মাদকের বিরুদ্ধে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রামে’ নামছেন সাঈদ খোকন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:২৭আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:৪২

করপোরেশন সভায় ডিএসসিসি মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া ও অন্যান্যরা (ছবি: শাহেদ শফিক) রাজধানীতে মাদকের ব্যাপকতা মাত্রাতিরিক্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। বুধবার (২৪ জানুয়ারি) নগর ভবনে ১২তম করপোরেশন সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। সেখানে সভাপতি ছিলেন ডিএসসিসি মেয়র।

মেয়র জানান, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই সপ্তাহ মাদকের বিরুদ্ধে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম করবে ডিএসসিসি। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডের চিহ্নিত মাদক স্পটসহ ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের তালিকা করা হবে। এর পরের এক সপ্তাহের মধ্যে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও কাউন্সিলরকে তা দেওয়ার অনুরোধ জানান সাঈদ খোকন।

সভায় মাদকবিরোধী ক্র্যাশ প্রোগ্রামে সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেন, ‘দেশে এখন জাতীয় দুটি সমস্যা। একটি হলো জঙ্গি, অন্যটি মাদক। সীমান্ত দিয়ে দেশে আসছে মাদক। সেই মাদক রাজধানীতে আসছে অনেক ধাপ পেরিয়ে। ঢাকায় মাদক আসার আগে তা রোধ করার ব্যাপারেই বেশি সচেতন হতে হবে।’

ডিএমপি কমিশনারের ভাষ্য, ‘মাদকের ভয়াবহতার বিষয়ে সরকারি, বেসরকারি ও এনজিওগুলোকে প্রচারণা চালাতে হবে, যেন ব্যাপকভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পায়। একইসঙ্গে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাহলে মাদক থেকে আমাদের মুক্তি মিলতে পারে।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে মেয়র সাঈদ খোকন মাদক নিয়ন্ত্রণ ও রাজধানীতে যানজট নিরসনের বিষয়ে আলোচনা সভায় গুরুত্বরোপ করেন ও এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাজ করার আহ্বান জানান। এ প্রসঙ্গে বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন লালবাগ জোনের ডিসি ইব্রাহীম। তার কথায়, ‘মাদক ব্যবসায়ীরা ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের মাধ্যমে আইনের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। এ কারণে বারবার অভিযান চালিয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না।’

মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা পাওয়ার বিষয়ে সুপারিশ রেখেছেন লালবাগ জোনের ডিসি। তিনি বলেন, ‘মাদক নিরাময় কেন্দ্রের নেতৃত্বে সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলদের সঙ্গে নিয়ে আইনজীবী ও বিচারপতিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠনের মাধ্যমে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালানো উচিত।’

এ প্রসঙ্গে মাদক নিরাময় বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. অরুপ রতন চৌধুরীর পরামর্শ, ‘ছেলেদের তুলনায় বর্তমানে মেয়েরা ইয়াবায় বেশি আসক্ত হয়ে পড়েছে। এখন মেয়েদের দিকে বেশি নজর দিতে হবে। একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি দু’জনকে মাদকাসক্ত করে তোলে। আর মাদকসেবন হলো একটি রোগ। শুধু আটক করে নয়, চিকিৎসার মাধ্যমে মাদক নিরাময় করতে হবে।’

সভায় আরও ছিলেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বেলালসহ কাউন্সিলররা।

/এসএস/জেএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
শেষ মুহূর্তেও একে অপরকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলেন তারা
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
ছোট ছেলে শ্বশুরবাড়ি, বড় ছেলের ঘরের মেঝে খুঁড়ে মায়ের লাশ উদ্ধার
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
‘শাহজালালে হাজিদের লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ সঠিক নয়’
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
৩০০ ফিটে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় চীনা নাগরিকের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের