নতুন করে মন্ত্রিসভায় ডাক পাচ্ছেন কারা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২১ আগস্ট ২০২৬, ১৬:১৯আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ১৬:৩৫

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন করে আরও চারজন সদস্য যুক্ত হতে পারেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে বঙ্গভবনে নতুন সদস্যদের শপথ হতে পারে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

গণমাধ্যমের খবরে সম্ভাব্য নতুন মন্ত্রী হিসেবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরীর নাম এসেছে। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনের নামও আলোচনায় রয়েছে।

তবে নতুন সদস্য হিসেবে কারা শপথ নিচ্ছেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি গণমাধ্যমকে বলেছেন, তাকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। এদিকে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য সরকারি যানবাহন অধিদফতরের পরিবহন পুল থেকেও ছয়টি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথের পর নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথ হতে পারে। তাঁদের শপথ পড়াবেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আবদুল মঈন খান, আন্দালিভ রহমান পার্থ, সাচিং প্রু জেরী ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন

আবদুল মঈন খান

সম্ভাব্য নতুন মন্ত্রীদের তালিকায় থাকা আবদুল মঈন খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। তিনি নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য। গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এই আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি।

ড. আবদুল মঈন খান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। পদার্থবিজ্ঞানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার পর যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে পিএইচডি অর্জন করেন তিনি। রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান মঈন খানের বাবা আবদুল মোমেন খান ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন নেতাদের একজন ও জিয়াউর রহমান সরকারের খাদ্যমন্ত্রী। ১৯৯১ সালে নরসিংদী-২ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মঈন খান। একই আসন থেকে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০২৬ সালের নির্বাচনেও জয়ী হন তিনি।

সরকারে মঈন খান ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এবং ২০০১ সালে তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে নরসিংদী-২ থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়। 

আন্দালিভ রহমান পার্থ

আন্দালিভ রহমান পার্থ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান। বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে তার দল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়। তিনি ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য।

ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি সাবেক মন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নাজিউর রহমান মঞ্জুরের ছেলে। সেন্ট জোসেফ উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনার পর লন্ডনে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন এবং লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশে ফিরে আইনজীবী হিসেবে কাজের পাশাপাশি ঢাকার ব্রিটিশ স্কুল অব ল-এর অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন।

পার্থর রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয়তা শুরু হয় ২০০৮ সালের দিকে। ওই বছরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ভোলা-১ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০৮ সালে বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর মৃত্যুর পর তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত জোটের প্রার্থী হিসেবে ভোলা-১ আসন থেকে আবারও নির্বাচিত হন।


সাচিং প্রু জেরী

সাচিং প্রু জেরী বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির বান্দরবান জেলা শাখার আহ্বায়ক। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বান্দরবান আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি। গণমাধ্যমের খবরে তাঁর নাম মন্ত্রী হিসেবে সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছে।

এর আগে সাচিং প্রু জেরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তাকে ফোন করে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বঙ্গভবনে থাকতে বলা হয়েছে।

সাচিং প্রু জেরী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। ২০২৫ সালের জুনে তাকে আহ্বায়ক করে বান্দরবান জেলা বিএনপির ৪৬ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি বান্দরবান আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৯ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বান্দরবান আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বান্দরবান-৩০০ আসন থেকে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সাচিং প্রু জেরী। নির্বাচনে তিনি ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নির্বাচনের আগে তিনি বান্দরবানের প্রধান সমস্যা হিসেবে পানি সংকটের স্থায়ী সমাধানের কথা তুলে ধরেছিলেন।  

মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন

প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য। ১৯৮০ সালে জন্ম নেওয়া এই সংসদ সদস্যের বাবা এম এ মোত্তালিব এবং মা আফরোজা আনার। স্ত্রী জোবায়দা খানম। তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। বর্তমানে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এর আগে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার স্থায়ী ঠিকানা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জগদীশপুর গ্রামে। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ২০০৬ সালে উপনির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

মন্ত্রিসভার আকার কত হচ্ছে

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠন করে। শুরুতে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা ছিল ৫০। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।

এরপর ১২ মার্চ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী কায়সার কামাল মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন। একই দিনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার এবং কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। হাফিজ উদ্দিনের পদত্যাগের দিনই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান আহমেদ আযম খান। ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

সর্বশেষ গত ১ জুন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেন।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বর্তমানে মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রীসহ ৪৮ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৩ জন প্রতিমন্ত্রী। নতুন করে তিনজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হলে মন্ত্রিসভার আকার আরও বাড়বে।

এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় ওই মন্ত্রণালয়টি শূন্য হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের পর ওই মন্ত্রণালয়েও কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করায় নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি দপ্তর পুনর্বণ্টন হতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে খবর এসেছে।

/ইউএস/
সম্পর্কিত
মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন আরও কয়েকজন
রাষ্ট্রপতির শপথ: যেসব সড়ক এড়িয়ে চলবেন আজ 
সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন রাষ্ট্রপতি
সর্বশেষ খবর
ইয়েমেন ও সোমালিয়া উপকূলে ২২ ভারতীয়সহ দুই জাহাজ ছিনতাই
ইয়েমেন ও সোমালিয়া উপকূলে ২২ ভারতীয়সহ দুই জাহাজ ছিনতাই
দীপু মনির স্বামীর জানাজায় গ্রেফতার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা  কারাগারে
দীপু মনির স্বামীর জানাজায় গ্রেফতার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা  কারাগারে
কারাগার থেকে পালানো এক চোরকে ধরতে সময় লাগলো ৯ মাস
কারাগার থেকে পালানো এক চোরকে ধরতে সময় লাগলো ৯ মাস
সড়কে ছেলের লাশ পড়ে আছে শুনেই অজ্ঞান হয়ে মায়ের মৃত্যু
সড়কে ছেলের লাশ পড়ে আছে শুনেই অজ্ঞান হয়ে মায়ের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
অবশেষে সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপে অচলাবস্থার অবসান
অবশেষে সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপে অচলাবস্থার অবসান
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কবর দেওয়া হবে: চিফ হুইপ
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কবর দেওয়া হবে: চিফ হুইপ
যে ৩ কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি রুমিন ফারহানা
যে ৩ কারণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি রুমিন ফারহানা
বিএনপির বাইরেও  ১১ ভোট বেশি পেয়েছেন মির্জা ফখরুল
বিএনপির বাইরেও ১১ ভোট বেশি পেয়েছেন মির্জা ফখরুল
পিতৃত্বের স্বীকৃতি পেয়ে বেলজিয়ামের রাজপুত্র হলেন সাবেক কার সেলসম্যান
পিতৃত্বের স্বীকৃতি পেয়ে বেলজিয়ামের রাজপুত্র হলেন সাবেক কার সেলসম্যান