শাহজালালে দুর্ভোগে ওমরাহ যাত্রীরা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:৪৯, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২৮, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০

ওমরাহ হজ করার প্রস্তুতি নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে সৌদি সরকারের স্থগিতাদেশ শুনে হতাশ হয়ে পড়েন যাত্রীরা।

করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কায় ওমরাহ পালন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সৌদি আরব। এ সিদ্ধান্তের কারণে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে  হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফিরে আসতে হচ্ছে ওমরাহে গমনেচ্ছুদের। সকাল থেকে কমপক্ষে ৫ টি ফ্লাইটের সহস্রাধিক যাত্রী সৌদি আরব যাওয়ার উদ্দেশে বিমানবন্দরে আসেন। তবে বিমানবন্দরে আসা ওমরাহ গমনেচ্ছুদের তথ্য জানাতে কোনও উদ্যোগ দেখা যায়নি।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে সৌদি আরবের  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওমরাহ পালনে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর ফলে বিমানবন্দরে গিয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে গমনেচ্ছুদের। অনেকে সকাল থেকেই বিমানবন্দরের চেক ইন কাউন্টারে অপেক্ষা করেন।

এয়ারলাইন্সগুলো জানিয়েছে, সৌদি সরকারের এ সিদ্ধান্তের কারণে ওমরাহ যাত্রীদের ফ্লাইটে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সৌদি আরবে যারা কাজ করছেন তারা যেতে পারছেন।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওমরাহ হজযাত্রীদের দুর্ভোগ

এদিকে বিকেলেও ওমরাহে গমনেচ্ছুরা বিমানবন্দরে এসেছেন। কিন্তু, বিমানবন্দরের ভেতরে কাউন্টার থেকে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

১৬ জন আত্মীয় নিয়ে বিমানবন্দরের এসেছেন মনিরুজ্জামান। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, আমরা শুনেছি ওমরাহ করতে যাওয়া যাবে না। তারপরও এলাম। ভেতরে গিয়ে খোঁজ নেবো।

ওমরাহ পালনের প্রস্তুতি নিয়ে বিমানবন্দরে এসে সৌদি আরবের স্থগিতাদেশ শুনে মুষড়ে পড়েন নারী যাত্রীরা।

হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন ‘হাব’ এর সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, ‘আজকে (বৃহস্পতিবার) সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পৃথিবীর সব দেশের ওমরাহ ভিসা ইস্যু ও ভিজিটর ভিসা স্থগিত করেছে। তারপর থেকে ওমরাহ যাত্রী পাঠানো যাচ্ছে না। সকালে সৌদি দূতবাসের সঙ্গে কথা বলেছি। যাদের ভিসা আছে তারা যেতে পারবেন কিনা সে বিষয়টিও অস্পষ্ট। এখন পর্যন্ত দশ হাজার ওমরাহ যাত্রীর সবার ভিসা হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে পাঁচ হাজার যাত্রীর বিমানের টিকিট কাটা হয়ে গেছে। ওমরাহ করার জন‌্য সৌদিতে থাকার হোটেলসহ অর্থ খরচ করে সব প্রয়োজনীয় প্রাথমিক কাজও শেষ করা হয়েছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা আর সেদেশে ঢুকতে পারছেন না। ভিসার জন্য সৌদি সরকারকে (আইবিএনের মাধ্যমে) পরিশোধ করা হয়েছে ২০ কোটি টাকা। সাধারণ ক্যারিয়ারে যে তিন হাজার টিকিট কাটা আছে সেগুলোর জন্যও আর্থিক ক্ষতি হবে। আর সেখানে যে হোটেল ভাড়া করা আছে, এজন্য মূল্য আগেই পরিশোধ করতে হয়। সব মিলিয়ে ৫০ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। ওমরাহ যাত্রীরা শেষ পর্যন্ত যেতে না পারলে এই টাকা আর ফেরত পাওয়া যাবে না। এতে ওমরাহ যাত্রীদের ক্ষতি তো হবেই, আমাদেরকেও  বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

যাত্রীদের টিকিট প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোকাব্বির হোসেন বলেন, যাত্রীরা চাইলে টিকিটের টাকা রিফান্ড নিতে পারবেন। আবার কেউ চাইলে পরেও ওমরাহ করতে যেতে পারবেন।

 

/সিএ/টিএন/

লাইভ

টপ