তামাক থেকে ১১ হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব চান সংসদ সদস্যরা

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:৫৬, জুন ০৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:১৫, জুন ০৭, ২০২০

102948298_301539544214004_2145926385020935473_nতামাক থেকে বাড়তি ১১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব চান সংসদ সদস্যরা। তারা জানান, আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যের কর বৃদ্ধি এবং করোনা মোকাবিলায় অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সারচার্জ আরোপ করা হলে ১১ হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব পাওয়া সম্ভব। এই টাকা করোনা মহামারি মোকাবিলায় কাজে লাগানো যেতে পারে। সেই লক্ষ্যে চিঠি লিখে অর্থমন্ত্রীকে তামাকে কর বৃদ্ধির বিষয়ে অনুরোধ জানাবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

রবিবার (৭ জুন) তামাকমুক্ত বাংলাদেশ মঞ্চ আয়োজিত ‘আসন্ন বাজেট: জনস্বাস্থ্য ও তামাক কর, রাজস্ব বৃদ্ধি ও আমাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে এ মত প্রকাশ করেন ১০ জন সংসদ সদস্য। ওয়েবিনারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক উপস্থিত ছিলেন। সংসদ সদস্য ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ মঞ্চের সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী ওয়েবিনারটি সমন্বয় করেন।

ওয়েবিনারের শুরুতে তামাক কর বৃদ্ধির বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো সুপারিশের আলোকে ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ মঞ্চ’-র পক্ষ থেকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া তামাক-কর ও মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

প্রস্তাবে বলা হয়, সিগারেটের চারটি মূল্যস্তরের পরিবর্তে দুটি মূল্যস্তর এবং সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যে সম্পূরক শুল্কের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপ করতে হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে সম্পূরক শুল্ক এবং ভ্যাট বাবদ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব অর্জিত হবে। অন্যদিকে, তামাক ব্যবহার করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই তামাকজাত দ্রব্যের ওপর অতিরিক্ত ৩ শতাংশ সারচার্জ আরোপ করে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আয় করা সম্ভব হবে।

ওয়েবিনারে অংশ নেওয়া সংসদ সদস্যরা তামাক-কর বৃদ্ধির বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে সমর্থন জানান। পাশাপাশি তারা কৃষকদের তামাক চাষের পরিবর্তে অন্যান্য খাদ্যশস্য-অর্থকরী ফসল চাষে উৎসাহ ও প্রণোদনা দেওয়া এবং তামাক শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের পুনর্বাসনের জন্য অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে মত ব্যক্ত করেন। এছাড়া তামাকের ক্ষতিকর বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলার জন্য কার্যকর তামাকবিরোধী ক্যাম্পেইন এবং ই-সিগারেট নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়েও সংসদ সদস্যরা জোরালো দাবি জানান।

ওয়েবিনারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবায়নে কাজ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। দেশে তামাক ব্যবহার কমলেও এখনও পৌনে চার কোটি লোক তামাক ব্যবহার করে। সরকার তামাক খাত থেকে যে পরিমাণ রাজস্ব পায়, তার চেয়ে বেশি অর্থ তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যয় হয়ে যায়। তাই তামাকজাত দ্রব্যের কর বাড়াতে হবে। আর কর বাড়ালে অনেকে উচ্চ মূল্যস্তরের পরিবর্তে নিম্ন মূল্যস্তরের সিগারেট ব্যবহার শুরু করেন। এজন্য সিগারেটের মূল্যস্তর চারটি থেকে কমিয়ে দুটি করতে হবে। অন্যদিকে অনেক জর্দা-বিড়ি কারখানা করজালের আওতায় নেই বিধায় সেগুলোও কার্যকর উপায়ে করজালের আওতায় আনা প্রয়োজন।’

তিনি আরও বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় এখনও আমাদের দেশে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ অনেক কম। তাই তামাক থেকে আয় হওয়া রাজস্বের একটি অংশ স্বাস্থ্য খাতে দিতে হবে।’

ওয়েবিনারে সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, আব্দুল মতিন খসরু, হাসানুল হক ইনু, অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত, ওয়াসিকা আয়শা খান, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, আশেক উল্লাহ রফিক, খাদিজাতুল আনোয়ার, অধ্যাপক মাসুদা এম. রশীদ চৌধুরী ও অপরাজিতা হক উপস্থিত ছিলেন। অন্যদের মধ্যে ছিলেন– ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিকসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

/এমএএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ