বিনা পরোয়ানায় আটক ও পুলিশ হেফাজতে রিমান্ড চাওয়া নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পরও পাল্টায়নি দৃশ্যপট। এরইমধ্যে বিনা পরোয়ানায় আটক যেমন হয়েছে, তেমনই পুলিশ রিমান্ড আবেদন নিয়ে আদালতে হাজিরও হয়েছে। এদিকে, পুলিশের সর্বোচ্চ কর্মকর্তারা আদালতের আদেশ মেনে চলার কথা রায়ের দিনই ঘোষণা করলেও মাঠ পর্যায়ে কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় আইজিপির নির্দেশের পরের দিন ২৫ মে খাগড়াছড়িতে দুজনকে ৫৪ ধারায় আটক দেখানো হয়। তবে গত সপ্তাহে পুলিশ রিমান্ড না চাইলেও গত রবিবার অভিনেতা মাহিয়া মাহির বিয়ের পরপর তার স্বামী দাবি করে ফেসবুকে ছবি আপলোড করার অভিযোগে মাহির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে কথিত স্বামী শাওনকে রবিবার (২৯ মে) গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। বর্তমানে শাওন দু’দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। মঙ্গলবার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
এর আগে গত মঙ্গলবার (২৪ মে) বিনা পরোয়ানায় আটক ও রিমান্ড সংশোধনী বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় ঘোষণা হয়, যেখানে ৫৪ ধারায় আটক করা যাবে না এবং রিমান্ডে নিলে কারাগারে কাচের ঘরে জিজ্ঞাসাবাদের কথা উল্লেখ আছে।
এই রায়ের পরপরই সেটা মেনে চলতে পুলিশের প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ও আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকের নির্দেশনা থাকলেও এমন কাজ অব্যাহত রাখার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ৫৪ ধারার একেবারে সুফল ও কুফল দুটোই আছে। আরও বহু ধারা আছে, চাইলেই যেগুলোর অপব্যবহার করা যায়। সন্দেহভাজনদের গ্রেফতারে পুলিশের ধারার অভাব নেই। আর এখনও পর্যন্ত আদালতের পূর্ণাঙ্গ আদেশ পাওয়া যায়নি। সেটা পেলে রিমান্ডের ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হবে।
এদিকে, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মনে করেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ে কিছু সংশোধনী এবং পর্যবেক্ষণ থাকবে বলে আদালত জানিয়েছেন, সেহেতু আমাদের একটু অপেক্ষা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার সংক্রান্ত ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা সংশোধনের বিষয়ে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় বের না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনও ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তো আমার অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছি আপিল বিভাগ বলেছেন কিছু মোডিফিকেশন করবেন। সেই মোডিফিকেশন না আসা পর্যন্ত আমরা সংশোধনের পদক্ষেপ নেব না। আর ততোদিন পুলিশের কাজ চালিয়ে যেতে বিধিনিষেধ নেই।
এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মনে করেন, হুট করে গুরুতর অপরাধীদের ধরার একটা উপায় থাকা জরুরি। তিনি বলেন, আগে থেকে মামলা করে সব সময় আসামিকে ধরা সম্ভব নয়। এ কারণে ৫৪ ধারায় আসামি গ্রেফতার করা হয়। যদি তা না করা হতো তবে আসামি পালিয়ে যাবে। এর আগে এ ধরনের বহু উদাহরণ আমাদের সামনে আছে। আমি মনে করি, সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আপিল বিভাগ রায় দেবেন।
হাইকোর্টের যুগান্তকারী নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, আটকাদেশ (ডিটেনশন) দেওয়ার জন্য পুলিশ কাউকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করতে পারবে না। কাউকে গ্রেফতার করার সময় পুলিশ নিজের পরিচয়পত্র দেখাতে বাধ্য থাকবে এবং গ্রেফতারের কারণ একটি পৃথক নথিতে লিখতে হবে। গ্রেফতারকৃতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলে তার কারণ লিখে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে ডাক্তারি সনদ নিতে হবে পুলিশকে। গ্রেফতারের তিন ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারকৃতকে এর কারণ জানাতে হবে। বাসা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যস্থান থেকে গ্রেফতার করা হলে এক ঘণ্টার মধ্যে তার নিকটাত্মীয়কে টেলিফোন বা বিশেষ বার্তাবাহক মারফত বিষয়টি জানাতে হবে। গ্রেফতারকৃতকে তার পছন্দসই আইনজীবী ও নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে পরামর্শ করতে দিতে হবে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের (রিমান্ড) প্রয়োজন হলে ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে কারাগারের অভ্যন্তরে কাচের তৈরি বিশেষ কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। তবে কারাগারে জিজ্ঞাসাবাদে প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া না গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশক্রমে সর্বোচ্চ তিনদিন পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে ম্যাজিস্ট্রেট সঙ্গে সঙ্গে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করবেন এবং পুলিশ হেফাজতে বা কারাগারে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি মারা গেলে সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ ম্যাজিস্ট্রেটকে জানাতে হবে।
আরও পড়ুন:
মহিবুরের ফাঁসি, মজিবুর ও রাজ্জাকের আমৃত্যু কারাদণ্ড
সিম বন্ধ থাকায় ধানমণ্ডিতে এয়ারটেলের কাস্টমার কেয়ারে চড়াও গ্রাহক
অনিবন্ধিত সিম বন্ধ: কাস্টমার কেয়ারে ভিড়
এপিএইচ/








