তিন দশকে ৯ লাখ নারীকর্মী বিদেশ গেছেন: সংসদে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:১৬, জানুয়ারি ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪৭, জানুয়ারি ২১, ২০২০

জাতীয় সংসদ অধিবেশন (ছবি-ফোকাস বাংলা)

গত তিন দশকে ৯ লাখের বেশি নারীকর্মী বিদেশ গিয়েছেন বলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের আবুল কালাম আজাদের প্রশ্নের জবাবে ইমরান আহমদ এ তথ্য জানান।
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।

মন্ত্রী জানান, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুসারে ১৯৯১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ে ৯ লাখ ২ হাজার ৪৮২ জন নারী গৃহকর্মীসহ বিভিন্ন পেশায় বিদেশ গিয়েছেন।

ইমরান আহমদ বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশি কর্মীদের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। গত ২৭ নভেম্বর জয়েন্ট টেকনিক্যাল কমিটির সভায় নারী শ্রমিকদের সুরক্ষার বিষয়ে সৌদি আরব সরকারের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বিদেশগামী নারী কর্মীদের যাচাই বাছাই প্রক্রিয়া তদারকির মাধ্যমে অধিকতর সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ছয় সদস্যবিশিষ্ট ‘বিদেশগামী নারী কর্মী সুরক্ষা সেল’ গঠন করা হয়েছে।

বিএনপির সংসদ সদস্য জিএম সিরাজের প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত ১৭৩টি দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে।

মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে কর্মী পাঠানো বাড়লেও মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশ কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনে ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা কমেছে।

মন্ত্রী জানান, গত বছর মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে ৩ লাখ ৯৯ হাজার কর্মী পাঠানো হয়। ২০১৮ সালে পাঠানো হয়েছিল ২ লাখ ৫৭ হাজার ৩১৭ জন। কাতারে গত বছর ৫০ হাজার ২৯২ জন কর্মী পাঠানো হয়। ২০১৮ সালে কাতারে পাঠানো হয়েছিল ৭৬ হাজার ৫৬০ জন। ২০১৯ সালে কুয়েতে ১২ হাজার ২৯৯ জন কর্মী পাঠানো হয়। এর আগের বছর কুয়েতে পাঠানো হয়েছিল ২৭ হাজার ৬৩৭ জন। বাহরাইনে গত বছর ১৩৩ জন কর্মী পাঠানো হয়েছে। আগের বছর ২০১৮ সালে এ দেশটিতে ৮১১ জন কর্মী পাঠানো হয়েছিল।

ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে গত বছর কর্মী পাঠানো আগের বছরের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে। গত বছর ওমানে ৭২ হাজার ৬৫৪ জন পাঠানো হয়। ২০১৮ সালে ওমানে গিয়েছিলেন ৭২ হাজার ৫০৪ জন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে গত বছর ৩ হাজার ৩১৮ জন পাঠানো হয়। আগের বছর দেশটিতে পাঠানো হয়েছিল ৩ হাজার ২৩৫ জন।

জাতীয় পার্টির সালমা ইসলামের প্রশ্নের জবাবে ইমরান আহমদ জানান, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ে বেকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৬৬ লাখ ৩৩ হাজার ২৫৪ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মী বৈদেশিক কর্মসংস্থান লাভ করেছে এবং ১৫৩ দশমিক ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবর রহমানের প্রশ্নের জবাবে ইমরান আহমদ জানান, বিদেশে কর্মী পাঠানোর সময় প্রতারণা বন্ধ ও প্রতারণার শাস্তির বিধান রেখে ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩’ প্রণয়ন করা হয়। এতে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রতারণার জন্য দায়ী ব্যক্তির অনধিক ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং অন্যূন এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান আছে। এই আইনে অপরাধের মাত্রাভেদে ১০ বছরের সাজার বিধান রয়েছে। বিদ্যমান আইনটি সংশোধনের কার্যক্রম চলমান আছে।

/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ