কাজের ভারে ক্লান্ত বঙ্গবন্ধু

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০৮:০০, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০০, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০

দৈনিক ইত্তেফাক, ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭২

(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বরের ঘটনা।)

দেশে ফিরে কর্মব্যস্ত তিনটি দিন কাটানোর পরেই দুর্বল বোধ করতে শুরু করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে আগেই ব্যক্তিগত চিকিৎসক বলেছিলেন, আরও কিছুদিন বিশ্রামে কাটাতে। কিন্তু দেশে ফিরে তিনি ১০ ঘণ্টা করে অফিস করায় আবারও  অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। ১৯৭২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সবগুলো পত্রিকাতেই তার এই দুর্বলতার খবর প্রকাশ করা হয়। এদিকে ভোটার তালিকা প্রণয়নের দিন ঘোষণা, কর্মপ্রণালী বর্ণনার ঘোষণা আসে ১৭ সেপ্টেম্বর বেতার ও টেলিভিশনে। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘তার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু এই ঘোষণার মধ্য দিয়েই।’

দৈনিক বাংলা, ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭২অক্টোবরেই ভোটার তালিকা

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মোহাম্মদ ইদ্রিস দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ভোটার তালিকা প্রণয়ন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তালিকা প্রণয়ন কর্মসূচি ঘোষণা প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রকাশ করেন যে, ভোটার তালিকা প্রণয়নের কাজ অক্টোবরেই শুরু হবে এবং ১৯৭৩ সালের ৩০ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘যথা শিগগির সম্ভব দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জনগণকে একান্ত আগ্রহী করো, আমরা সে সম্পর্কে সচেতন।’ তিনি বলেন, ‘ভোটার তালিকা প্রণয়নের জন্য দ্রুত কাজ করার পাশাপাশি আদর্শ সমুন্নত রাখতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশে মুক্ত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরিবেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া অতিপ্রয়োজন। নির্বাচনি কর্তৃপক্ষ সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানে দৃঢ়-সংকল্পবদ্ধ।’

বঙ্গবন্ধু দুর্বল বোধ করছেন

১৭ সেপ্টেম্বর ১০ ঘণ্টা কাজ করার পর রাত সাড়ে আটটার সময় ধানমন্ডির বাসভবনে ফেরার আগে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আমি খুবই দুর্বল ও অসুস্থ বোধ করছি।’ এনা পরিবেশিত খবরে বলা হয়, আগের দিনের মতো তিনি আজও  সারাদিন ব্যস্ত ছিলেন। এদিনও তিনি দুপুরের খাবার গণভবনেই গ্রহণ করেন।  পরের দিন ইত্তেফাকে বঙ্গবন্ধুর বিমর্ষ একটি ছবি প্রকাশিত হয়। একদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আরেক দিকে শাসনতন্ত্র  প্রণয়ন, নির্বাচনের ব্যবস্থা করা ও গণপরিষদ অধিবেশনের প্রস্তুতি। সবমিলিয়ে প্রতিদিন  তিনি একাধিক মিটিং ও ফাইল নিয়ে নিবিড় কাজের মধ্যে ছিলেন। পরের দিন কমিশনার সম্মেলন উদ্বোধন করার কথা তাঁর। পত্রিকার খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় গণভবনে কমিশনারদের তিন দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। সম্মেলনে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার চেয়ারম্যান ও সাবেক ডেপুটি কমিশনাররা উপস্থিত থাকবেন। সম্মেলনে দেশের সার্বিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হবে। স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু এই প্রথম কোনও সভায় ভাষণ দেওয়ার কথা।

দৈনিক ইত্তেফাক, ১৮ সেপ্টেম্বর ১৮৭২

বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতি চলবে না

শিক্ষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কর্তৃক কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণের গণজমায়েতে  ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘গ্রাম ও শহরের মধ্যে পার্থক্য রেখে দুই ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতি মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে। শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণ ব্যতীত স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকারের মূল্যায়ন এবং সমাজতান্ত্রিক পদক্ষেপে জাতীয় চেতনার সুদৃঢ় হতে পারে না।’ নূরে আলম সিদ্দিকী শিক্ষা কমিশনকে তাদের রিপোর্ট পেশ করার আগে ৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের আলোকে বাংলাদেশের মানুষ কী ধরনের শিক্ষানীতি আশা করে, তার সার্বিক ব্যাখ্যা অনুধাবন করে নতুন গণমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানান। তিনি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে উল্লেখ করে বলেন, ‘এখনও পাকিস্তানের মনোভাবাপন্ন আমলা ও অতিবিপ্লবী নামধারীরা জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।’

 

 

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ