‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দূরদর্শী ও সাহসী’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০১:৫২, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৫৯, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২০




জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ছবি পিআইডি)১৯৭৪ সালে স্নায়ুযুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ওপর পূর্ণ সমর্থন রেখেছিলেন। একইভাবে বর্তমান ক্রান্তিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমস্যা সমাধানের আহবান জানিয়েছেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ৭৫তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিশ্লেষণ করে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মাদ শহীদুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য বিস্তৃত, দূরদর্শী, সাহসী ও মানবতাবাদী।’

তিনি বলেন, কোন প্রেক্ষাপট থেকে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দিচ্ছেন তা যদি আমরা বুঝতে চাই, তবে দেখবো নতুন স্নায়ুযুদ্ধের আলোচনা চলছে, এককভাবে চলার নীতির কথা একটি বৃহৎ শক্তিসহ কয়েকটি দেশ বলছে এবং বর্তমান বিশ্বে কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিদ্যমান।

বর্তমান বিশ্বে ক্রান্তিকাল চলছে উল্লেখ করে সাবেক এই সচিব আরও বলেন, ‘এখন অনেক দেশ এককভাবে চলার নীতির কথা বলছে। এর বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে, ওই নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন, যা ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু দিয়েছিলেন এবং এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এখন নতুন স্নায়ুযুদ্ধের কথা চলছে।’

১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু যখন জাতিসংঘে ভাষণ দেন, তখনও ক্রান্তিকাল ছিল জানিয়ে শহীদুল হক বলেন, ‘স্নায়ুযুদ্ধ তখন মোটামুটি তুঙ্গে। যদিও নিরাপত্তা পরিষদে সবাই একমত হয়ে বাংলাদেশকে সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়ে বলেছে। তারপরেও প্রথম পর্যায়ে বেশ কয়েকটি দেশের শক্ত প্রতিরোধ ছিল এবং এরজন্য সদস্যপদ পেতে দেরিও হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী সারা বিশ্ব একসঙ্গে গাঁথা এবং বিপদের সমাধান সবাইকে একসঙ্গে করতে হবে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে শহীদুল হক বলেন, ‘কোভিড-১৯ মোকাবিলায় বংলাদেশের ব্যবস্থা ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ভ্যাকসিনকে পাবলিক গুডস হিসেবে শুধু ঘোষণাই করতে বলেননি, তিনি এও বলেছেন যে, আমার দেশের সক্ষমতা আছে ভ্যাসকিন তৈরি করার। যদি তোমরা কাঁচামাল ও কপিরাইট দাও।’

রোহিঙ্গা সমস্যা
২০১৭ থেকে রোহিঙ্গা বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব দিচ্ছেন জানিয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘রোহিঙ্গা বিষয়ে ২০১৭-তে পাচঁ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং ২০১৮-তে সেটি আবারও তুলে ধরেন। ২০১৯-এ প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের কারণে চার দফা প্রস্তাব রেখেছিলেন জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে।’

এবারের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমার তৈরি করেছে এবং এর সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে।

মিয়ানমারকে মানবাধিকার পরিষদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে ও নিরাপত্তা পরিষদে এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে জানিয়ে সাবেক সচিব বলেন, ‘পৃথিবীতে ৩১টি হটস্পট আছে এবং এরমধ্যে কয়টা নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ আলোচনা করে শুধু লিবিয়া এবং সিরিয়া ছাড়া।’

প্রসঙ্গত, বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ এর কারণে জাতিসংঘের ৭৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম বিশ্ব নেতারা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভার্চুয়াল অধিবেশনে অংশ নিচ্ছেন। এ বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, ‘আমরা ভবিষ্যৎ চাই, জাতিসংঘ আমাদের প্রয়োজন : বহুমুখিতার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্নিশ্চিতের মাধ্যমে।’

 

আরও পড়ুন:

সব দেশের জন্য একই সময়ে ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে হবে: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে

 

/এসএসজেড/টিটি/

লাইভ

টপ