বাংলাদেশে সুষ্ঠু শ্রম অধিকার চায় পশ্চিমা বিশ্ব

শেখ শাহরিয়ার জামান
১১ মে ২০১৬, ১০:১৩আপডেট : ১১ মে ২০১৬, ১০:২০

শ্রম অধিকার বিষয়ে সব জায়গায় একই আইন চায় পশ্চিমা বিশ্ব

একই দেশে শ্রম অধিকার বিষয়ে দুই রকম আইন কেন, সে বিষয়ে সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের কর্মকর্তারা। দেশের সব জায়গায় যেন একই আইন প্রয়োগ হয় এ বিষয়ে সরকারকে অনুরোধও জানিয়েছেন তারা।

সরকার ২০১০ সালে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন প্রণয়ন করে। এর একটি ধারায় বলা হয়েছে, এই আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের শ্রমিকরা শ্রমিক কল্যাণ সমিতি ও ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার পাবেন। কিন্তু প্রচলিত শ্রম আইনে শ্রমিকদের শুধু ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার দেওয়া আছে।

আরও পড়ুন:  বাংলাদেশে সুষ্ঠু শ্রম অধিকার চায় পশ্চিমা বিশ্ব শীর্ষ চার 'জামায়াত গুরুর' বিদায়

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ আমাদের কাছে এ আইনের ব্যাখ্যা চেয়েছে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশের শ্রম পরিবেশের ওপর পশ্চিমা বিশ্বের আগ্রহ বাড়ছে এবং তারা এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে  শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে যাচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, গত জানুয়ারিতে তৈরি পোশাক শিল্পের কর্ম পরিবেশের উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের মধ্যে কমপ্যাক্ট সাসটেইনেবিলিটি বৈঠক হয়।সেখানে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। গত মাসে পশ্চিমা বিশ্বের পাঁচজন রাষ্ট্রদূত ও বাংলাদেশের তিন সচিবের মধ্যকার সর্বশেষ বৈঠকেও এ প্রসঙ্গ উঠে এবং এ বিষয়ে সরকার কী করেছে তা জানতে চাওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, নেদারল্যান্ডস ও কানাডার রাষ্ট্রদূত এবং বাণিজ্য সচিব, শ্রম সচিব এবং পররাষ্ট্র সচিব ওই বৈঠকে অংশ নেন।

আরও পড়ুন:  বাংলাদেশে সুষ্ঠু শ্রম অধিকার চায় পশ্চিমা বিশ্ব পাবনার সাঁথিয়ায় নিজামীর দাফন সম্পন্ন

ওই কর্মকর্তা বলেন, পশ্চিমা কর্মকর্তারা অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য আইনি কাঠামোর পরিবর্তন করে সেখানে শ্রমিক সমাবেশ করার অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে শ্রমিক কল্যাণ সমিতি আর ট্রেড ইউনিয়ন প্রায় একই ।

২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পরে শ্রমিকদের অধিকার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। এরপরে ওই বছর জুলাই মাসে বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার মধ্যে শ্রমিকদের সুরক্ষা,নিরাপত্তা ও অধিকারের বিষয় নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার জন্য কমপ্যাক্ট সাসটেইনেবিলিটি অনুমোদন করা হয়।পরে বাংলাদেশে পশ্চিমা বিশ্বের পাঁচজন রাষ্ট্রদূত ও তিন সচিবকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

/এসএসজেড/এফএস/ এমএসএম/ আপ- এপিএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের