ডেঙ্গু প্রতিরোধে কমিটি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:৩৯, ডিসেম্বর ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪১, ডিসেম্বর ২২, ২০১৯

মশা ও ক্ষতিকর কীট-পতঙ্গের বিস্তার রোধে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভাডেঙ্গু বা এডিস মশা ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে (নগর উন্নয়ন) আহ্বায়ক করে একটি কমিটি করা হয়েছে। রবিবার (২২ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলন কক্ষে মশা ও ক্ষতিকর কীট-পতঙ্গের বিস্তার রোধে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কু, সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য অধিদফতর, পরিবেশ অধিদফতর, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী তাজুল ইসলাম সভায় সভাপতিত্ব করেন। তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো এ বছরের মতো আগামী বছর যেন ডেঙ্গুর প্রভাব না থাকে, সে বিষয়ে কাজ কাজ করা। এজন্য আজকের সভায় ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট করার জন্য একটি কমিটি করে দিয়েছি।’

মন্ত্রী জানান, কমিটির আহ্বায়ক স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের সঙ্গে সিটি করপোরেশন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিনিধিসহ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি করা হয়েছে। তারা একটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কীভাবে উন্নত করা যায়, কি করে সারা বাংলাদেশকে মশক নিধন বা ক্ষতিকর কীট-পতঙ্গ থেকে রক্ষা করা যায়, এজন্য একটি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার জন্য পরামর্শ দেবে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘উন্নত বিশ্ব মশা নিধনে কীটনাশক ব্যবহারে সচেতন হচ্ছে। কারণ কীটনাশক ব্যবহারে পরিবেশের ক্ষতি হয়। এজন্য মশা মারতে গিয়ে যেন পরিবেশ নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে দৃষ্টি দিতে হবে। তাই এমন একটি উপায় আমাদের বের করতে হবে যেন মশা কমে এবং পরিবেশ বাঁচে।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘রূপকল্প ২০২১, ২০৪১, এসডিজি অর্জনে মশা ও অন্যান্য ক্ষতিকর কীটমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। এজন্য ডেঙ্গু নিধনে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, মশাসহ অন্যান্য ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ (বায়োলজিক্যাল কন্ট্রোল), কার্যকর ও যথাসম্ভব পরিবেশবান্ধব কীটনাশক প্রয়োগ, নাগরিকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বছরজুড়ে ধারাবাহিকভাবে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি।’

সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ইনট্রিগ্রেটেড ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট কর্মকৌশল বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একইসঙ্গে পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা, রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ, বায়োলজিক্যাল নিয়ন্ত্রণ, কীটনাশকের যথাযথ ও নিরাপদ ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও আবাসস্থল সুরক্ষার কৌশল ও কর্মপন্থা নেওয়া হয়। সেইসঙ্গে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে।

সভায় বক্তারা বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঢাকা মশক নিবারনি দফতরকে একটি অধিদফতরে উন্নীত করতে হবে। ডেঙ্গু বা এডিশ মশা নিধনে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার ব্যবস্থা করা, ভেক্টর কন্ট্রোল সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে হবে। এজন্য একটি অ্যাডভাইজরি বা কারিগরি কমিটি গঠন করতে হবে। জনবল বাড়ানোসহ জনপ্রতিনিধিদের মাঠে নামাতে হবে। এ কাজগুলো সরাসরি মন্ত্রণালয়কে মনিটরিং করতে হবে। কীটনাশকের ক্ষেত্রে দেশে উৎপাদনের ব্যবস্থা করতে হবে।

 

/এসআই/এনআই/

লাইভ

টপ