২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘লুটপাটের বাজেট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা। তিনি বলেছেন, “এই বাজেট অনেকটা চানাচুর মার্কার মতো, যা শুনতে ভালো লাগলেও খেলে পেট খারাপ হয়।”
বুধবার (১৭ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের নবম দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে আমির হামজা বলেন, “জাতীয় বাজেট জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যম হওয়া উচিত। রাষ্ট্রের আয় বৃদ্ধির জন্য কর প্রশাসনকে আধুনিকায়ন করতে হবে এবং কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধে কঠোর হতে হবে।” সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা না বাড়িয়ে নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া দেশের বড় সমস্যা বেকারত্ব দূর করতে শিল্পায়নে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান।
শিক্ষা খাতে বরাদ্দের সমালোচনা করে এই সংসদ সদস্য বলেন, “দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য বাজেট আরও বাড়ানো দরকার।” পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষার অবহেলার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের মাদ্রাসাগুলো যুগ যুগ ধরে অবহেলিত। এবতেদায়ি মাদ্রাসা এবং প্রতিটি জেলা শহরে একটি করে ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসা জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”
কৃষকদের জন্য স্বল্পমূল্যে সার, বীজ এবং শুল্কমুক্ত কৃষি সরঞ্জাম সরবরাহের দাবি জানান আমির হামজা। রেল যোগাযোগ আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২০-২২ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। এই শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে রেললাইন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে শুনলেও এখনও কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। আগামী বাজেটে যেন এটি বাস্তবায়ন হয়।”
বাজেট নিয়ে সরকারের দাবির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সরকার বলছে বাজেট নিয়ে নাকি আনন্দের বন্যা বইছে। অথচ বাজেট উপস্থাপনের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন হয়েছে।” বিগত সময়ের মতো এবারের বাজেটের অর্থও যেন সরকারি দলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পাচার করতে না পারে, তার নিশ্চয়তা দাবি করেন তিনি।
আমির হামজা আরও বলেন, “গতানুগতিক কথায় সমস্যার সমাধান হবে না। অর্থপাচার ঠেকাতে সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনও পলিসি যেন জনগণের সামনে স্পষ্ট নয়।”









