নেপালে ইউএস-বাংলা বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ল্যাবে ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিয়িক এসিড) পরীক্ষা করা হবে। নমুনা সংগ্রহ করতে এরই মধ্যে সিআইডি’র দুই বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা নেপালে গেছেন। এছাড়া নিহতদের স্বজনদেরও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে সিআইডি’র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শারমিন জাহান বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুস সালাম ও সহকারী ডিএনএ অ্যানালিস্ট আশরাফুল আলম বুধবার (১৪ মার্চ) নেপালে গেছেন। তারা মরদেহের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে আসবেন। এরপর সেগুলোর পরীক্ষা আমাদের ল্যাবে হবে।’
সিআইডির ডিএনএ ল্যাবের এক কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেহেতু নেপালে ঘটনা ঘটেছে তাই আমরা ইচ্ছা করলেই নমুনা সংগ্রহ করতে পারবো না। এজন্য নেপালের অনুমতি ও সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। তাদের অনুমতি নিয়েই ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে আসা হবে। এরপর সেগুলো আমরা পরীক্ষা করবো। নমুনা সংগ্রহের জন্য সব প্রস্তুতি নিয়েই আমাদের টিম সেখানে গেছে। তারা আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।’
তিনি বলেন, ‘নিহত বাংলাদেশিদের স্বজনের ডিএনএ নমুনা সিআইডি সংগ্রহ করবে এবং তাও পরীক্ষা করে নেপালে পাঠানো হবে। আর নেপাল যদি মনে করে তারা স্বজনদেরও ডিএনএ নমুনা নেবে, তাহলে সে বিষয়টিও ভাবা হবে। দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’
সিআইডি’র ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের বিশেষজ্ঞরা আগে বডিগুলো দেখবেন। তারপর নেপালের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলবেন। যেসব বডি খালি চোখে শনাক্ত করা যাবে সেগুলো একটি ক্যাটাগরি করা হবে। আর যেগুলো করা যাবে না, সেগুলো একটি ক্যাটাগরি হবে। তবে অনুমান করে মরদেহ হস্তান্তরের কোনও সুযোগ নেই।’
১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস বাংলার একটি বিমান ৬৭ যাত্রী ও চারজন ক্রু নিয়ে বিধ্বস্ত হয়। এতে ৫১ জন নিহত হন। এর মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি। এছাড়া, আহত ১০ বাংলাদেশি নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনায় যেসব মরদেহ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় শনাক্ত করা যাবে না, তাদের প্রত্যেকের ডিএনএ পরীক্ষার পর স্বজনদের কাছে তা হস্তান্তর করা হবে। মরদেহ শনাক্ত করা নিয়ে জটিলতা দেখা দেওয়ায় দুই দেশ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ থেকে ৯ সদস্যের মেডিক্যাল টিমের মধ্যে ৬ জন নেপালে গেছেন। পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতায় বাকি তিনজন যেতে পারেননি। তারা পরে যাবেন।
এখন পর্যন্ত আটজনের মৃতদেহ শনাক্ত করা গেছে। তবে ঘটনার চারদিন পরও কোনও মরদেহ স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, পরিচয় নিয়ে কোনও সন্দেহ থাকলে মরদেহ হস্তান্তরে ডিএনএ টেস্ট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এজন্য নেপাল থেকে বলা হয়েছে, প্রত্যেকের পরিচয় নিশ্চিত হয়েই লাশ হস্তান্তর করা হবে।
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এ সাক্ষাৎকারে ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতালের ফরেনসিক ডিপার্টমেন্ট প্রধান ড. প্রমোদ শ্রেষ্ঠ বলেছেন, পরিচয় সুনিশ্চিত হয়েই তারা মরদেহ হস্তান্তর করতে চান। ইতিমধ্যে ৩০টি মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। এদের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত, ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও পরিচয় জানতে চারটি বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। এর মধ্যে দুটি দল ময়নাতদন্ত করছে। একটি দল মরদেহের নানা নমুনা নিয়ে সেখান থেকে পরিচয় জানার চেষ্টা করছে। আর অন্যটি পরিবারের স্বজনদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে।
এই চারটি দল সম্মিলিতভাবে একটি মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজটি করবে। এজন্যই নিহতদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে।








