সুষ্ঠু পরিকল্পনা, সমন্বয় ও সচেতনতা সৃষ্টির অভাবে ঢাকা সিটি করপোরেশনের (উত্তর ও দক্ষিণ) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা কাজে আসছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনগণকে প্রস্তুত না করে কোনও উদ্যোগই সফল হয় না। রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জনসচেতনতা বাড়ানো না গেলে এটিও সফল হবে না। এ জন্য সঠিক প্রচারের প্রয়োজন আছে বলে মনে করছেন তারা।
পরিবেশ অধিদফতরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো.আবদুস সোবহান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রতিদিন ঢাকা শহর থেকে ৮ হাজার টন গৃহস্থালি, শিল্প, বাণিজ্যিক, হাসপাতাল ও দালান-কোঠার পরিত্যক্ত বর্জ্য বের হয়। দুই সিটি করপোরেশন মিলে শতকরা ৬০ শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহ করে। বাকি ৪০ শতাংশ বর্জ্য খাল-বিল ও নদী-নালার মধ্য দিয়ে চলে যায়। তাই রাজধানী ঢাকার প্রায় অধিকাংশ খাল-বিল বর্জ্যে ভরে গেছে। ফলে ভয়াবহ আকারে পরিবেশ দূষণ ও মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে।
আরও পড়তে পারেন: সেই চেনা অচেনা ‘বেগম’
তিনি আরও বলেন, বর্জ্যের দুর্গন্ধ মানুষের নিঃশ্বাস দিয়ে ফুসফুসে প্রবেশ করছে। ফলে বায়ু দূষণে মানুষ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আবার হাসপাতালের বর্জ্য সাধারণ ডাস্টবিনে ফেলার কারণে এর ভয়াবহতা আরও বাড়ছে। তাই স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি কমছে না।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ‘ট্রান্সফার স্টেশন’ এর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মো.আবদুস সোবহান বলেন, রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের বিপরীতে বর্জ্য পারাপারের জন্য ‘ট্রান্সফার স্টেশন’ করা হয়েছে। যেখানে আমরা বিশুদ্ধ নিঃশ্বাস নেবো, সেখানকার পরিবেশের চরম বিপর্যয় হচ্ছে।
অভিযোগ করে তিনি বলেন, রাজধানীর বর্জ্য আমিন বাজার ও মাতুয়াইলের ‘স্যানেটারি ল্যান্ড ফিল্ডে’ নিয়ে প্রক্রিয়াকরণ করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। ফলে ওই বিষাক্ত বর্জ্য ভূগর্ভস্থ পানিকে দূষিত করছে। তাই নগরবাসীরা সচেতন ও পরিচ্ছন্ন চিন্তা না করলে ‘ক্লিন সিটি’ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, বাংলাদেশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কলম্বোর পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারে। কলকাতা ও বোম্বে একই পদ্ধতি অনুসরণ করে সফল হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জাইকার অর্থায়নে রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কাজ হচ্ছে। জাতিগতভাবেই আমরা অপরিচ্ছন্ন। তাই বর্জ্য ও রোগ জীবাণুর বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। পরিবেশ মন্ত্রণালয় শহরগুলোর ‘সমর্থক’ হিসেবে কাজ করতে পারে। জনগণকে প্রস্তুত না করে কোনও উদ্যোগ নিলে তা বাস্তবায়ন হবে না বলেও উল্লেখ করেন এই অধ্যাপক।
আরও পড়তে পারেন: কূটনৈতিক পাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার, বিজিবির টহল অব্যাহত
বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুজ্জামান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশন রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কাজ করতে পারে। তাহলে সারা রাতের মধ্যেই প্রতিদিনের বর্জ্য পরিস্কার হবে।
জাইকার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে অধ্যাপক কামরুজ্জামান বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জাইকার কার্যক্রম শুরু হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সাধারণ জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধিতে ও রোগমুক্ত সিটি গড়তে ওয়ার্ড কাউন্সিলরাও প্রচারের কাজে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়তে পারেন: ছাত্রদলে চলছে শেষ মুহূর্তের কমিটি বাণিজ্য!
/এসআইএস/এমও/ এমএসএম /








