ফিলিস্তিনে যারা নারী ও শিশু হত্যা করেছেন, বিএনপি সেই ইসরায়েলিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন লন্ডন সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘রতনে রতন চেনে‘। ইসরায়েলের মতো বিএনপি-জামায়াত জোট ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসের পর থেকে আওয়ামী লীগ উৎখাতের নামে সাধারণ মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। মঙ্গলবার (১৭ মে) লন্ডনের হোটেল তাজে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন সাধারণ মানুষ বিএনপি-জামায়াতের এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করছে, তখন এই জোট দেশে শুরু করেছে গুপ্ত হত্যা, ইমাম হত্যা, পুরোহিত হত্যা। জোটটি আওয়ামী পরিবারের সদস্য জুলহাজকেও হত্যা করেছে। বিএনপি-জামায়াতের কোনও ধর্ম নেই, তারা পাক হানাদার বাহিনীর মতো একই কায়দায় হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছেন।
১৯৮১ সালের এই দিনে লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছিলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর যখন আওয়ামী লীগের নাম কেউ নিতে পারত না, আমি তখন লন্ডনের বিভিন্ন শহরে দল পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখি। শেখ রেহানা প্রথম সুইডেনে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেন প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেই সময়ের সহযোগিতার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে পাকপ্রেমীদের হাত থেকে রক্ষা করতেই দেশে ফিরে গিয়েছিলাম।
বাংলাদেশ এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দেশ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করেছি। যারা মানবতাবিরোধীদের হাতে বাংলাদেশের পতাকা তুলে দিয়েছিলেন, তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে।
বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যপী যখন মন্দা চলছে, বাংলাদেশে তখন জিডিপি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। কেউ কোনওদিন চিন্তা করতে পারেনি বাংলাদেশে ৩ লাখ কোটি টাকার বাজেট করা সম্ভব হবে। যার মধ্যে ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা শুধু উন্নয়ন বাজেট।
আরও পড়তে পারেন: তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৮ হাজার ৪০ কোটি টাকা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে একজন লোকও গৃহহারা থাকবেন না। বর্তমানে ২ লাখ ৮০ হাজার ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীকে অন্তত একটি করে টিনের ঘর তৈরি করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আমার স্বপ্ন।
দুদিনের ব্যক্তিগত সফর শেষে বুধবার স্থানীয় সময় ভোর ৫টায় বুলগেরিয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন প্রধানমন্ত্রী। বুলগেরিয়ায় গ্লোবাল ওমেন লিডার্স ফোরামে যোগ দিয়ে আগামী ২১ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে ফেরার কথা রয়েছে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন দলের যুক্তরাজ্য শাখার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক।
/এমএনএইচ/







