জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সংবিধানে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ ঈমান ও আস্থা ফিরিয়ে আনা, সালাত কায়েম এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে জাকাত ব্যবস্থা চালুর জোরালো দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। এ সময় সংসদ সদস্যদের আমল ও চরিত্র গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি তিনি সংসদে নামাজের বিরতি যথাযথভাবে কাজে লাগানোর কথাও বলেন।
তার বক্তব্যের পর স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বিষয়টি ব্যক্তিগত ধর্ম পালনের স্বাধীনতার অংশ বলে উল্লেখ করেন। সংসদীয় বিধি ব্যাখ্যাসহ গুরুত্বপূর্ণ রুলিংও দেন তিনি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আলাদাভাবে এ বিষয়ে কথা বলেন তিন সংসদ সদস্য। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
সংবিধানে ঈমান ও আস্থার বিধানের প্রসঙ্গ টেনে সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান বলেন, সংবিধানে অতীতে আল্লাহর প্রতি ঈমান ও আস্থা সংক্রান্ত বিধান মূল উৎস হিসেবে ছিল, যা পরবর্তীতে বাতিল করা হয়েছে।
দেশের ৯০ শতাংশের বেশি মুসলমান আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেন উল্লেখ করে তিনি সংসদে আসর ও মাগরিবের নামাজের বিরতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ক্ষমতার দায়িত্ব পেলে মূল কাজ হলো সালাত কায়েম ও যাকাত ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজ থেকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দূর করা।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নামাজ ও যাকাত চালুর আহ্বান জানিয়ে স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রশাসনিক উদ্যোগে নামাজ কায়েম ও যাকাত চালু হলে নাগরিকদের চরিত্র গঠনের পাশাপাশি পরকালের জবাবদিহিতার পথ সুগম হবে।
ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয় বললেন স্পিকার
সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমানের বক্তব্যের জবাবে স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সদস্য, এটা তো পুরোই একটা ধর্মীয় ব্যাপার। প্রত্যেকের স্বাধীনতা রয়েছে নিজ নিজ ধর্ম পালন করার জন্যে এবং ইসলাম মানবতার ধর্ম। আপনারা নিশ্চয়ই আমার চাইতে অনেক বেশি জানেন ধর্ম সম্পর্কে। এই ধর্ম সঠিকভাবে পালন করলে বেহেশতে যাওয়া যাবে। আর ধর্ম পালনে অবহেলা করলে তাকে জাহান্নামে যেতে হবে। এটি তো ধর্মীয় বিধান। এ ব্যাপারে তো মাননীয় সংসদ সদস্যরা সবাই অবগত আছেন। এবং আশা করি তারা ধর্মপ্রাণ মানুষ হিসেবে আল্লাহর প্রদত্ত নির্দেশ মেনে চলবেন। এটা তো আমাদের উপরে অবশ্যকরণীয়। এটা সংসদীয় স্পিকারের নোটিশ দিয়ে এটা বলবৎ করা যাবে না। তবুও আপনি আপনার সেন্টিমেন্টকে আমরা সম্মান করি। এবং আমরা নিশ্চয়ই প্রদত্ত নির্দেশ মান্য করার জন্য সচেষ্ট থাকবো। এটা আমরা সবাই আস্থা করতে পারি।’
নামাজ ইস্যুতে বক্তব্য থামালেন স্পিকার
এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান সংসদ সদস্য ফখরুদ্দিন আহমেদ। তবে স্পিকার তাকে থামিয়ে বলেন, ‘মাননীয় সদস্য, এটার উপরে আর না। তারটা আমি পয়েন্ট অব অর্ডার হতে পারে। কারণ এটা সংসদ কাজের শৃঙ্খলার সাথে নামাজের টাইমিং, বিরতির সাথে কিছুটা সম্পর্ক আছে। বাট এইটা নিয়ে তো কিছু না।” অন্য কোনো ইস্যু থাকলে বক্তব্যের অনুমতি দেন স্পিকার।
পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “আমি একটু স্পষ্ট করতে চাই, উনি (সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান) উল্লেখ করেছেন যে মসজিদে গেলে অনেককে দেখা যায় না।”
এ পর্যায়ে তার বক্তব্য থামিয়ে দেন স্পিকার। তাৎক্ষণিকভাবে রুলিং দিয়ে স্পিকার বিষয়টিকে নতুন বিতর্কে রূপ না দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
স্পিকার বলেন, “না, না, না, প্লিজ সদস্য। এটা কোনও বিতর্কের বিষয় না। দয়া করে বসুন, এটা কোনও বিতর্কের বিষয় নয়।”
‘এটা পয়েন্ট অব অর্ডার না’
পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদ চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাঙ্কের গোলাবর্ষণে দুজন সেনাসদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর সংসদে তুলে ধরেন। তিনি ফায়ারিং অনুশীলনের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় দুই সেনাসদস্য নিহত ও এক কর্মকর্তা গুরুতর আহত হওয়ার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারের মাধ্যমে সংসদকে জানান।
সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, “আজ আমাদের জাতীয় জীবনে খুবই দুঃখজনক একটি ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফায়ারিং অনুশীলনের সময় একটি ট্যাঙ্ক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুইজন সৈনিক নিহত এবং একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। আমি আপনার মাধ্যমে মাননীয় আপনার মাধ্যমে জাতীয় সংসদে এবং সারা দেশবাসীকে এ ব্যাপারে অবহিত করলাম।”
এ পর্যায়ে স্পিকার রুলিং দিয়ে জানান, “মাননীয় সদস্য, এটা পয়েন্ট অব অর্ডার হলো না। আবারও আমাকে বলতে হচ্ছে, পয়েন্ট অব অর্ডার চলমান কোনও বিষয়ের ওপরে, সংসদে আলোচনা হচ্ছে, এমন বিষয়ে কোনও ভুলভ্রান্তি থাকলে সেটা কারেক্ট করার জন্য বলতে পারেন অথবা সংসদ কাজের শৃঙ্খলা বিধানের জন্য। সুতরাং এটা পয়েন্ট অব অর্ডার হলো না।”








