আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬ কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। বিলটিতে এপিবিএন সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের বিচার করতে বিশেষ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আদালত ও সংক্ষিপ্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আদালত গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ পর্যায়ে অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
বিল যা আছে
বিলের ২২ ধারায় বিশেষ ও সংক্ষিপ্ত—দুই ধরনের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আদালত গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। বিশেষ আদালতের সভাপতি হবেন এপিবিএনের অন্যূন ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এবং সদস্য থাকবেন পুলিশ সুপার বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তা। অভিযুক্ত ব্যক্তি এসপি বা তদূর্ধ্ব হলে আদালতের সদস্যদের তার চেয়ে উচ্চ পদমর্যাদার হতে হবে।
সংক্ষিপ্ত আদালতের সভাপতি হবেন অন্যূন অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এবং সদস্য থাকবেন এসপি বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার দুই কর্মকর্তা। এ আদালতেও অভিযুক্ত ব্যক্তি এসপি বা তদূর্ধ্ব হলে সদস্যদের তার চেয়ে উচ্চ পদমর্যাদার হতে হবে।
সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য এপিবিএনের অন্যূন একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে আইন কর্মকর্তা নিয়োগ এবং অভিযুক্তের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার পক্ষে আইনানুগ প্রতিনিধি হিসেবে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিলের ২৩ ধারায় বিদ্রোহ সংঘটন, বিদ্রোহে প্ররোচনা, বিদ্রোহের কারণ সৃষ্টি, ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হওয়া বা বিদ্রোহে যোগ দেওয়াকে বিশেষ আদালতে বিচার্য অপরাধ হিসেবে রাখা হয়েছে। বিদ্রোহের স্থানে উপস্থিত থেকেও তা দমনে যথাসাধ্য চেষ্টা না করাকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
বিল অনুযায়ী, এপিবিএন পুলিশের অধীনেই পরিচালিত হবে। এর আওতায় স্পেশাল পুলিশ ব্যাটালিয়ন, হিল ব্যাটালিয়ন, এয়ারপোর্ট ব্যাটালিয়নসহ সরকার নির্ধারিত অন্যান্য ব্যাটালিয়ন থাকতে পারবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সাইবার সেল গঠনেরও সুযোগ রাখা হয়েছে।
এপিবিএনের দায়িত্বের মধ্যে জননিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও স্থাপনার নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, অবৈধ অস্ত্র-গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক ও সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, গুম, ভূমি দখল, নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতা, ধর্ষণ, মানবপাচার ও অপহরণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এপিবিএন সদস্যদের তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। অন্যূন উপপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা তদন্তকারীর ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। গ্রেফতার ব্যক্তিকে এবং জব্দ করা আলামত ‘অনতিবিলম্বে’ নিকটস্থ থানায় হস্তান্তরের বিধান রাখা হয়েছে।
শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, পদাবনতি, পদোন্নতি স্থগিতসহ বিভিন্ন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। দণ্ডের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ রয়েছে।
নতুন আইনের মাধ্যমে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশ, ১৯৭৯ বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি বিলটি পরীক্ষা করে সংশোধিত আকারে পাসের সুপারিশ করেছিল। কমিটির চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন রিপোর্টটি উপস্থাপন করেন।









