কল্যাণপুরের জাহাজ বিল্ডিংয়ে আস্তানা পাতা ১১ জনের জঙ্গি দলটির ধর্মগুরু ছিলো নিহত আব্দুল্লাহ। প্রশিক্ষক ছিল অপর নিহত রায়হান কবির ওরফে তারেক। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
পুলিশের অতিরিক্ত এই কমিশনার জানান, আব্দুল্লাহ প্রথমে একটি কওমি মাদ্রাসা থেকে দাওরা পাস করে। পরে সরকারি আলীয়া মাদ্রাসাতে থেকে আলিম পাস করে। ধর্ম বিষয়ে অন্যদের চেয়ে ‘ভালো জানে’ বলে ধর্মগুরু হিসেবে দলের সঙ্গে ছিল।
মনিরুল আরও জানান, সর্বশেষ পরিচয় পাওয়া রংপুরের পীরগাছার জঙ্গি রায়হান কবির ওরফে তারেক নির্দেশক ও প্রশিক্ষক হিসেবে দলের সঙ্গে ছিল। তার বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য ছিল। পুলিশ তারেক নামে চিনতো তাকে। তারেক ছদ্ম নামে রায়হান কবির ঢাকা অঞ্চলে জেএমবির জঙ্গি কর্মকান্ডের নির্দেশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতো। এর আগে গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুরের প্রত্যন্ত এক চরে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিতো বলে পুলিশ প্রমাণ পেয়েছে। হুমায়ুন কবির ওরফে তারেক আশুলিয়ার পুলিশ কনস্টেবল মুকুল হত্যা মামলারও আসামি ছিল।
এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, কল্যাণপুর এবং গুলশানে হামলাকারী দুটি জঙ্গি দলের মধ্যে যোগাযোগ ছিল। এই দুই জঙ্গি দলের কর্মকাণ্ডের যারা আর্থিক মদদ ও উস্কানিদাতাদের বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
নিহতদের মধ্যে তিনজন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। এরা হলো সাজাদ রউফ অর্ক, তাজ উল হক রাশিক ও আকিফুজ্জামান খান। আব্দুল্লাহ, আবু হাকিম নাঈম ও মতিয়ার রহমান মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছে। জোবায়ের হোসেন নোয়াখালী সরকারি কলেজের ছাত্র। রায়হান কবির ওরফে তারেক অল্প পড়াশোনা করেছে। কিছুকাল পোশাক কারখানায় কাজ করেছে।
/জেইউ/এইচকে/
আরও পড়ুন: হুজির ৫ হাজার জিহাদি বই জব্দ
৫১ পরিবারকে অর্থসহায়তা দিচ্ছে হুজি
নিহত আরও এক জঙ্গির পরিচয় মিলেছে
'ভদ্র' আকিফুজ্জামান খান জঙ্গি, হতবাক প্রতিবেশীরা








