দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকায় প্রকাশিত ‘জ্যোতির্ময় জিয়া’ শিরোনামের কলামে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি ও ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে—এমন অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানের শাস্তি দাবি করেছে ছাত্রলীগ। কলামটি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোমবার (২৬ মার্চ) প্রকাশিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে ছাত্রলীগ আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে মোর্শেদ হাসান খানের শাস্তির দাবি জানানো হয়।
তবে হাসান মোর্শেদ খান এ ব্যাপারে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘এটা আমার অসচেতনতার কারণে হয়েছে। আমি ইচ্ছাকৃতভাবে এটা লিখিনি। আমি এ বিষয়ে আর বাড়াবাড়ি করতে চাই না। এ লেখার জন্য আমি দুঃখিত।’
ছাত্রলীগ হাসান মোর্শেদ খানের শাস্তির দাবিতে সমাবেশ করার আগে বিক্ষোভ মিছিলও করেছে। মিছিলটি মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এ সময় ‘মোর্শেদের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে', ‘জামাত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়' স্লোগান দেয় মিছিলে অংশ নেওয়া ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ যে ভাষণ দিয়েছিলেন, সেই ভাষণ দিয়ে স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তার নেতৃত্বেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছিলাম। কিন্তু জাতির জনককে নিয়ে কটূক্তি করে মোর্শেদ হাসান খান যে সাহস দেখিয়েছেন, আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তাকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি।’
ছাত্রলীগের এই নেতা বলেন, ‘প্রশাসনকে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে, অথবা তাকে নিজ থেকে পদত্যাগ করতে হবে। নতুবা ছাত্রলীগ জানে কীভাবে দাবি আদায় করতে হয়। আমরা শাস্তির দাবি জানিয়ে আগামীকাল বুধবার (২৮ মার্চ) বেলা ১১টায় উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেবো।’
সমাবেশের পর মোর্শেদ হাসানের কুশপুতুল এবং নয়া দিগন্ত পত্রিকা পোড়ানো হয়।
সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্সসহ বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীরা।







