বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে জাতিসংঘের প্রতিনিধি পাকিস্তানে

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ০৮:০০, অক্টোবর ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০০, অক্টোবর ২৪, ২০২০

দৈনিক ইত্তেফাক, ২৫ অক্টোবর ১৯৭২ ২(বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর সরকারি কর্মকাণ্ড ও তার শাসনামল নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করছে বাংলা ট্রিবিউন। আজ পড়ুন ওই বছরের ২৪ অক্টোবরের ঘটনা।)

জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল ওয়ার্ল্ড হেইমের কাছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল স্যার রবার্ট জ্যাকসন পাকিস্তান যাচ্ছেন বলে জানানো হয়। তিনি সেক্রেটারি জেনারেলের একটি বাণী পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ভুট্টোকে দেবেন।

পাকিস্তানে অবস্থানকালে স্যার রবার্ট সেখানে আটক বাংলাদেশিদের অবস্থা স্বচক্ষে পরিদর্শন করবেন বলে সংবাদে প্রকাশ করা হয়। নয়াদিল্লির রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা রবার্টের এই সফরের ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ঢাকায় স্যার রবার্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি পাকিস্তানে সম্ভবত এক সপ্তাহ থাকবেন। পাক বেতার থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক সংক্রান্ত সেক্রেটারি জেনারেলের একটি বাণী স্যার রবার্ট নিয়ে আসছেন। বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেলের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছিলেন যে, পাকিস্তানে আটক বাঙালিরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কোনও প্রতিনিধি যেন তিনি সেখানে পাঠান।

এদিকে এইদিনে লাহোরে পুলিশ দেড়শ’জন শিক্ষককে গ্রেফতার করে। সপ্তাহব্যাপী ধর্মঘট প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। ঢাকায় বিবিসি’র  খবরে প্রকাশ, ধর্মঘটে হাজার হাজার  শিক্ষক যখন বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পূরণের জন্য বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিল, তখন পুলিশ তাদের ওপর কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে ও লাঠিচার্জ করে। পরে পাঞ্জাবের গভর্নরের আশ্বাস পেয়ে তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন।

দৈনিক বাংলা, ২৫ অক্টোবর ১৯৭২না গণতান্ত্রিক না সমাজতান্ত্রিক

গণপরিষদের অধিবেশন শুরু হলে পরিষদে একমাত্র বিরোধী সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত খসড়া সংবিধানের ওপর সাধারণ আলোচনার সূত্রপাত করেন। সেনগুপ্ত তার দীর্ঘ ভাষণে খসড়া সংবিধানের কঠোর সমালোচনা করেন। সংবিধান সম্পর্কে জনমত যাচাইয়ের জন্য তার পূর্ব প্রস্তাবের পুনরুল্লেখ প্রসঙ্গে তিনি সংবিধানের কিছু অনুচ্ছেদ পাকিস্তান আমলের ১৯৫৬ ও ৬২ সালের শাসনতন্ত্রের সঙ্গে তুলনা করেন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ভাষণ শেষ করলে অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করা হয়। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বাংলাদেশের খসড়া সংবিধানকে পাকিস্তানি আমলের সংবিধানের আলোকে বিশ্লেষণ করায় সেদিন সমালোচনার মুখে পড়েন। এদিকে সমালোচনা করে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অভিযোগ করেন যে, সংবিধান না গণতান্ত্রিক, না সমাজতান্ত্রিক, না ধর্মনিরপেক্ষ। তিনি আরও বলেন যে, ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনের সময় জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং যে নীতির জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সংগ্রাম করেছেন মানুষ, তার কিছুই সংবিধানে পূরণ করা হয়নি।’

মিল থেকে রেশনে কেবল কালোবাজারির খবর

সুতাকলে উৎপাদিত সব সুতা বিসিকের কাছে হস্তান্তর করার সরকারি নির্দেশ থাকলেও কোনও কোনও সুতাকল নাকি সুতার কালোবাজারি অব্যাহত রাখার প্রয়াসে ডান হাতে বিসিক এবং বাম হাতে কালোবাজারিদের হাতে সুতা তুলে দিচ্ছে। জানা গেছে, চট্টগ্রামের বাঁশবাড়িয়ায় অবস্থিত আর আর সুতাকল গত ৪ আগস্ট ওই মিলে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের ৫৭ হাজার পাউন্ড সুতা ২৯টি ডেলিভারি অর্ডারে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৯৬২ টাকায় খোলা বাজারে বিভিন্ন সুতা ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেছে। এই সুতা বিসিকের কাছে হস্তান্তর করলে চার লাখ টাকা পাওয়া যেতো না। এদিকে বর্তমানে কালোবাজারে উক্ত সুতার দাম সাত লাখ টাকার ওপর রয়েছে।

দৈনিক ইত্তেফাক, ২৫ অক্টোবর ১৯৭২মন্ত্রিসভার বৈঠক

প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ১৯৭২ সালের ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিন ঘণ্টা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তা পরের দিন পর্যন্ত মুলতবি রাখা হয়। গোপন সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, গণপরিষদের খসড়া সংবিধান পেশ হওয়ার পর এই প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। মন্ত্রিসভার প্রত্যেক সদস্যই বৈঠকে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এদিকে বাংলা জাতীয় লীগ প্রধান আতাউর রহমান খান গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেন। বিভিন্ন বিষয়ে তাঁরা প্রায় একঘণ্টা আলাপ-আলোচনা করেন। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘দীর্ঘদিন লন্ডনে চিকিৎসার পর সম্প্রতি ঢাকায় ফিরেছেন। তার আওয়ামী লীগে যোগদানের কোনও সম্ভাবনা নেই।’

/এপিএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ