বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়া হাইকোর্টের রায় সুপ্রিম কোর্টে বহাল থাকা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য অনন্য উদাহরণ। এর ফলে বিচার বিভাগের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো এবং এ রায়ে গণতন্ত্র নিশ্চিত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘আজকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রশ্নে ঐতিহাসিক রায়। বিচারকদের অপসারণ সংক্রান্ত বিষয়ে এ মামলা। যে আইন করে সংসদের কাছে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল সেটি আজকে বেআইনি ও বাতিল হলো।’
তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের আইন অনুযায়ী এখন থেকে বিচারকদের অপসারণে সুপ্রিম জুডিশিয়ালের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রায়ের বিষয়ে বলতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, সর্বসম্মতি ক্রমে আপিল খারিজ বললে হাইকোর্টের রায় পূর্ণাঙ্গ বহাল হয়। যেহেতু সেই রায়ের কিছু শব্দ বিষয়ে বেশিরভাগ অ্যামিকাস কিউরি আপত্তি তুলেছিলেন সেগুলো ‘এক্সপাঞ্জ’ করে নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন আদালত।
প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এই আইনজীবী বলেন, ‘আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। আইনজীবী ও অধিকাংশ মানুষ মনে করে, যদি বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকতো তাহলে বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারতো না।’
এ রায়ের মধ্য দিয়ে সংসদ ও বিচার বিভাগের মধ্যে কোনও দ্বন্দ্ব তৈরি হলো কিনা প্রশ্নে এই আইনজীবী বলেন, ‘যে কোনও আদালতের বিষয়ে দ্বন্দ্ব হলে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, এটি সংবিধানই বলে দিয়েছে। সেখানে বিরোধের কোনও সুযোগ নেই। বরং যে বিরোধ ছিল সেটি সুরাহা হলো।’ সংসদ সার্বভৌম এই কথাটি কার্যকর থাকছে কিনা-এ প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, ‘এ কথাটি সঠিক নয়। এ বিষয়ে অ্যামিকাস কিউরিরা বিস্তারিত বলেছেন। বিচার বিভাগ বা সংসদ উভয়েই সংবিধানের অধীনে কাজ করে। বরং আর্টিকেল ৭ এ বলা আছে, জনগণ সার্বভৌম। এবং এই ক্ষমতা বলে প্রতিনিধিরা সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করেন।’
এ রায়ে বিচার বিভাগের জয় হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। তিনি রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এ রায় বিচার বিভাগের জয়। দেশে আইনের শাসন থাকলে গণতন্ত্র থাকবে। এদেশের জনগণের অধিকার, আশা আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ।’
সোমবার হাইকোর্টর রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে করা রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করায় বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকছে না।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে দিয়ে সংসদের ষোড়শ সংশোধনী করেছিলেন। সেই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট হয়। হাইকোর্ট সেটি বাতিল করে দিয়েছিলেন। সেই বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের আপিলের পর শুনানি হয়েছে। আজ সর্বোচ্চ আদালত এটিকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। সাতজন বিচারপতির সর্বসম্মতক্রমে প্রধান বিচারপতি এ রায় ঘোষণা করেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সর্বোচ্চ আদালতের ওপরে আস্থা আছে। তারা মনে করে কোনও আদালতে বিচার না পেলেও সর্বোচ্চ আদালতে গেলে বিচার পাবে। এই রায়ে সবাই খুশি হয়েছে। আইনের শাসনের পূর্বশর্ত গণতন্ত্র। আইনের শাসন রক্ষা হলে গণতন্ত্র থাকবে। আইনের শাসনের প্রতি বিশ্বাসীরা এ রায়ে খুশি হয়েছে।
অ্যামিকাস কিউরি আমিরুল ইসলাম রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমার যা বলবার বলেছি। রায় শুনেছেন, রায়ে বলেছেন কিছু অবজারভেশন এক্সপাঞ্জ করে আপিল খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
/ইউআই/এসটি/
আরও পড়ুন: ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ







