ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকে বিকৃত রুচির পরিচয় মনে করি: প্রধানমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৪ এপ্রিল ২০১৬, ১৭:২০আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০১৬, ১৭:৩২

শেখ হাসিনা মুক্তচিন্তার নামে অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়া  ‘ফ্যাশন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ধর্মের  বিরুদ্ধে কেউ কিছু লিখলেই, তারা হয়ে যান মুক্তচিন্তা অধিকারী। এখানে মুক্তচিন্তা দেখি না। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকে বিকৃত রুচির পরিচয় বলে মনে করি। বৃহস্পতিবার গণভবনে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে দলটির কার্যনির্বাহী সংসদ প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক স্থপতি ইয়াফেস ওসমান প্রধানমন্ত্রীকে উৎসর্গ করে তার স্বরচিত কবিতা শোনান।  
শেখ হাসিনা বলেন, কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে লেখা কখনও গ্রহণযোগ্য নয়। আমার ধর্ম আমি পালন করি। আমার ধর্ম সম্পর্কে কেউ যদি নোংরা কথা লেখেন, সেটা আমরা কেন বরদাশত করব? ধর্মের বিরুদ্ধে কেউ কিছু লিখলেই তারা হয়ে গেলেন মুক্তচিন্তার অধিকারী! আমি তো এখানে মুক্তচিন্তা দেখি না। আমি এখানে দেখি নোংরামি, পর্ন। এত নোংরা-নোংরা লেখা কেন লিখবে? যাকে আমি নবি মানি, তার সম্পর্কে নোংরা কথা কেউ যদি লেখে, সেটা কখনও আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ঠিক তেমনি অন্য ধর্মের যারা আছেন, তাদের সম্পর্কে কেউ যদি লেখে, এটাও কখনও গ্রহণযোগ্য হবে না। এই সমস্ত নোংরা কথা, পর্নের কথা কেন লিখবেন? আমি তো মনে করি, এটা সম্পূর্ণ নোংরা মনের পরিচয়, বিকৃত মনের পরিচয়। এটা সম্পূর্ণ তাদের চরিত্রের দোষ এবং তারা বিকৃত মানসিকতায় ভোগেন। আশা করি, এই ধরনের লেখা কেউ লিখবেন না।

 

 

আরও পড়তে পারেন:  বর্ষবরণে কদর কমেছে পান্তা-ইলিশের

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি একজন মুসলমান হিসেবে প্রতিনিয়ত আমার ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলি। সেখানে কেউ যদি লেখে, এতে আমার নিজেরও কষ্ট হয়। আর এই লেখার জন্য কোনও অঘটন ঘটলে দোষ সরকারের ওপর আসবে কেন? সবাইকে সংযমতা নিয়ে চলতে হবে। সবাইকে একটা শালীনতা বজায় রেখে চলতে হবে। অসভ্যতা কেউ করবেন না। অসভ্য আচরণ করলে তার দায়িত্ব কে নেবে? আমরা নেব না।

মানুষ খুন করার মধ্যে কোনও সমাধান নেই বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, একজন লিখলে আরেকজন খুন করে তার প্রতিশোধ নেবেন, এটা তো ইসলাম ধর্ম বলেনি। বিচারের দায়িত্ব আল্লাহ তাদের দেননি। এ বিচার আল্লাহই করবেন। আল্লাহ তো বলেই দিয়েছেন, তিনি শেষ বিচার করবেন। আল্লাহর ওপর কি তাদের ভরসা নেই? আল্লাহর ওপর যাদের ভরসা নেই, তারাই এসব খুন-খারাবি করেন। কারণ তারা আল্লাহ-রাসুল মানেন না।

শেখ হাসিনা বলেন, একটা নিরাপত্তাবলয় সৃষ্টির জন্য আমরা কিছু কিছু অনুশাসন দেই। সে জন্য বলেছি, সন্ধ্যার আগে অর্থাৎ পাঁচটার মধ্যে প্রকাশ্যে অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। এতে দেখলাম কারও-কারও মন্তব্য—কেন? সেটা বলা হলো। যেহেতু আমাকে নিরাপত্তা দিতে হবে। তিনি বলেন, আজকে শুধু বাংলাদেশ নয়, ইউরোপের দেশগুলোতে, প্যারিসে বোমা হামলা হলো, বেলজিয়ামে বোমা হামলা হয়েছে। আমেরিকার স্কুলে ঢুকে মানুষকে মেরে ফেলা হচ্ছে। এ রকম ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। আমাদের একটা দায়িত্ব আছে, দেশের মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া। এই নিরাপত্তা কতটা দিতে পারব, নিশ্চয় আমদের সরকারের কিছু নির্দেশনা যাবে। সবাইকে সেটা মেনে চলতে হবে।

 

আরও পড়তে পারেন: সূর্যোদয়ে ধ্বনিত হলো মানবতার মর্মবাণী

শেখ হাসিনা বলেন, সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকি, কখন কী ঘটে যায়। এ বছর পয়েলা বৈশাখে আশা করি, অপ্রীতিকর কোনও ঘটনা ঘটবে না। অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই আমরা পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছাড়া কখনও উন্নতি হয় না। গত একটি বছর দেশে শান্তি ছিল বলেই প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, মাথাপিছু আয় বেড়েছে, আর এই পহেলা বৈশাখে সারাদেশে গ্রাম-গঞ্জ-শহর নগরে উৎসবের আমেজ নিশ্চিত করা গেছে। তিনি বলেন, মানুষের আনন্দ-উৎসব করার জন্য সুযোগ প্রয়োজন, আমরা সে সুযোগ করে দিতে পেরেছি। এখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা খুব জরুরি, সে জন্য যা কিছু করণীয় তা সরকার করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলা নববর্ষে দেশবাসী মেতে উঠেছে। সবার আনন্দ দেখে ভালো লাগছে। তিনি বলেন, বছরটা সুন্দরভাবে শুরু হয়েছে, এটা যেন অব্যাহত থাকে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজ আমি নির্দিষ্ট কোনও অনুষ্ঠান রাখিনি। আপনারা যারা এসেছেন, তাদের মাধ্যম দেশবাসী সবাইকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মুসলমান। পাশাপাশি বাঙালি। বাঙালি হিসেবেই আমরা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। সে কথা ভুললে চলবে না। আর পহেলা বৈশাখ বাঙালি সংস্কৃতির উৎসব, এই উৎসব উদযাপন দেশের সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের।

দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সকাল থেকে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানগুলো দেখছি। দেশবাসী আনন্দ করছে, দেখে ভালো লাগছে।

/পিএইচসি/এমএনএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
২০০ টাকায় দেখা যাবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী