আবাসিক এলাকা থেকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অপসারণে তাড়াহুড়ো না করে এ বিষয়ে সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক।
তিনি বলেন, চাহিদা আছে বলেই আবাসিক এলাকায় রেস্টুরেন্ট, সেলুন ইত্যাদি গড়ে উঠেছে। তাড়াহুড়া করে এগুলো সরাতে গেলে প্রায় এক লাখ লোক বেকার হয়ে যেতে পারেন। তাই, সবকিছু আমাদের চিন্তা-ভাবনা করেই করা দরকার।
‘আবাসিক এলাকার ভূমি ও ভবন ব্যবহার: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে মেয়র এ সব কথা বলেন।
শনিবার সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট (আইএবি) ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)।
রাজউক চেয়ারম্যান বজলুল করিম চৌধুরী এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
আবাসিক এলাকা থেকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অপসারণে হাইকোর্টের একটি আদেশ সম্পর্কে মেয়র আনিসুল হক বলেন, তিন বছর আগে আপিল বিভাগের রায় হয়েছে। এ সময়ে কী হলো! রাজউক তো চলে মানুষ দিয়েই। আবার বেড়ায়ও ক্ষেত খায়। রাজউকের বেড়ায়ও ক্ষেত খায়, আমাদের বেড়ায়ও খায়। সব বেড়ায় ক্ষেত খাওয়ায় এই তিন বছর আমাদের লস (লোকসান) হলো। আমরা আমাদের কাজ সময় মতো করিনি বলেই আজকে সাত দিনের মধ্যে সব সরানোর কথা উঠেছে।
তিনি বলেন, সরকার তো সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। কিন্তু আমার কথা হলো, আবাসিক এলাকায় এই যে এতগুলো স্কুল, হাসপাতাল, রেস্টুরেন্ট, সেলুন ইত্যাদি হলো, এগুলো একটাও চলতো না যদি চাহিদা না থাকতো। চাহিদা আছে বলেই আস্তে আস্তে এগুলো গড়ে উঠেছে।
মেয়র বলেন, যখনই সমস্যা আসে তখনই আমরা হৈচৈ করি। এরপর আবার অনেক বছর এটা নিয়ে বসা হয় না। এরপর আবারও বিষয়টি আলোচনায় এলো জুলাই মাসের (গুলশান হামলা) ঘটনা দিয়ে। এই ঘটনাটি পুরো চিত্রই পাল্টে দিয়েছে।
আনিসুল হক বলেন, আমি প্রতিটি দোকানে যাই। প্রতিটি রেস্টুরেন্টে যাই। মানুষের বাড়িতে যাই। সব সময়ই বলি, আমাদেরকে কেউ যেন ভয় না দেখান। ভয়ের ঘটনা ঘটছে। সাহস করে এগুতে হবে। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ নয়, ঢাকাই একমাত্র শহর নয়, যেখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। বিশ্বের অনেক দেশেই ঘটছে। এটা একটা কমন ফেনোমেন (সাধারণ প্রবণতা/প্রপঞ্চ) হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের দেশে প্রথম ঘটছে বলেই আমরা একটু বেশি ভয় পেয়ে যাচ্ছি। এই ভয় দেখানো চলবে না।
গুলশান, বনানী ও বারিধারাসহ আশপাশের এলাকায় সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরে মেয়র বলেন, দুটি লেকের পাড় থেকে আবাসিক এলাকায় প্রবেশের ছোট ছোট পথ ছিল। সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বারিধারার পেছনে কালাচাঁদপুরে চারটি প্রবেশপথ ছিল। এসব কমিয়ে একটি প্রবেশপথ করা হয়েছে। গুলশান ও বনানীতে নতুন নতুন গেট নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী ১০ আগস্ট থেকে ৫০০ রঙিন রিকশা ও নতুন বাস চলবে। নতুন সিকিউরিটি গার্ড নিয়োগ করা হচ্ছে। তারমানে আমরা এক ধরনের আবহ সৃষ্টি করতে চাচ্ছি যে, আমরা নিরাপদ।
রাজউকের উচ্ছেদের সমালোচনা করে মেয়র আনিসুল হক বলেন, রাজউক এখন অভিযান চালাচ্ছে। অনেকে আমার সঙ্গে কথা বলছেন। তাদের এত টাকা বিনিয়োগের কী হবে? প্রায় এক লাখ লোকের চাকরি চলে যাবে। তাদের কী হবে? আজ স্কুল বন্ধ করলে কাল ওই বাচ্চারা কোথায় যাবে? নির্বাচিত মেয়র হিসেবে প্রতিনিয়ত আমাকে এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাই, দায়িত্বশীল সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান করতে হবে। এর অর্থ এটা নয় যে, যারা ভুল কাজ করেছেন, তাদের সাপোর্ট (সহায়তা) করা।
তিনি বলেন, আমরা চাই সবকিছু একটা শৃঙ্খলার মধ্যে চলুক।
গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য রাখেন- আইএবি’র সভাপতি স্থপতি ড. আবু সাঈদ এম. আহমেদ, বিআইপি’র সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. একেএম আবুল কালাম, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, এফবিসিসিআই’র সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ প্রমুখ।
মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইএবি’র জেনারেল সেক্রেটারি স্থপতি কাজী এম আরিফ ও বিআইপির জেনারেল সেক্রেটারি পরিকল্পনাবিদ আকতার মাহমুদ। সঞ্চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আইএবির এজিএস স্থপতি মামনুন মুর্শেদ চৌধুরী।
/ওএফ/এবি/
আরও পড়ুন
প্রত্যেক ভাড়াটিয়াকে আইডি নম্বর দেওয়া হবে: ডিএমপি কমিশনার








