বিলের টাকা ছাড় পেলেও সেই নবজাতকের সুচিকিৎসা অনিশ্চিত

রাফসান জানি
০৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ২২:২৭আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৭, ২২:৩৬

কেয়ার হাসপাতালের ছাড়পত্র বিল পরিশোধ করতে না পারায় এক রিকশাচালকের নবজাতককে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কেয়ার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনে সংবাদ প্রকাশের পর অন্য হাসপাতালে উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা ও বিলের টাকা মওকুফ করে নবজাতককে ছাড়পত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় কেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শনিবার (৯ ডিসেম্বর) বিল বাবদ টাকা বাদ দিয়ে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও অসুস্থ নবজাতকের উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। গুরুতর বিভিন্ন সমস্যায় ভোগা শিশুটির জরুরিভিত্তিতে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস (ভেন্টিলেশন) ব্যবস্থা প্রয়োজন। কিন্তু সে ব্যবস্থা না করায় ঝুঁকির মুখে রয়েছে ছয় দিন বয়সী শিশুটি।

ঢাকা শিশু হাসপাতালে ভর্তির ফরম গত ৩ ডিসেম্বর রিকশাচালক বেলাল হোসেনের স্ত্রী একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেন। এর পরপরই শ্বাসকষ্টসহ বেশকিছু সমস্যা দেখা দিলে শিশুটিকে প্রথমে ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও পরে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান বেলাল হোসেন। কিন্তু কোথাও চিকিৎসা না পেয়ে এক দালালের আশ্বাসে কেয়ার হাসপাতালে তাকে ভর্তি করান তিনি। দালাল সেখানে স্বল্পখরচে সুচিকিৎসার আশ্বাস দেয়। ৩ ডিসেম্বর বিকালে নবজাতকটিকে কেয়ার হাসপাতালের এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শুরু দুদিন পর বেলাল জানতে পারেন তাদের বিল হয়েছে অর্ধলক্ষাধিক টাকার বেশি। টাকার অংক শোনে বেলাল হোসেন উদ্ভ্রান্তের মতো হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় হাসপাতালেও ফিরতে পারছিলেন না তিনি। এরইমধ্যে বেলালের স্ত্রী মুন্নীকে হাসপাতালের লোকজন হুমকি দেয়, টাকা দিতে না পারলে ছেলেকে বিক্রি করে হলেও বিলের টাকা নেওয়া হবে। এ হুমকিতে আতঙ্কিত মুন্নী বেগম স্বামীকে খুঁজতে বের হন। এরপর দুদিন উদ্বিগ্ন দম্পতি নবজাতকটিকে হাসপাতালে ফেলে রেখে থেকে পালিয়ে বেড়ান।

এ নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনে গত ৮ ডিসেম্বর বিলের টাকার জন্য নবজাতককে হাসপাতালে আটকে রাখার অভিযোগ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপরই নড়েচড়ে বসে কেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শনিবার হাসপাতাল থেকে জানানো হয়, শিশুটিকে তারা ভেন্টিলেশন সুবিধাসহ চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থা করে শিশু হাসপাতালে ট্রান্সফার করবে। একইসঙ্গে ৩ থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত আসা বিলের ৮৪ হাজার টাকা ও ডাক্তার বিল ১২ হাজার টাকা ছাড় দেবে। অভিভাবকের আর্থিক সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করে তারা এ ছাড় দিচ্ছে। কেয়ার হাসপাতাল থেকে দেওয়া ছাড়পত্রে দেখা গেছে, ৩ থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালের বিল এসেছে ৮৪ হাজার ৩৭৫ টাকা। এছাড়া, চিকিৎসক বিল এসেছে ১২ হাজার টাকা। মোট বিল ৯৬ হাজার ৩৭৫ টাকা।

পরে বিল মওকুফ করে নবজাতককে ছাড়পত্র দিয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ঢাকা শিশু হাসপাতালে পাঠানো হয়। কেয়ার মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটালের নবজাতক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম মোরশেদ সুমন বলেন, ‘আমরা পেশেন্টের পরিবারের আর্থিক সমস্যার কারণে তার বকেয়া বিল ছাড় দিয়েছি। এছাড়া, তার চিকিৎসার যাতে কোনও ঘাটতি না হয়, সেজন্য শিশু হাসপাতালে সব ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

কিন্তু ওই হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে শিশুটিকে ভর্তি করা হয়েছে নন-পেয়িং বেডে। যেখানে এই শিশুর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। সেখানে তাকে সাময়িক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ভেন্টিলেশনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য তাকে রাখতে হবে কেবিনে। 

শিশু হাসপাতালের এনআইসিইউয়ের ইনচার্জ ড. ইয়ামিন বলেন, ‘শিশুটির জন্য এখন প্রয়োজন ভ্যান্টিলেশন (কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস যন্ত্র)। এছাড়া, আরও অনেকগুলো সমস্যা রয়েছে। যার চিকিৎসা নন-পেয়িং বেডে সম্ভব নয়। তারপরও আমরা শিশুটির শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সাময়িক চিকিৎসা দিচ্ছি। আমাদের এখানে ভ্যান্টিলেশনের জন্য প্রতিদিন ছয় হাজার টাকা প্রয়োজন।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিশু হাসপাতালে আরেকজন চিকিৎসক বলেন, শিশুটির জন্য জরুরিভিত্তিতে যথার্থ চিকিৎসা প্রয়োজন। যা নন-পেয়িং বেডে সম্ভব নয়। আমাদের হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি এজন্য সুপারিশ করে, তাহলেই এখানে শিশুটির সঠিক চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব।’ শিশুটির জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

শিশু হাসপাতালে এই পরিস্থিতি দেখার পর কেয়ার হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম মোরশেদ সুমনকে একাধিকার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

 

 

/এএম/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে
নৌবাহিনী পরিচালিত ডকইয়ার্ডে নির্মিত ফ্লোটিং ক্রেন যুক্ত হলো নৌবহরে
জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী
জিয়াউর রহমানের আদর্শ গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ দেখায়: আইনমন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের