মিরপুরের দারুসসালাম থানার ভাঙা দেয়াল এলাকার ‘জঙ্গি আস্তানা’র ছয় তলার বাসা থেকে প্যাকেট করা ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস-আইইডি (অত্যাধুনিক বিস্ফোরক) উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো কার্টনের ভেতর সিল করা অবস্থায় রাখা ছিল। র্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। এছাড়াও জঙ্গি আস্তানার বাড়ির মালিক ও নৈশ প্রহরীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। আস্তানাটিতে ৭ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় দারুস সালাম থানায় মামলাও দায়ের করেছে পুলিশ।
এ ব্যাপারে জানিয়েছেন র্যাব-৪ এর সিও লুৎফুল কবির জানান, বাড়িওয়ালা হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদ ও নৈশ প্রহরী সিরাজুল ইসলাম জঙ্গিদের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। প্রাথমিকভাবে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। রিমান্ডে নিলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
বিস্ফোরক উদ্ধারের ব্যাপারে র্যাবের মুখপাত্র বলেন, ‘কাল রাতে (বুধবার রাত) সাময়িক বিরতি দিয়ে আজ সকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে আবারও অভিযান চলছে। কার্টনে রাখা আইইডি ছাড়াও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস পেয়েছি। সঙ্গে কিছু ধারালো অস্ত্রও পাওয়া গেছে।’ তবে অভিযান এখনও শেষ হয়নি। আরও সময় লাগবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে জঙ্গি আস্তানায় ৭ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় দারুস সালাম থানায় মামলা হয়েছে। বুধবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে র্যাবের ডেপুটি সহকারী পরিচালক তারেক বাদী হয়ে মামলা করেছেন। দারুস সালাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুকুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। অভিযান শেষে হয়তো মূল মামলা দায়ের করা হবে।’
দারুস সালাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফারুকুল আলম আরও জানান, জঙ্গি আস্তানা’র গলি থেকে নিখোঁজ দুই যুবকের মধ্যে এক জনকে পাওয়া গেছে। সোমবার থেকে নিখোঁজ থাকা নৈশ প্রহরী সিরাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। ওই বাড়ির মালিক হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঘটনার দিন থেকে জঙ্গি আস্তানা’র গলির নাইট গার্ড সিরাজুল ইসলাম (২৫)নিখোঁজ রয়েছেন বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল।
নিখোঁজ সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা বেগম বলেছিলেন, প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে ভোর ৫ টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতেন তার স্বামী সিরাজুল ইসলাম। ডিউটি শেষে তিনি সকাল ৬টার দিকে বাসায় যেতেন। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে তিনি বাসায় ফেরেননি। এমনকি কোথায় আছেন তাও কিছু জানাননি। তার ফোন নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।







