স্বাধীনতা আন্দোলনে এতিম ও বিকলাঙ্গ হওয়া শিশুদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু সরকারের উদ্যোগ

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০৮:০০, জুলাই ০৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০০, জুলাই ০৯, ২০২০

বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে এতিম ও বিকলাঙ্গ হওয়া শিশুদের তালিকা সম্পন্ন করা হয়। ১৯৭২ সালের ১০ জুলাইয়ের পত্রিকায় এ তথ্য প্রকাশ করে এই শিশুদের জন্য সরকারের উদ্যোগ বিষয়টি জানানো হয়। ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সংগ্রামে চার লাখ শিশু এতিম হয়েছে। ২০ হাজার শিশু খান পাকিস্তানি সেনাদের হাতে পঙ্গু হয়েছে। এসব বিকলাঙ্গ শিশুর মুখে হাসি ফোটানোর জন্য বঙ্গবন্ধুর সব সময় নির্দেশ প্রদান করে আসছিলেন। বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ আয়োজিত শিশু চিত্র-প্রদর্শনী উদ্বোধনকালে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জহুর আহমেদ চৌধুরী এ তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি সংস্থার পূর্ব মঞ্জুরীকৃত ২৫ লাখ টাকার সরকারি পরিকল্পনার বাকি ১৩ লাখ টাকা প্রদানের কথা ঘোষণা করেন।
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাকে বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান নেতাকর্মীরা। সাত জেলায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকী এবং ছাত্রলীগের অন্যান্য ছাত্রনেতারা সাংগঠনিক সফর করেন। তারা বিভিন্ন স্থানে জনসভায় বঙ্গবন্ধুর নীতিমালা ব্যাখ্যা করে বলেন গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে কাজ করতে হবে।  জনগণ প্রতিটি স্থানেই দেশ গড়ার আহ্বানে সাড়া দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়।

ডাকসু সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস মাখন চক্রান্তকারীদের হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেন ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলার স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে হবে। এদিকে  নতুন এই সংগ্রামে বিশ্বাসঘাতকদের সমূলে উৎখাত করা হবে বলে  ছাত্রনেতা শেখ শহিদুল ইসলাম ঝিনাইদহের জনসভার ঘোষণা করেন।

সিরাজগঞ্জ শহরকে ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষা করার জন্য সরকারের দৃঢ় সংকল্পের কথা বন্যা নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ বলেন, প্রয়োজনে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হবে। কাজিপুর থানার দুইটি ইউনিয়ন ও শহরের একাংশ প্রমত্তা যমুনার ভাঙনে সেসময় সিরাজগঞ্জের শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে যায়। এর ফলে হাজার হাজার লোক আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে পেটের অসুখে ভুগছিলেন। তিনি ধীরে ধীরে ভালো বোধ করছেন বলে ১০৭২ সালের ১০ জুলাইয়ের পত্রিকার খবরে বলা হয়।  প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক নজরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। চিকিৎসকরা বঙ্গবন্ধুকে কিছুদিন বিশ্রাম নিতে বললেও তিনি কাজের মধ্যে ফিরে আসার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন এবং বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

এদিকে প্রাকৃতিক সম্পদ বিষয়ক সেমিনার উদ্বোধনকালে বাংলাদেশ সরকার যেকোনও আবিষ্কারের জন্য একটি উন্নয়ন করপোরেশন গঠন করবে বলে জানানো হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক মিলনকেন্দ্র দিনব্যাপী বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও শিল্পসম্ভাবনা সম্পর্কে এক সেমিনারের উদ্বোধনী ভাষণ দিতে গিয়ে তৎকালীন বিদ্যুৎ প্রাকৃতিক সম্পদ বিজ্ঞান ও কারিগরি গবেষণা দফতরের মন্ত্রী একথা জানান।

 

/এমআর/

লাইভ

টপ
X