা কালকী বার্তা আসছে বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে 
সর্বশেষ খবর
প্রবাসীদের সুরক্ষায় সংসদীয় কমিটি গঠনের আহ্বান হান্নান মাসউদের
প্রবাসীদের সুরক্ষায় সংসদীয় কমিটি গঠনের আহ্বান হান্নান মাসউদের
ঋণের শর্তে বরবাদ হতে চলেছে শিল্পে প্রণোদনা
ঋণের শর্তে বরবাদ হতে চলেছে শিল্পে প্রণোদনা
এক কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নতুন শ্রমবাজার খুঁজছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী
এক কোটি কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নতুন শ্রমবাজার খুঁজছে সরকার: প্রতিমন্ত্রী
সীমান্তে হত্যা ও পুশইন বন্ধের দাবিতে ১১ দলের কর্মসূচি ঘোষণা
সীমান্তে হত্যা ও পুশইন বন্ধের দাবিতে ১১ দলের কর্মসূচি ঘোষণা
সর্বাধিক পঠিত
একসময় আমদানিনির্ভর রেলের ১৬০ ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে এক উপজেলাতেই
একসময় আমদানিনির্ভর রেলের ১৬০ ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরি হচ্ছে এক উপজেলাতেই
যে যুক্তিতে খালাস পেলেন নাসির-তামিমা
যে যুক্তিতে খালাস পেলেন নাসির-তামিমা
সচিবালয়ে টেলিফোন তার চুরির পর এবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ল্যাপটপ চুরি
সচিবালয়ে টেলিফোন তার চুরির পর এবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ল্যাপটপ চুরি
বাজেটের আগে স্বর্ণের ভরিতে কমলো ৬ হাজার ৫৯১ টাকা
বাজেটের আগে স্বর্ণের ভরিতে কমলো ৬ হাজার ৫৯১ টাকা
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, ঘুরে দাঁড়ালো শেয়ারবাজার
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, ঘুরে দাঁড়ালো শেয়ারবাজার