‘হাতের লেখা খারাপ’ হলেও ছবি আঁকলেন রাজাপাকসে

Send
শেখ শাহরিয়ার জামান
প্রকাশিত : ১৭:৩০, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২৯, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০





ছবি আঁকছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসেবাংলাদেশের কূটনীতিকদের একটি অন্যতম কাজ দেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস বিশ্বের দরবারে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরা। যেন এ দেশের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা সম্পর্কে বিদেশের সাধারণ মানুষ ধারণা পায়। এ লক্ষ্যেই প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। তবে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনটি ছিল একটু ভিন্ন আঙ্গিকে। দেশটির রাজধানী কলম্বোর স্বাধীনতা স্কয়ারে অনুষ্ঠিত আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। ‘হাতের লেখা খারাপ’ হলেও এ সময় তিনি একটি ছবি আঁকার চেষ্টা করেন।


শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘দেশটির প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, তার হাতের লেখা খারাপ।’
শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ দূতাবাস, দেশটির সরকার ও অন্যান্য দেশের দূতাবাস যৌথভাবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের আয়োজন করে। মূল অনুষ্ঠানটি হয় কলম্বোর স্বাধীনতা স্কয়ারে; যেখানে এর আগে শুধু ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার দূতাবাসকে অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যখন স্টেজে পাশাপাশি বসেছিলাম, তিনি আমাকে বলেছেন—বাংলাদেশ দূতাবাসের মতো অন্য কোনও দূতাবাস শ্রীলঙ্কার শিশুদের জন্য এতকিছু করেনি।’
প্রসঙ্গত, প্রতি বছর বাংলাদেশ দূতাবাস শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন ভাষাভাষি শিশুদের মধ্যে সংহতি ও সৌহার্দ্য সৃষ্টির লক্ষ্যে ছবি আঁকা প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।
এক শিশুর মাথায় হাত বোলাচ্ছেন মাহিন্দা রাজাপাকসেরিয়াজ বলেন, ‘এবারে আমরা বাচ্চাদের জন্য শ্রীলঙ্কার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে ছবি আঁকা, কবিতা আবৃত্তি ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ৩৯ জন প্রতিযোগীকে নিজ হাতে প্রায় এক লাখ রুপি পুরস্কার দেন।’
অনুষ্ঠানে একটি আন্তর্জাতিক সংগীতগোষ্ঠী অমর একুশের গানটি পরিবেশন করে; যা সবাইকে মুগ্ধ করে বলে জানান রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহ ধরে দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে সংগীতগোষ্ঠী গানটি অনুশীলনের পর মূল অনুষ্ঠানে পরিবেশন করে।’
উল্লেখ্য, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলি ১৯৯৯ সালে ফ্রান্সে রাষ্ট্রদূত থাকাকালে তার অন্যতম কূটনৈতিক সাফল্য ছিল—বাংলাদেশের জনগণ ভাষার জন্য যে রক্ত দিয়েছিল, সেটিকে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠার জন্য ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের জন্য জাতিসংঘের অনুমোদন লাভ। এর ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর বাংলাদেশের সব দূতাবাস ও অন্যান্য মিশনে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়।

দেখুন ভিডিও...




 

/এসএসজেড/আইএ/এমওএফ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ