‘বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করবে সরকার’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৮ জুলাই ২০২৬, ২০:২২আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ২০:২২

বজ্রাঘাতে প্রাণহানি কমাতে দেশের অধিক বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা-সম্বলিত মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

বুধবার (৮ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম অধিবেশনের ২১তম দিনে সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩০-এর সরকারি দলের সদস্য আরিফা সুলতানার কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বজ্রপাত একটি ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরিণত হয়েছে এবং সরকার ইতোমধ্যে বজ্রপাতকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রকল্প গ্রহণ এবং আর্থিক সহায়তাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, প্রতিবছর মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী বজ্রপাতবিষয়ক জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে লিফলেট বিতরণ এবং শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, দেশের অধিক বজ্রপাতপ্রবণ ১৫ জেলায় ‘বজ্রপাতের ফলে প্রাণহানি রোধে বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ’, ‘কৃষক ছাউনি’ এবং ‘বজ্রনিরোধক দণ্ড স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর আওতায় চলনবিল অঞ্চলের বগুড়া, পাবনা, রাজশাহী, সিরাজগঞ্জ এবং হাওর এলাকাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, হাওর এলাকায় ধান কাটার সময় কৃষক এবং বর্ষাকালে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেরা বজ্রপাতে নিহত হচ্ছেন। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রের আদলে বজ্রপাতের জন্যও মাল্টিপারপাস আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে বজ্রনিরোধক দণ্ড ও সতর্কীকরণ অ্যালার্ম থাকবে। আকাশে বজ্রঝড়ের আশঙ্কা দেখা দিলে কৃষক ও জেলেরা সেখানে নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারবেন।

মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বজ্রপাতের ঘটনা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল ও হাওর অঞ্চলে এর প্রকোপ বেশি। চলনবিলসহ দেশের সব অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জনগণের জীবন-জীবিকা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রকল্প অনুমোদন সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মন্ত্রী আরও জানান, বজ্রপাতে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া বজ্রপাতে গবাদিপশুর মৃত্যু হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

 

/এসএমএ/এমএএল/
সম্পর্কিত
চামড়া রফতানি ১০-১২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে রোডম্যাপ হবে: শিল্পমন্ত্রী
তিন মন্ত্রী অনুপস্থিত, মাঝপথে স্থগিত হলো সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্ব
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে যত পরিকল্পনা 
সর্বশেষ খবর
পাকিস্তানে নারীদের তৈরি পণ্য রফতানিতে সহযোগিতা চাইলেন মন্ত্রী
পাকিস্তানে নারীদের তৈরি পণ্য রফতানিতে সহযোগিতা চাইলেন মন্ত্রী
কোন পথে গড়াচ্ছে ইরান-মার্কিন সংঘাত
কোন পথে গড়াচ্ছে ইরান-মার্কিন সংঘাত
শাপলা চত্বর ঘটনার তদন্ত শেষ, আসামির তালিকায় যারা 
শাপলা চত্বর ঘটনার তদন্ত শেষ, আসামির তালিকায় যারা 
পোষা পাখি মরে যাওয়ায় বড় ভাইকে মেরে ফেললো ছোট ভাই
পোষা পাখি মরে যাওয়ায় বড় ভাইকে মেরে ফেললো ছোট ভাই
সর্বাধিক পঠিত
কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি চূড়ান্ত, কোন কোন দল মুখোমুখি
কোয়ার্টার ফাইনালের সূচি চূড়ান্ত, কোন কোন দল মুখোমুখি
৫ জনকে জীবিত উদ্ধার, মাটির নিচে চাপা পড়েছে আরও ২০ জন
৫ জনকে জীবিত উদ্ধার, মাটির নিচে চাপা পড়েছে আরও ২০ জন
যে কারণে নিরাপত্তা কর্মীকে উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী
যে কারণে নিরাপত্তা কর্মীকে উপহার পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী
চার প্রতিষ্ঠানের লে-অফ আরও সাত দিন বাড়ালো কেয়া গ্রুপ
চার প্রতিষ্ঠানের লে-অফ আরও সাত দিন বাড়ালো কেয়া গ্রুপ
পুরোনো স্মার্টফোনকে বানিয়ে ফেলুন ঘরের সিসিটিভি ক্যামেরা
পুরোনো স্মার্টফোনকে বানিয়ে ফেলুন ঘরের সিসিটিভি ক্যামেরা