গুলশান হামলা

নারীদের ওপর বেশি নৃশংস ছিল হামলাকারীরা!

জাকিয়া আহমেদ
১৩ জুলাই ২০১৬, ২১:৩৫আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৬, ২১:৩৫

গুলশান হামলা গুলশানের হলি আর্টিজানে নিহত জিম্মিদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে নৃশংস কায়দায় হত্যা করা হয়। তবে হামলাকারীরা নারীদের ওপর বেশি নৃশংসতা চালায় বলে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন মরদেহের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. সোহেল মাহমুদ।
ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) মর্গে নিহতদের ময়নাতদন্ত করেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘পাঁচ জঙ্গিসহ মোট ২৬ জনের ময়নাতদন্ত করেছি আমরা।’
তিনি জানান, জিম্মি ২০ জনের ময়নাতদন্তের সময় মোট সাত জনের শরীরে আটটি গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। ৬ জনের শরীর থেকে ছয়টি আর বিদেশি একজনের শরীরে দুটি গুলির চিহ্ন পেয়েছি। জিম্মিদের পেছন থেকে ঘাড়ে ও মাথার পেছনে গুলি করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের শরীরে রয়েছে ধারালো অস্ত্রের আঘাত। বাংলাদেশি অবিন্তা কবীরের মাথায় ভারি কিছু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।
সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘ময়নাতদন্তে দেখতে পেয়েছি নারীদের ওপর বেশি নৃশংস ছিল হামলাকারীরা। তাদের ওপর পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে।’
তিনি জানান, নারীদের বুকে, পেটে, হাতে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বেশি।
নারীদের ‘সেক্সুয়ালি হ্যারাস’ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘এ প্রশ্নের উত্তর জানতেই তাদের শরীর থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া যেতে পারে।’

অপরদিকে নিহত জঙ্গিদের ময়নাতদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নিহতদের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে এদের মধ্যে তিনজনের শরীরে বোমার আঘাত বেশি রয়েছে। একজনের শরীরের একপাশ থেঁতলে গেছে, আরেকজনের হাতের কিছু অংশ এবং অন্যজনের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।’

উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশান ২ নম্বরের হলি আর্টিজান বেকারিতে অস্ত্রধারীরা হামলা চালায়। ঘটনার পর অভিযান চালাতে গেলে জঙ্গিদের হামলায় বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল করিম নিহত হন। জঙ্গিরা সেখানে তিন বাংলাদেশি ও ১৭ জন বিদেশি নাগরিককে হত্যা করে। শনিবার সকালে যৌথ বাহিনী সেখানে কমান্ডো অভিযান চালায়। এতে ছয় জঙ্গি নিহত হয়। একজনকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে সেখান থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসে নারী ও শিশুসহ ১৩ জিম্মি।

/এজে/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
অ্যাপে অনুমতি দিচ্ছেন? ঝুঁকিতে পড়তে পারে ব্যক্তিগত তথ্য
অ্যাপে অনুমতি দিচ্ছেন? ঝুঁকিতে পড়তে পারে ব্যক্তিগত তথ্য
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে বানরের দল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে বানরের দল
মাইগ্রেন: হাজার বছরের ধারণা ভেঙে আধুনিক চিকিৎসার নতুন দিগন্ত
মাইগ্রেন: হাজার বছরের ধারণা ভেঙে আধুনিক চিকিৎসার নতুন দিগন্ত
নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারে আইনি সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে যা বললেন মামদানি
নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারে আইনি সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে যা বললেন মামদানি
সর্বাধিক পঠিত
এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নানান প্রশ্ন, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুরের বক্তব্যে অমিল
এমপির ‘দ্বিতীয় বিয়ে’ নানান প্রশ্ন, দ্বিতীয় স্ত্রী ও শ্বশুরের বক্তব্যে অমিল
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, জানা গেলো আসল ঘটনা 
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, জানা গেলো আসল ঘটনা 
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের পথে ইসি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের পথে ইসি
গুজবে তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইন, ট্যাংকি ভর্তি করার হিড়িক, প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি
গুজবে তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইন, ট্যাংকি ভর্তি করার হিড়িক, প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি
আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ভাইরাল, সেই রুনা ডিবির হাতে গ্রেফতার
আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ভাইরাল, সেই রুনা ডিবির হাতে গ্রেফতার