জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেওয়ার পর ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার কথা রয়েছে তার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, মূলত ব্যয় কমাতে সফর সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সেখানে সংবর্ধনার অনুষ্ঠানও বাতিল করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনাতেও অংশ নেবেন তিনি।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চারনভিরাকুল, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ আল-খালেদ আল-সাবাহ, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভি এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরেস, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টনিও কোস্তা, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এবং বোয়িং গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ব্রেন্ডন নেলসনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশের আরও ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েও চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।
সফরকালে ২৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া নৈশভোজেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও আকাঙ্ক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্কে তার খুব ব্যস্ত সময়সূচী থাকবে। সাধারণ পরিষদের ফাঁকে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।’
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সাইডলাইন ইভেন্ট হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সফরের অংশ হিসেবে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের সাইডলাইন ইভেন্ট হবে। এটি আমাদের জন্য একটি বড় অগ্রাধিকার।’
জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশন নিয়ে আলোচনা হবে কিনা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সফরকালে সরকার বৃহত্তর রোহিঙ্গা সংকটের দিকে নজর দেবে।
তারেক রহমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠকের সম্ভাবনা সম্পর্কে হুমায়ূন কবির বলেন, বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রায়ই শেষ মুহূর্তে এ ধরনের আলোচনা চূড়ান্ত করা হয়।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়া।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে ২০২৪ সালের ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পরে গণতন্ত্রের প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির রূপরেখা তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জুলাইয়ের আন্দোলনের পরে সরকারের প্রতিশ্রুতি, বিশেষত নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা তুলে ধরতে পারেন।
ওই কর্মকর্তা জানান, আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুসারে জনগণের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য তার সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং প্রচেষ্টা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। গত ছয় মাসে সংসদে পাস হওয়া বিলসহ ক্ষমতায় আসার পর থেকে তার সরকার কর্তৃক গৃহীত পদ্ধতিগত সংস্কার ও উদ্যোগের রূপরেখাও তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তার সরকারের মিশন, ভিশন ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা তুলে ধরবেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ৮১তম সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তার জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং উন্নয়নের অগ্রাধিকার উপস্থাপনের সুযোগ দেবে।
তিনি বলেন, ‘এটি একটি নতুন যাত্রা, একটি নতুন সম্ভাবনা এবং একটি নতুন আকাঙ্ক্ষা চিহ্নিত করে।’
শামা ওবায়েদ বলেন, সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতি প্রধানমন্ত্রীর সম্পৃক্ততার দিকনির্দেশনা দেবে এবং বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে উপস্থাপন করার ওপর জোর দেবে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বিশেষ নজর পাবে এবং সাধারণ পরিষদের সময় প্রধানমন্ত্রীকে সম্পৃক্ত করে একটি নিবেদিত অধিবেশনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।









