ইসলাম রক্ষার নামে কোনও সন্ত্রাসী কাজকে আমরা সমর্থন করি না, ইসলামে সন্ত্রাসের কোনও জায়গা নেই, ইসলাম শান্তির ধর্ম। এ কারণে এই ফতোয়ার পক্ষে আমাদের অবস্থান।জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটা ভালো উদ্যোগ।আমি স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই ফতোয়ায় স্বাক্ষর করেছি, বললেন রামপুরা জাতীয় মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষিকা সাকেরা মাহমুদ।
সাকেরা মাহমুদের সঙ্গে একমত পোষণ করলেন আরেক শিক্ষিকা জয়নাব আক্তার, শিক্ষার্থী হুমায়রা সিদ্দিকা, হালিমাতুস সাদি এবং তামান্না আফরিন। স্বাক্ষরদাতাদের মধ্যে রামপুরা জাতীয় মহিলা মাদ্রাসার আলেমা তানজিলা আফরিন, উম্মে হাফছা, আমেনা, কুলসুম রিমা, খাদিজাতুল কুবরা, তানজিম তাসফিয়া দিনা, আনিকা আহাদ, ফাতেমা খাতুনসহ রয়েছেন প্রায় ১০০ জনের মতো আলেমা। সবাই বললেন,আমরা জেনে বুঝে এই ফতোয়ায় স্বাক্ষর করেছি। কারণ, ইসলামে জঙ্গিবাদের কোনও স্থান নেই।এই কারণেই আমাদের মাদ্রাসার সব নারীরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।
উল্লেখ্য,শোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব আল্লামা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জমিয়তুল ওলামা আজ শনিবার (১৮ জুন) জঙ্গিবিরোধী এই ফতোয়া প্রকাশ করেছে। ফতোয়ায় লক্ষাধিক আলেম ও মুফতি ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ ও আত্মঘাতী হামলাকে ‘হারাম’ বলে আখ্যায়িত করেছেন ।পুরুষ ও নারী মিলিয়ে মোট ১ লাখ ১ হাজার ৮৫০ জন আলেম ও মুফতি ফতোয়ায় স্বাক্ষর করেছেন। এর মধ্যে স্বাক্ষরকারী নারী আলেমের সংখ্যা ৯ হাজার ৩২০ জন ।
সাকেরা মাহমুদ বলেন, ঈমানি দায়িত্ব হিসেবে জঙ্গিবাদবিরোধী এই ফতোয়ায় স্বাক্ষর করেছি। যে জঙ্গিবাদের তৎপরতা বাংলাদেশে শুরু হয়েছে, এর সঙ্গে আইএস কিংবা যে ভাষাতেই বলা হোক না কেন, এগুলোর কোনোটাই কোরআন হাদিস সমর্থন করে না। বরং কোরআন হাদিসে জঙ্গিবাদের কোনও স্থান নেই।
তিনি আরও বলেন, গুপ্তহত্যা, যেখানে সেখানে মানুষকে মেরে ফেলা আমাদের ধর্মে নেই। কেউ একজন হয়তো দোষ করেছে, কিন্তু তাই বলে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার জন্য ইসলাম কাউকেই অনুমতি দেয়নি।তার জন্য সরকারের কাছে প্রতিবাদ করতে হবে এবং সঠিক বিচারের জন্য আমাদের সোচ্চার থাকতে হবে।
সাকেরা মাহমুদ বলেন, ইসলামবিরোধী লেখালেখির জন্য কতজন ব্লগারকে মেরে ফেলা হলো।আমি তাদের জিজ্ঞেস করতে চাই, এই মেরে ফেলার দায়িত্ব কি ইসলাম তাদেরকে দিয়েছে, ইসলামে কি কোথাও এমন কথা লেখা আছে। তিনি যদি নাস্তিকও হন, যদি কোরআন হাদিসের বিরুদ্ধে লেখেন, রাসুল (স.)কে নিয়ে কটাক্ষ করেন তাহলে তিনি মুরতাদ, তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে। কিন্তু এই শাস্তি কোনও মানুষ নিজ হাতে দিতে পারবেন না।আইন অনুযায়ী সরকার এ ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেবে।কোরআন হাদিস কাউকে আইন হাতে তুলে নিতে বলে না, বলেন সাকেরা মাহমুদ।
জাতীয় মহিলা মাদ্রাসার আরেক শিক্ষিকা জয়নাব আক্তার বলেন, যে ব্যক্তি ইসলাম সম্পর্কে জানেন, তিনি বলতে পারবেন, ইসলাম, ইসলামি আইন, ইসলামি শাসনতন্ত্র এসব কিছু জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না। কোনও সুস্থ বিবেক এগুলোকে সমর্থন করে না।
জয়নাব আক্তার বলেন, কে বা কারা এগুলো করছে আমরা জানি না।ইসলাম রক্ষার নামে রাস্তা অবরোধ, লাঠি মিছিল, গাড়ি ভাঙচুর মানুষ মারা,ইসলাম এগুলো সমর্থণ না। রাসুল (স.) এর যুগ থেকে সাহাবীদের আমলেও কোথাও এরকম ঘটনা ঘটে নাই।এটা সম্পূর্ণ সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দেওয়া,বর্বরকাজ।
শিক্ষার্থী তামান্না আফরিন বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইএস দায় স্বীকার করছে, কিন্তু তারা আদৌ আইএস কিনা সেটা আমরা জানি না।আর আইএস যদি দায় স্বীকার করেই থাকে তাহলে আমার প্রশ্ন, আইএস কারা, কাদের সৃষ্টি এই আইএস, দলটা কাদের।আমরা আইএসের কার্যক্রম যা দেখছি তার সঙ্গে ইসলামের কোনও সম্পর্ক নেই। আইএস জায়গায় জায়গায় গুপ্তহত্যা করছে-ইসলাম কী তাদের এই অনুমতি দিয়েছে বলে প্রশ্ন করেন তিনি। আমাদের কাছে এটা খুবই স্পষ্ট যে, এটা ইসরায়েলের বানানো সংগঠন।আমরা একমাত্র কোরআন হাদিস দিয়ে তাদের কাজ জাস্টিফাই করবো, কিন্তু সেখানে বিস্তর ফারাক।এজন্য আমরা আইএসকেও সমর্থন করি না বলেন তামান্না।
এপিএইচ/
আরও পড়ুন:
লাখো ওলামার জঙ্গিবাদবিরোধী ফতোয়া: উদ্যোগকে সাধুবাদ সুশীল সমাজের, হেফাজতে আপত্তি
স্বাক্ষর করেছি, সমর্থন দিয়েছি, তবে কথা আছে: জুনায়েদ বাবুনগরী
জঙ্গিবাদবিরোধী ফতোয়ায় স্বাক্ষর করেছেন যেসব শীর্ষ ওলামা
লাখো আলেমের ফতোয়ায় স্বাক্ষর করেননি ইফাবা ডিজি, বায়তুল মোকাররমের খতিব







