বিমান পরিবহন খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের কাছে কেবিন ক্রুর পেশা বেশ আকর্ষণীয়। ভ্রমণের সুযোগ, বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রির অংশ হওয়ার সুযোগ সব মিলিয়ে অনেকেরই পছন্দের তালিকায় থাকে এই পেশা।
ভারতের বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে ইন্ডিগো অন্যতম বড় নাম। ফলে যারা কেবিন ক্রু হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে চান, তাদের অনেকেরই প্রশ্ন, এই পেশায় মাসে কত আয় করা যায়?
এভিয়েশন এ টু জেড-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ইন্ডিগোর কেবিন ক্রুদের মাসিক আয় অভিজ্ঞতা, ফ্লাইং আওয়ার, রুট, রোস্টার ও দায়িত্বের ওপর ভিত্তি করে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে।
নতুন কেবিন ক্রুদের আয়
এভিয়েশন এ টু জেড-এর তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিগোতে নতুন নিয়োগ পাওয়া একজন কেবিন ক্রু নিয়মিত ফ্লাইং ডিউটি শুরু করার পর মাসে প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৫৫ হাজার রুপি আয় করতে পারেন।
তবে এটি নির্দিষ্ট বেতন নয়। ফ্লাইং আওয়ার, ইনসেনটিভ, রুট এবং কর্মীর বেস লোকেশনের মতো বিষয়গুলোর ওপর মাসিক আয় কমবেশি হতে পারে।
প্রকাশনাটির প্রতিবেদনে দিল্লি, মুম্বাই ও বেঙ্গালুরুর মতো শহরে কর্মরত কেবিন ক্রুদের বেতনসংক্রান্ত তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে চাকরির শুরুর বছরগুলোতে এই পরিসরের আয় দেখা যায়।
অভিজ্ঞতায় বাড়ে আয়
চাকরির অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেবিন ক্রুদের আয়ও বাড়তে পারে। এভিয়েশন এ টু জেড-এর হিসাবে, অভিজ্ঞ ইন্ডিগো কেবিন ক্রুরা মাসে প্রায় ৬০ হাজার থেকে ৮৫ হাজার রুপি আয় করতে পারেন।
এ ক্ষেত্রেও ফিক্সড অঙ্কের পরিবর্তে বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। প্রোডাক্টিভিটি ইনসেনটিভ, ফ্লাইটের রুট এবং ফ্লাইং আওয়ারের কারণে এক মাসের সঙ্গে অন্য মাসের আয়েও পার্থক্য হতে পারে।
অর্থাৎ, একজন কেবিন ক্রুর রোস্টারে যত বেশি ফ্লাইট ও ফ্লাইং অ্যাক্টিভিটি থাকবে, তার মোট মাসিক উপার্জনও ততটা পরিবর্তিত হতে পারে।
সিনিয়র পদে বেতন আরও বেশি
কেবিন ক্রুদের ক্যারিয়ারে পদোন্নতির সঙ্গে দায়িত্ব বাড়ে, আর তার সঙ্গে বাড়তে পারে আয়ও।
এভিয়েশন এ টু জেড-এর তথ্য অনুযায়ী, লিড কেবিন অ্যাটেনডেন্ট বা ইনফ্লাইট সুপারভাইজার-এর মতো সিনিয়র পদে থাকা কর্মীরা মাসে প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার রুপি আয় করতে পারেন।
বিশেষ করে ব্যস্ত ফ্লাইট সূচি কিংবা বেশি দায়িত্বের সময়ে এই আয়ের পরিমাণ হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ফ্লাইং অ্যাক্টিভিটি ও দায়িত্বের ধরন অনুযায়ী মাসিক উপার্জনে পরিবর্তন হতে পারে।
ইন্ডিগোর অফিসিয়াল তথ্য কী বলছে?
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইন্ডিগো তাদের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার তথ্যের পাতায় কেবিন ক্রু পদের জন্য নির্দিষ্ট বেতন উল্লেখ করেনি। তাই ওপরের বেতনসীমাগুলোকে প্রতিবেদনভিত্তিক আনুমানিক আয় হিসেবে দেখা উচিত।
ইন্ডিগোর তথ্য অনুযায়ী, কেবিন ক্রু হিসেবে ফ্লাইং শুরু করার আগে প্রার্থীদের তিন মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হয়।
এয়ারলাইন্সটি আরও জানিয়েছে, কেবিন ক্রু পদে যোগ দিতে আগের কেবিন ক্রু অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় যোগ্যতা পূরণ করতে পারলে এ পেশায় একেবারে নতুনরাও ক্যারিয়ার শুরু করার সুযোগ পেতে পারেন।
সব মিলিয়ে, ইন্ডিগোর কেবিন ক্রুদের আয় শুধু মূল বেতনের ওপর নির্ভর করে না। অভিজ্ঞতা, ফ্লাইং আওয়ার, রুট, রোস্টার, ইনসেনটিভ ও দায়িত্বের স্তর সবকিছু মিলিয়েই একজন কর্মীর প্রকৃত মাসিক উপার্জন নির্ধারিত হতে পারে।









