দেশে করোনাভাইরাসের ৫ মাস: সমন্বয়হীনতার অভিযোগ

Send
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত : ১৭:২১, আগস্ট ০৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৭, আগস্ট ০৮, ২০২০

করোনাভাইরাসদেশে করোনা আক্রান্ত রোগী প্রথম শনাক্ত হন গত ৮ মার্চ। প্রথম রোগী মারা যান তার ঠিক ১০ দিন পর ১৮ মার্চ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) পর্যন্ত দেশে মোট দুই লাখ ৫২ হাজার ৫০২ জন শনাক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। আর এতে করে আন্তর্জাতিক জরিপ পর্যালোচনাকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের পরিসংখ্যান অনুসারে, করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যায় ইতালিকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। সংক্রমণের ১৫৩ দিন পর বাংলাদেশ ইতালিকে পেছনে ফেলে বর্তমানে ১৫ নম্বর অবস্থানে রয়েছে। দেশে এখন পর্যন্ত রোগী শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আজ ৮ আগস্ট দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পাঁচ মাস। অথচ এই পাঁচ মাস করোনা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় দেশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সমন্বয়হীনতা ছিল। শুরুতে প্রায় আড়াই মাস সময় পেলেও সে সময়কে কাজে লাগাতে পারেনি মন্ত্রণালয়। তার বদলে চিকিৎসকদের নিম্নমানের পিপিই, নানা কেনাকাটায় দুর্নীতি, অনুমোদনহীন হাসপাতালকে করোনার জন্য ডেডিকেটেড করাসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগে দুষ্ট পুরো স্বাস্থ্য বিভাগ। এদিকে, দিনে দিনে মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদফতরের দ্বন্দ্ব প্রকাশ পেয়েছে। মহামারির এই সময়ে বদল করা হয়েছে স্বাস্থ্যের বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের। এতে করে স্থবির হয়েছে পুরো কার্যক্রম।

প্রথম রোগী শনাক্তের ৩৯তম দিনে গত ১৬ এপ্রিল পুরো দেশকে করোনাভাইরাসের জন্য ঝূঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। সেদিনের ঘোষণাতে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)-এর সংক্রমণ ঘটেছে। সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮-এর ১১ (১) ধারার ক্ষমতাবলে সমগ্র বাংলাদেশকে সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করা হলো।

করোনাতে প্রথম মৃত্যুর পরদিন ১৯ মার্চ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর জন্য প্রথম লকডাউন ঘোষণা করা হয় মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা।

মৃত্যুর হিসাব

করোনায় শুক্রবার (৭ আগস্ট) মৃত্যুবরণ করেছেন ২৭ জন। এ নিয়ে করোনায় এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৩৩ জন মারা গেছেন। ওই দিন ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৭৬০ জন এবং মোট এক লাখ ৪৫ হাজার ৫৮৪ জন সুস্থ হয়েছেন। সর্বোচ্চ মৃত্যু হয় গত ৩০ জুন। সেদিন ৬৪ জনের মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত (৭ আগস্ট) পুরুষ মোট মারা গেছেন দুই হাজার ৬৩০ জন, যা ৭৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। নারী মারা গেছেন ৭০৩ জন, যা ২১ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। পুরুষ শনাক্তের হার ৭১ শতাংশ এবং নারী ক্ষেত্রে শনাক্তের হার ২৯ শতাংশ।

আবার এ পর্যন্ত যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের বয়স এবং শতকরা হারে দেখা গেছে, শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, যা দশমিক ৫৪ শতাংশ; ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ৩৩ জন, যা দশমিক ৯৯ শতাংশ; ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৮৭ জন, যা দুই দশমিক ৬১ শতাংশ; ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২১৪ জন, যা ছয় দশমিক ৪২ শতাংশ; ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪৬২ জন, যা ১৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ; ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৯৫৩ জন, যা ২৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং ষাটের অধিক বয়সের রয়েছেন এক হাজার ৫৬৬ জন, যা ৪৬ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

এ পর্যন্ত বিভাগ অনুযায়ী মারা গেছেন, ঢাকা বিভাগে এক হাজার ৫৯৭ জন, চট্টগ্রামে ৭৯৪ জন, রাজশাহীতে ২০৫ জন, খুলনায় ২৪৭ জন, বরিশালে ১৩১ জন, সিলেটে ১৫৬ জন, রংপুরে ১৩২ জন এবং ময়মনসিংহে ৭১ জন।

পাঁচ মাসের হিসাব

প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পরবর্তী ১০০ জন শনাক্ত হয় ৬ এপ্রিল, এক হাজার ১৪ এপ্রিল, ১০ হাজার ৩ মে, ২৫ হাজার ১৮ মে, ৫০ হাজার ১ জুন, ৭৫ হাজার শনাক্ত হয় ১১ জুন। করোনা শনাক্তের পর ১০৩ দিনে গত ১৮ জুন এক লাখ ছাড়ায় শনাক্তের সংখ্যা। ওইদিন পর্যন্ত মোট শনাক্ত ছিল এক লাখ দুই হাজার ২৯২ জন, তার ঠিক একমাস পর গত ১৮ জুলাই শনাক্তের সংখ্যা দুই লাখ ছাড়ায়। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, সেদিন পর্যন্ত দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ২ লাখ ২ হাজার ৬৬ জন। অর্থাৎ তার আগের ৩১ দিনে শনাক্ত হয় ৯৯ হাজার ৭৭৪ জন। গত ২৫ জুলাই শনাক্তের ১৩৮তম দিনে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, সেদিন পর্যন্ত দেশে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন দুই লাখ ১৬ হাজার ১১০ জন। এর ঠিক ১৫ দিনের মাথায় রোগী শনাক্ত আড়াই লাখ ছাড়িয়ে যায় ৭ আগস্ট। এর মধ্যে গত ২ জুলাই রোগী শনাক্ত হয় চার হাজার ১৯ জন, যা একদিনের সর্বোচ্চ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাঁচ মাসের তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, প্রথম মাসে গত ৮ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয় ১৬৪ জন, মারা যান ১৭ জন, সুস্থ ছিল না। দ্বিতীয় মাসে গত ৮ এপ্রিল থেকে ৭ মে পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয় ১২ হাজার ২৬১ জন, মারা যান ১৮২ জন, সুস্থ হন এক হাজার ৯১০ জন। তৃতীয় মাসে ৮ মে থেকে ৭ জুন পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয় ৫৩ হাজার ৩৪৪ জন, মারা যান ৬৮৯ জন, সুস্থ হন ১১ হাজার ৯৩৩ জন। চতুর্থ মাস ৮ জুন থেকে ৭ জুলাই পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয় এক লাখ দুই হাজার ৮৭৬ জন, মারা যান এক হাজার ২৬৩ জন, সুস্থ হন ৬৪ হাজার ১৯৯ জন। পঞ্চম মাস ৮ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত রোগী শনাক্ত হয় ৮৩ হাজার ৫৫৭ জন, মারা যান এক হাজার ১৮২ জন এবং সুস্থ হন ৬৭ হাজার ৪৮৪ জন।

তবে মহামারির পাঁচ মাস পার হলেও কর্তৃপক্ষ দেশে আক্রান্তদের সঠিক সংখ্যা জানাতে পারেনি বলে অভিযোগ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের। তারা বলছেন, নিয়মিত বুলেটিনে কেবল করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া নির্ধারিত হাসপাতালের তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে একটা বিরাট অংশ বাড়িতে এবং অধিদফতরের নির্ধারিত হাসপাতালের বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের তথ্য বা সংখ্যা অধিদফতরের কাছে নেই। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহামারির ভয়াবহতা বোঝার জন্য মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তা না হলে প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে না।

প্রসঙ্গত, দেশে ৬৬ দিন পর সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মেয়াদ শেষ হয় গত ৩০ মে। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হয় সাধারণ ছুটি। কিন্তু তার ঠিক একমাস পর ২৬ এপ্রিল পোশাক কারখানা খুলে দেওয়া হয়। এর ঠিক দুই সপ্তাহ পর থেকে সংক্রমণের দশম সপ্তাহে (১০ থেকে ১৬ মে) দেশে করোনা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি শুরু হয়।

এদিকে, বাংলাদেশ বিষয়ক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সিচুয়েশন রিপোর্ট-২৩ অনুযায়ী দেশে করোনা ‘অ্যাটাক রেট’ সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে এবং সবচেয়ে কম রংপুর বিভাগে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।  গত ৩ আগস্ট পর্যন্ত করা হিসাব অনুযায়ী, প্রতি এক মিলিয়ন বা ১০ লাখ মানুষের মধ্যে বাংলাদেশের ‘অ্যাটাক রেট’ এক হাজার ৪২১ দশমিক ৫।

প্রকৃত রোগী আরও বেশি

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রাকৃতিকভাবে এই রোগ বাড়ে-কমে না। যত বেশি সংক্রমিত ব্যক্তি অন্যদের সংস্পর্শে আসবে ততই এই রোগ ছড়াবে। তবে এছাড়া ল্যাবরেটরি পরীক্ষা যত শনাক্ত হচ্ছেন তার বাইরেও অসংখ্য মৃদু লক্ষণযুক্ত রোগী রয়েছেন।’

সাইলেন্ট সংক্রমণের সংখ্যা আমরা এখনও জানি না মন্তব্য করে জনস্বাস্থ্যবিদ চিন্ময় দাস বলেন, ‘যত টেস্ট করা যাবে ততই রোগীর সংখ্যা বাড়বে। করোনাকে মোকাবিলা করার জন্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ছিল তার কোনোটাই করা হয়নি। তাই যতই মানুষের মুভমেন্ট বেশি হবে ততই সংক্রমণ বেশি হবে। শুরুর দিকে একটা “কমপ্লিট লকডাউন” দরকার ছিল, যেটা করতে পারিনি।’

মহামারিতে বদল স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণদের

গত মার্চ মাসে করোনা প্রাদুর্ভাব শুরুর পর প্রথমে মাস্ক কেলেঙ্কারির পর থেকেই স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে অনুমোদনহীন রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের চুক্তি, জেকেজির মতো প্রতিষ্ঠানের ভুয়া নমুনা পরীক্ষার পর তিনি তীব্র সমালোচনার সম্মুখীন হন। রিজেন্ট হাসপাতালকে উপর মহলের নির্দেশে করোনা ডেডিকেটেড করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রণালয়ের শোকজ নোটিশ পান তিনি। অবশেষে গত ২১ জুলাই তিনি পদত্যাগ করেন। ইতোমধ্যে তাকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তলব করে নোটিশ দিয়েছে।

তারও আগে গত (৪ জুন) কোভিড-১৯ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের নানা সমালোচনামূলক কাজের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলামকে পরিকল্পনা বিভাগে বদলি করা হয়। এরপর গত আট জুন বদলি হন মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের হাসপাতাল অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব সিরাজুল ইসলাম ও ওষুধ প্রশাসন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইসমাইল হোসেন। এরপর গত ১৮ জুন বদলি করা হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোভিড-১৯ বিষয়ক মিডিয়া সেলের প্রধান ও মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান খানকে। একইদিনে, কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রকল্প থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় অধ্যাপক ডা. ইকবাল কবীরকে। তিনি ওই প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওই প্রকল্পের পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) পদ থেকেও তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

তার পরিবর্তে কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আমিনুল হাসানকে। তবে অনুমোদনহীন হাসপাতাল রিজেন্টের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে আমিনুলের দিকে অভিযোগের আঙুল ওঠায় তাকে সরিয়ে দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই আমিনুল হাসানই গত ২১ মার্চ রিজেন্ট হাসপাতালের চুক্তি বিষয়ক চিঠিতে লেখেন, ‘সচিব স্যারের নির্দেশে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করা হয়।’

সমন্বয়হীনতার অভিযোগ

শুরু থেকেই স্বাস্থ্যের বিভিন্ন বিভাগের একটির সঙ্গে আরেকটির সমন্বয় ছিল না বলে অভিযোগ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই-মাহবুব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এখানে হ-য-ব-র-ল দিয়ে শুরু হয়েছিল। সেখান থেকে এখনও উত্তরণ ঘটেনি। সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং তাকে বাস্তবায়ন করে যেখানে যাওয়ার কথা ছিল সেখানে তারা যেতে পারেনি। সংক্রমণ আমাদের হয়তো “লিমিটেশন”-এর মধ্যে রয়েছে, কিন্তু তাতে আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই। জীবন এবং জীবিকার জন্য সামাজিক সংক্রমণকে রোধ করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

ঠিকমতো যদি শুরু থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হতো তাহলে বাংলাদেশ আজ কোভিড মুক্ত থাকতো বলে মন্তব্য করেছেন চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটি (এফডিএসআর)-এর উপদেষ্টা ডা. আবদুন নূর তুষার। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর কোনও সমন্বিত কাজ করেনি এই পাঁচ মাসে। এই সমন্বয়ের অভাবে পাঁচ মাসের মাথায় এসে বাংলাদেশ পিকের দেখা পায়নি। করোনা নিয়ে অধিদফতরের কোনও তথ্য নেই, অথচ সব ডেটা উন্মুক্ত থাকা উচিত ছিল। এই পাঁচ মাসে আসল-নকল পিপিই, আসল-নকল মাস্ক আলাদা করতে পারেনি, যেটা করা জরুরি ছিল। ফলে স্বাস্থ্যকর্মীরা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন এবং ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ চিকিৎসক মারা গেছেন, মারা গেছেন আরও অনেক স্বাস্থ্যকর্মী।’

সবার আগে দরকার ছিল বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া মন্তব্য করেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘টেস্ট করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের সুরক্ষা দেওয়া, স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি করা দরকার ছিল। অথচ কোনোটিই হয়নি। যেটা হয়েছে তা হলো, মানিয়ে নেওয়া।’

/এমএএ/এমএমজে/

লাইভ

টপ