জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার খালাস চেয়ে করা আপিলের শুনানি পিছিয়ে আগামী ১২ জুলাই দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট।
খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে সোমবার (৯ জুলাই) বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আপিল শুনানির নতুন দিন ধার্য করেন।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সিনিয়র অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন শুনানি করেন। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান।
আপিল বিভাগ গত ১৬ মে এক আদেশে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার আপিলের বিচার সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই আদেশ (রিভিউ) পুনর্বিবেচনার জন্য খালেদা জিয়ার করা রিভিউ আবেদনের ওপর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগে সোমবার সকালে (৯ জুলাই) শুনানি হয়।
এরপর হাইকোর্টে সোমবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী আপিল শুনানি করতে সময়ের আবেদন করেন। তিনি আদালতকে বলেন, আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদনের ওপর আদেশ হবে ১২ জুলাই। এ পর্যন্ত আপিল শুনানি করা ঠিক হবে না। আমরা আপিল শুনানির বিপক্ষে নই। আপিলের পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে যা হওয়ার তাই হবে। এই মামলায় ৩১ জুলাই পর্যন্ত বেঁধে দেওয়া সময় যদি ঠিক থাকে, তাহলে এক গতিতে শুনানি করতে হবে। আর যদি এই বাধা না থাকে তাহলে আরেক গতিতে শুনানি করতে হবে। তাই আপিল বিভাগের আদেশ পর্যন্ত সময় দেওয়া হোক।
এই আবেদনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা এবং দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, আপিল বিভাগে রিভিউ আবেদন করা হলেও কোনো স্থগিতাদেশ নেই। আপিলের শুনানি শুরু করতে তাদেরও আপত্তি নেই। তারা বলেন, এই মামলায় পেপারবুক অনেক বড়। শুনানি করতে অনেক সময় লাগবে। তাই এখনই শুনানি শুরু করা হোক।
এসময় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত শরফুদ্দিন আহমেদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসান উল্লাহ বলেন, খালেদা জিয়ার আপিল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ রয়েছে। এই আদেশ অন্য আপিলকারীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য কীনা তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। কারণ, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করতে হলে আমাদের হাতে সময় থাকছে না। এ কারণে দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে শুনানি করতে হবে। আর তা যদি না হয় তবে আমাদের হাতে সময় থাকছে।
জবাবে আদালত বলেন, যেহেতু সব আপিলগুলোই একসঙ্গে শুনানি করতে বলা হয়েছে, তাই সবার ক্ষেত্রেই একই আদেশ বলে মনে করি। এই কথা শোনার পর আইনজীবী আহসান উল্লাহ বলেন, তাহলে তো আমাদের হাতে সময় কম। আমরা সময় পাচ্ছি না। তাই আমরা শুনানি শুরু করতে চাই।
এ সময় আদালত বলেন, গত সপ্তাহে যদি শুনানি শুরু করতে পারতাম তাহলে আমরা ফাইভ-জি গতিতে শুনানি করতে পারতাম। কিন্তু তা না হওয়ায় এখন হয়েতো এইট-জি গতিতে শুনতে হবে।
শরফুদ্দিন আহমেদের আইনজীবীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, পুরো মামলা একসঙ্গে শুনানি করাই যথাযথ হবে।
অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা বলেন, একজন শুনানি করতে চাইলে অন্যজনতো বাধা দিতে পারে না। এটা করার অধিকার তো কারও নেই। তাই শুনানি শুরু করা হোক।
এরপর খালেদা জিয়ার জামিনের সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন জানান এজে মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পর তা স্থগিত করে দিলেন আপিল বিভাগ। এরপর জামিন বহাল রাখলেন। কিন্তু আদেশে স্বাক্ষর করতে সময় নিলেন একমাস। ফলে জামিন নিয়েও লাভ হলো না। জামিনের বিষয়টি ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। জামিন আদেশ হাতে রয়েছে। সেটা দেখছিও। কিন্তু সেটা আবার নেই। আপিল বিভাগের কারণেই এটা শেষ হয়ে গেলো। এটা যেন মরীচিকার মতো। এই দেখছি, আবার নেই। তাই জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানাচ্ছি।
জবাবে আদালত বলেন, এবিষয়ে আগামী ১২ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টায় শুনানি শুরু হবে। কোনও পক্ষ থাকুক, আর নাই থাকুক ওইদিন শুনানি শুরু করা হবে। এছাড়াও খালেদা জিয়ার জামিন বাড়ানোর বিষয়ে হাইকোর্টে ১২ জুলাই আদেশ দেওয়া হবে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা থেকে খালাস চেয়ে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আপিলসহ চারটি আবেদনের ওপর শুনানির জন্য গত ৮ জুলাই দিন ধার্য রেখেছিলেন হাইকোর্ট। এরপর খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি পিছিয়ে আজ সোমবার (৯ জুলাই) দিন নির্ধারণ করেছিলেন হাইকোর্ট।
কিন্তু পুনরায় সময় আবেদন করায় খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি পিছিয়ে আগামী ১২ জুলাই শুনানির নতুন দিন নির্ধারণ করেন হাইকোর্ট। খালেদা জিয়া আপিল ছাড়াও এ মামলা শুনানির অপেক্ষায় থাকা আরও তিনটি আবেদন হলো- খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে করা দুদকের আবেদন (রিভিশন), একই মামলার দশ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি কাজী সলিমুল হক কামাল এবং ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমদের করা পৃথক দুটি আপিল।
প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেন বিচারিক আদালত। রায় ঘোষণার পরপরই খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন সেখানেই আছেন।








