২০১৩ সালে সংঘটিত রানাপ্লাজা ট্রাজেডির পর পোশাক খাতের সুশাসন নিশ্চিতে সরকার ও বিভিন্ন পক্ষের বহুমুখী উদ্যোগের ২৩ শতাংশে ধীরগতি দেখা দিয়েছে এবং ৭৭ শতাংশ উদ্যোগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ধানমণ্ডির নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এ তথ্য জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে ‘তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন: অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মনজুর ই খোদা। এসময় পোশাক খাতে বিদ্যমান বিবিধ চ্যালেঞ্জ উত্তরণে সরকারের কাছে ১০ দফা সুপারিশও করা হয়।
প্রতিবেদনে টিআইবি জানায়, ২০১৩ সালে সংঘটিত রানাপ্লাজা ট্রাজেডির পর তৈরি পোশাক খাতের সুশাসন নিশ্চিতকরণে সরকার ও বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের বহুমুখী ১০২টি উদ্যোগের মধ্যে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৭৭ শতাংশ উদ্যোগের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অর্জন সম্ভব হয়েছে তবে অবশিষ্ট ২৩ শতাংশ উদ্যোগের ক্ষেত্রে ধীরগতি এবং কোন কোন ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন স্থবির হয়ে পড়েছে।
আরও পড়তে পারেন:
সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে যাচ্ছে ইসলামী ব্যাংক
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, গত তিন বছরে অর্জিত অগ্রগতি ধরে রাখা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহের বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে সকল অংশীজনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় সাধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তৈরি পোশাক খাতে গৃহীত উদ্যোগকে বাস্তবায়ন ও সুশাসন নিশ্চিতকরণে টিআইবির উল্লেখযোগ্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে, তৈরি পোশাক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কেন্দ্রীভূত তদারকি ও সমন্বয়ের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন, যে সকল কারখানা বিজিএমইএ বা বিকেএমইএ’র সদস্য নয় তাদের টেকনিক্যাল কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ, শ্রমিক কল্যাণ তহবিল গঠন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা, এবং তা দ্রুত বাস্তবায়ন, রানা প্লাজা ও তাজরিন দুর্ঘটনায় দায়েরকৃত বিভিন্ন মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।
এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপ-নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান এবং সহকারী প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হুদা মিনাসহ প্রমুখ।
আরও পড়তে পারেন:
নওগাঁয় দেশের সবচেয়ে বড় চুনা পাথরের খনির সন্ধান
/এমও/







