প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও তার তথ্য উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির নেতা মেন্দি এন সাফাদির বৈঠকের কথা অস্বীকার করেছে আওয়ামী লীগ। দলটির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, জয়কে জড়িয়ে মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে বৈঠকের কথা বিএনপির সাজানো নাটক।
শনিবার (২৮ মে) আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ। তিনি পঞ্চম ধাপে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন। হানিফ বলেন, কিছু বিছিন্ন ঘটনা ছাড়া পঞ্চম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও সুষ্ঠু হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি এ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল।
বিবিসিতে প্রকাশিত বৈঠকের সংবাদটি নিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, বিভিন্ন মিডিয়ার বদৌলতে এ খবরটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপির নেতারা লন্ডনে বসে সাফাদির সঙ্গে জয়ের বৈঠক হয়েছে এ নাটক সাজাচ্ছে। বিএনপির নেতা আসলাম চৌধুরী আটক হওয়ার পর তারা যে সরকার উৎখাতের গভীর ষড়যন্ত্র করছিল, তার বিভিন্ন তথ্য ফাঁস হয়েছে। এ জন্যই জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নিতে নাটক সাজানো হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে বিএনপি ইসরায়েলকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র করছে।
তিনি বলেন, সাক্ষাৎকারটি আমি দেখেছি। এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিএনপির লন্ডন প্রবাসী এক নেতা জেকব মিল্টন। সাক্ষাৎকারটিতে মিল্টন অনেকটা ইচ্ছা করেই সাফাদিকে প্রশ্ন করেন এর আগে আপনার সঙ্গে বাংলাদেশের কারও সাক্ষাৎ হয়েছে কী না? সাফাদি জবাবে বলেছেন হয়েছে। তার এ ধরনের প্রশ্নে বোঝা যায় এটি সাজানো।
বিবিসির কোনও রিপোর্টার এই সাক্ষাৎকার নেয়নি দাবি করে হানিফ বলেন, বিবিসি একটি ভিডিও বার্তা থেকে তথ্য নিয়ে রিপোর্ট করেছে। বিবিসির মত একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করবে, এটি দুঃখজনক। তিনি বলেন, বিবিসির কাছে আমরা প্রতিবাদ লিপি পাঠাবো।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার (২৭ মে) বিবিসি বাংলা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির নেতা মেন্দি এন সাফাদির চার/পাঁচ মাস আগে ওয়াশিংটনে একটি বৈঠক হয়েছে দাবি করে একটি সংবাদ প্রকাশ করে। সেখানে সাফাদির একটি সাক্ষাৎকারও প্রকাশ করা হয়। এই বৈঠকের পটভূমি ব্যাখ্যা করে মেন্দি এন. সাফাদি জানান, ৪/৫ মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে সাফাদি তার এক বন্ধুর মাধ্যমে জয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সাফাদি বলেন, তিনি যখন শেষবার ওয়াশিংটন ডিসিতে যান, সে সময় একজন আমেরিকান বন্ধু দুজনের মধ্যে এই বৈঠকটির আয়োজন করেন। ওই বন্ধু তাকে জানান, যার সঙ্গে দেখা হবে তিনি বাংলাদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। এরপর তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে সজীব ওয়াজেদের অফিসে যান। সাক্ষাতের শুরুতে মি. ওয়াজেদ তাকে বলেন যে, তিনি বাংলাদেশে একজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি। কিন্তু সজীব ওয়াজেদ যে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সাফাদি তখনও তা জানতেন না বলে উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন:
বিচ্ছিন্ন সহিংসতায় ভোটগ্রহণ শেষ, নিহত ৬
বাড়বে শতভাগ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা
‘শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয়ে মানুষের আস্থা নেই’
পিএইচসি/এপিএইচ/








