মানুষ না থাকলে বাজেট কার জন্য: অর্থমন্ত্রী

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৪:৪৭, জুন ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৪৭, জুন ১৫, ২০২০

জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালএবারের বাজেটকে ‘মানবিক বাজেট’ আখ্যায়িত করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, এবারের বাজেটে মানুষকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মানুষ না থাকলে বাজেট কার জন্য? বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে দেশের মানুষকে আমাদের বাঁচাতে হবে।’ অর্থমন্ত্রী করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাজেট বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সোমবার (১৫ জুন) জাতীয় সংসদে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী ছাড়াও সম্পূরক বাজেট নিয়ে পাঁচ জন সদস্য আলোচনায় অংশ নেন। তারা হলেন সংসদে বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবুল হাসান মাহমুদ আলী, তাহজীব আলম সিদ্দিকী ও ওয়াসিকা আয়েশা খান এবং বিএনপি'র হারুন-অর-রশিদ। এবার সম্পূরক বাজেট নিয়ে মোট ৭০ মিনিট আলোচনা হয়। সোমবার একদিনই সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনা করে এটি পাস করা হয়।

সম্পূরক বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জানান বাজেট দেওয়ার পর তা বাস্তবায়ন পর্যায়ে বিভিন্ন যৌক্তিক কারণে কিছুটা সংযোজন এবং তা সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়।

দেশে করোনা সংক্রমণ প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ বছর বাজেটের সংযোজন-বিয়োজন বা সমন্বয়ের কারণটি আমাদের সবার জানা। বৈশ্বিক মহামারী কোভিড ১৯ এর বিবেচনায় আমরা সম্পূরক বাজেটে রাজস্ব আয় ও ব্যয় কিছু সমন্বয় করার চিন্তা করেছি। জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাও আমরা ৮. দশমিক ২ শতাংশ কমিয়ে ৫ শতাংশ ২ শতাংশ নির্ধারণ করেছি। আমরা যদি এই পুনর্নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারি তা হবে দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ।‘

তিনি জানান, সম্পূরক বাজেট করোনা দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য স্বাস্থ্যসেবা খাত, স্বাস্থ্য চিকিৎসা বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে অতিরিক্ত তিন হাজার ৬০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বাজেট না দেওয়া হলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ তোলার কোনও ব্যবস্থা নেই উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এবারের (আসন্ন ২০২০-২১ অর্থবছর) বাজেটে সব ক্ষেত্রে প্রাধিকার পাচ্ছে দেশের মানুষ। দেশের মানুষকে বাঁচাতে হবে। এই করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে আমাদের চেষ্টা থাকবে মানুষকে যতটা সম্ভব রক্ষা করা।  আল্লাহর অশেষ রহমত থেকে আমরা সেই কাজটি করবো।’

‘নতুন অর্থ বছরের বাজেট সবার জন্য’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সব সময় আমাদের বাজেটে অর্থনৈতিক উন্নয়নগুলোর কম্পোনেন্ট প্রাধিকার পায়। কিন্তু এবার আমরা তা করিনি। এবার মানুষকে প্রাধিকার দিয়েছি। এটা কেবল অর্থনৈতিক বাজেট নয়। এটা একদিকে অর্থনৈতিক বাজেট পাশাপাশি মানবিক বাজেট।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের গ্রামের অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিতে বলেছেন। গ্রামের মানুষকে রক্ষা করতে হবে। তাদের দায়িত্ব নিয়ে আমরা বাজেট প্রণয়ন করেছি।’

অর্থমন্ত্রী জানান, ‘অন্যবার আমরা রেভিনিউ অর্জন করি এবং রেভিনিউ খরচ করি। এবার আমরা রেভিনিউ আগে খরচ করবো। তারপরে রেভিনিউ অর্জন করবো। আমরা এখন খরচ না করলে মানুষ বাঁচবে কী করে? আর মানুষ বাঁচাতে না পারলে দেশ কার জন্য? দেশের বাজেট কার জন্য? কাজেই এই বিবেচনাতেই মাথায় রেখে আমি সবাইকে অনুরোধ করবো। আসুন সবাই আমরা ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই বাজেট যেন পরিচালনা করি। এই বছরটি একটি ভিন্ন বছর। করোনা ভাইরাসের দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হলে সবাইকে সবাইকে নিয়ে কাজটি করতে হবে।’

সম্পূরক বাজেট নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনার জন্য অর্থমন্ত্রী সব সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।  তিনি বলেন, ‘সম্পূরক বাজেট নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সংসদ সদস্যরা যেটা বলেছেন তার সবই আগামী (প্রস্তাবিত ২০১৯-২০) বাজেট নিয়ে। ওই বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় আমরা এর জবাব দেব।’

 

/ইএইচএস/এফএস/

লাইভ

টপ