ফ্রান্সে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউনেস্কোর ৪৩তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি খন্দকার মোহাম্মদ তালহাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। আগামী ৩ অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাকে ফ্রান্সে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত (গ্রেড-১) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী খন্দকার মোহাম্মদ তালহাকে তার অবসর-উত্তর ছুটি ও এ-সংক্রান্ত সুবিধা স্থগিত এবং অন্য কোনও পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের অক্টোবরে ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা সংস্থাটির ৪৩তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। প্যারিসে ইউনেস্কোর নির্বাহী পরিষদের ২২২তম অধিবেশনে অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি নির্বাচিত হন।
বাংলাদেশের ৫৩ বছরের ইউনেস্কো সদস্যপদের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তিনি সংস্থাটির সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি দুই বছর এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন।
খন্দকার তালহা বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক। তিন দশকের বেশি কূটনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই কর্মকর্তা ১৯৯৫ সালে ১৫তম ব্যাচের সদস্য হিসেবে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেন। অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী তালহা নিউইয়র্ক, তেহরান, জেনেভা ও লন্ডনে বাংলাদেশ মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদর দফতরে তিনি রাষ্ট্রাচার প্রধান এবং পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল অনুবিভাগের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালে তাকে ফ্রান্স, মোনাকো ও আইভরি কোস্টে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং ইউনেস্কোতে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক সাফল্যেও তার ভূমিকা রয়েছে। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ইউনেস্কোর নির্বাহী বোর্ড এবং অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষাসংক্রান্ত আন্তঃসরকারি কমিটিসহ ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয়লাভ করে। ‘ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র’কে বাংলাদেশের অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
এ ছাড়া শিক্ষা-সংক্রান্ত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-৪ বাস্তবায়নে উচ্চপর্যায়ের স্টিয়ারিং কমিটির শেরপা হিসেবে টানা দুই মেয়াদে নির্বাচিত হন তালহা। শিক্ষা-সংক্রান্ত লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিম্ন ও নিম্নমধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য বৈশ্বিক তহবিল গঠনের বিভিন্ন আলোচনায়ও তিনি অংশ নেন। ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির বৈচিত্র্য সম্পর্কিত আন্তঃসরকারি কমিটি এবং বেসরকারি অংশীদারদের পর্ষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।









