অপ্রয়োজনীয় সিজার নিয়ন্ত্রণের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১১ মে ২০১৮, ০৪:৪৫আপডেট : ১১ মে ২০১৮, ০৫:৫০

আলোচনা সভা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে একটি দেশে সিজারিয়ান অপারেশনের হার হবে মোট প্রসবের ১০ থেকে ১৫ ভাগ। অথচ ২০১৬ সালের হিসেবে বাংলাদেশে এই হার ৩১ ভাগ। ২০১০ সালে এই হার ছিল ১৯ ভাগ। সিজারিয়ান অপারেশনের এই হার বৃদ্ধিকে উদ্বেগজনক বলছেন বিশেষজ্ঞরা।  এই ধারা বন্ধে আশু পদক্ষেপের নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।


বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদফতর মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। সেভ দ্য চিল্ড্রেন ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের যৌথ আয়োজনে এই সভায় বক্তারা জানা দেশের প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে সিজারিয়ান অপারেশনের হার অনেক বেশি। সেখানে মোট প্রসবের শতকরা ৮৩ ভাগ সিজারিয়ান অপারেশন। অথচ সরকারি হাসপাতালে তা ৩৫ ভাগ।

 সভায় সেভ দ্য চিলড্রেনের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর ডক্টর ইশতিয়াক মান্নান বলেন, বাংলাদেশে সিজারিয়ান পরিস্থিতি সত্যিই উদ্বেগজনক। এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, সিজারিয়ান অপারেশনের বিষয়টি সেবা গ্রহীতার পছন্দের উপর ছেড়ে দিলে চলবে না, তাকে প্রয়োজনীয় সব তথ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে হবে।  


আইসিডিআরবি’র শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডক্টর শামস আল আরেফীন বলেন, সিজারিয়ান অপারেশনের ভালো ও মন্দ দিকগুলো সেবা গ্রহীতাকে বুঝিয়ে বলতে হবে। 

 

ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের ড. সেলিনা আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রশিক্ষিত দাইয়ের অভাব রয়েছে। এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে তা স্বাভাবিক প্রসবে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি গর্ভবতীদের সেবার জন্য এখন ডাক্তারদের উপর যে চাপ রয়েছে তা লাঘবেও ভূমিকা রাখতে পারে।’


গাইনোকলজি এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রফেসর লায়লা আর্জুমান বানু বলেন, আমরা সিজারিয়ান অপারেশনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান পালন ও তা মনিটরিংয়ের জন্য ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে দিক-নির্দেশনা  দিয়েছি।

 

আলোচনা সভায় বিশেষজ্ঞরা সাত দফা সুপারিশ পেশ করেন। দফাগুলো হচ্ছে - সিজারিয়ান অপারেশন সংক্রান্তবিধি-বিধানের যথাযথ প্রয়োগ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, স্বাভাবিক প্রসব-সংক্রান্ত বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি, স্বাভাবিক প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং জনবল তৈরি। সভায় নীতিনির্ধারকদের কাছে পাঠানোর জন্য একটি খসড়া কর্মপরিকল্পনা করা  হয়।


অংশীজনদের নিয়ে এ সংক্রান্ত একটি ক্যাম্পেইন গত এক বছর ধরে চলছে যার উদ্দেশ্য হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরী। সিজারিয়ান অপারেশন সংক্রান্ত নতুন বিধি-বিধান তৈরী, জবাবদিহীতার পরিবেশ সৃষ্টি ও মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়ানো ক্যাম্পেইনের প্রধান লক্ষ্য।


/টিওয়াই/জেজে/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএসইসি’র নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান, নিয়োগ পেলেন তিন কমিশনার
বিএসইসি’র নতুন চেয়ারম্যান মাসুদ খান, নিয়োগ পেলেন তিন কমিশনার
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের বিজয়ে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের বিজয়ে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
ডেঙ্গুর চরম ঝুঁকিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২৭টি ওয়ার্ড
ডেঙ্গুর চরম ঝুঁকিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২৭টি ওয়ার্ড
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের