ভারত-বাংলাদেশ তিস্তা চুক্তি হচ্ছেই। দু’দেশের সরকারের মধ্যে কোনও সমস্যা নেই, পশ্চিমবঙ্গ সরকারেরও এখন আর নীতিগত কোনও আপত্তি নেই। শুধু এই প্রস্তাবিত চুক্তিকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের সঙ্গে দর কষাকষি করছেন। রাজ্য সরকারের সদর দফতর ‘নবান্ন’র একটি সূত্র একথা জানিয়েছে। তবে সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই দর কষাকষির বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এর সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও সম্পর্ক নেই।
নবান্ন সূত্র জানায়, তিস্তা চুক্তিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও বাধা দেবেন না, বরং সহযোগিতাই করবেন। যদি কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করে। যে প্যাকেজের দাবি ২০১১ সালে প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই মমতা করে আসছেন। ওই প্যাকেজ দিলে পশ্চিমবঙ্গ আর্থিক ক্ষেত্রে কিছু ছাড় পাবে, বিশেষ করে কেন্দ্রের কাছ থেকে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রতিবছর রাজ্য সরকারকে ধার করতে হয়, তার সুদ কিছুটা মওকুফ হতে পারে। আবার প্যাকেজ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গকে কেন্দ্র বিশেষ আর্থিক সহায়তা দিতে পারে, এককালীন অর্থ সাহায্যও করতে পারে।
আরও পড়তে পারেন: বিএনপি নেতাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র
গত ২৩ জুন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে জানান,বামফ্রন্ট আমলের যে ঋণের বোঝা তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন, আগামী পাঁচবছরে তা অসহনীয় জায়গায় চলে যাবে। চলতি আর্থিক বছর থেকে ২০২০-২১ পর্যন্ত রাজ্য সরকারকে সুদ-আসল মিলিয়ে শোধ করতে হবে আড়াই লাখ কোটিরও বেশি টাকা। এই অবস্থায় ‘ঋণের মরণফাঁদ’ থেকে বের হতে কেন্দ্রের কাছে আর্থিক দাবি আদায়ের জন্য ঋণে জর্জরিত অন্য রাজ্যগুলোকেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী একজোট করতে চান।
বাংলাদেশের মানুষের কাছে বহু প্রতীক্ষিত তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে ভারত-বাংলাদেশ দু’পক্ষের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক শক্ত করার যে লক্ষ্য নরেন্দ্র মোদী ও তার সরকার নিয়েছেন, সেই লক্ষ্যে এগোনোর একটা বড় ধাপ পেরোনো যাবে তিস্তা চুক্তি হলে। ভারতের দিক থেকে দেখলে এই পানি বণ্টন চুক্তি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত সরকার বা নরেন্দ্র মোদীর ভাবমূর্তিই উজ্জ্বল হবে। কিন্তু এতে পশ্চিমবঙ্গের ঝুলিতে কী আসবে? ২০১১ সালে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের আমলে তিস্তা চুক্তি শেষ মুহূর্তে ভেস্তে গিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেঁকে বসায়। এমনকি, ওই বছর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলাদেশ সফরের নির্ধারিত কর্মসূচি থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যাননি।
তখন মমতার যুক্তি ছিল, যে যে শর্তে তিস্তা চুক্তি হতে যাচ্ছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গ বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের কৃষকেরা চরম দুর্ভোগে পড়বেন। কারণ, শুকনো মৌসুমে তিস্তায় এমনিতেই পানি কমে আসে, তার ওপর সেই পানি বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করে নিতে হলে সেচের জন্য পানি পাবেন না জলপাইগুড়ি, কোচবিহারের মতো জেলার কৃষকেরা। এই চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ বিপন্ন হচ্ছে আর সেই জন্যই তিনি তা মানবেন না বলে তখন সাফ জানিয়েছিলেন।
পরে অবশ্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পারেন জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী, এভাবে একটি দেশ তার প্রতিবেশী দেশকে পানি থেকে বঞ্চিত করে রাখতে পারে না। তাছাড়া, মমতার সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পর্কও এখন বেশ ভালো জায়গায়। নবান্নের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন,‘ তিস্তা চুক্তির তাৎপর্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুঝতে পেরেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি কেন্দ্রের সঙ্গে ‘ফেলো কড়ি, মাখো তেল’-এর নীতিতে এগোচ্ছেন। অর্থাৎ, তিস্তা চুক্তি করতে হলে রাজ্যকে কিছু আর্থিক সুবিধে দিতে হবে।”
অারও পড়তে পারেন: মার্কিনিদের কর্মস্থানের সম্ভাবনাকে হত্যা করছেন ট্রাম্প!
/এমও/এমএসএম /







