চলতি অর্থবছরেই বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মধ্য দিয়ে এই প্রকল্পে চীনের কারিগরি সহায়তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে।
রবিবার (২৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৭তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ পর্যায়ে সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, তিস্তা, পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ সারা দেশের প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার নদীভাঙন এলাকার মানুষ আজ প্রকৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করছে। তাদের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ। তারা বাড়িঘর, জায়গা-জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। এই মানুষের হাহাকার আমরা দেখেছি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমি গত ১৯ জুলাই তিস্তাপারের মানুষের কাছে গিয়েছিলাম। যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে ডেকে বলেছিলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যে সমস্যা, তার একটি সমাধান আপনাকে বের করতে হবে। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি। দেশের এক-তৃতীয়াংশ বা প্রায় ৭ কোটি মানুষের সুবিধার জন্য আমরা পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এটি ইতোমধ্যে একনেকে পাস হয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার প্রায় ২ কোটি মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই, যে নামেই হোক, এই অর্থবছরেই আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবো।
চীন সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীন সফরে গিয়ে তাদের দূরদর্শী চিন্তা দেখেছি। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং তাদের পানিসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারা বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনায় কারিগরি সহায়তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সম্মত হয়েছে। ইতোমধ্যে আমাদের এক্সপার্ট টিম ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ শুরু করেছে।
ভারত থেকে আসা ৫৭টি অভিন্ন নদীর পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ফারাক্কাসহ বিভিন্ন ব্যারাজের কারণে শুষ্ক মৌসুমে আমরা পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তিস্তা, মাথাভাঙ্গা, ইছামতি, বড়ালসহ বিভিন্ন নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা বাড়ছে। এর থেকে মুক্তির জন্য খাল খননের বিকল্প নেই।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচির যে বিপ্লব শুরু করেছিলেন, আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই খাল খননের মাধ্যমে আমরা নতুন জাগরণ সৃষ্টি করেছি। আমরা কৃষিকে চাঙা করতে চাই। ইতোমধ্যে আমরা জরুরি ভিত্তিতে খাল খননের কাজ শুরু করেছি, আগামীতে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের মানুষ ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতন সহ্য করেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ সংগ্রামের পর আমরা আজ একটি স্বাধীন সংসদে কথা বলতে পারছি। যারা বিগত দিনের সেই দুঃস্বপ্নকে ফিরিয়ে আনতে চায়, দেশের মানুষ তা আর কখনও মেনে নেবে না। আমরা জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পাশাপাশি জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির সংগ্রামেও মাঠে ছিলাম।









